খুঁজুন
, ,

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কর্ণফুলী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 9:25 am
দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে কর্ণফুলী

একসময় চট্টগ্রামের প্রাণ হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদী আজ দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত শিল্পায়নের চাপে ক্রমেই প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। যে নদীকে ঘিরে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ ঘটেছে, সেই নদীতেই এখন প্রতিদিন বিনা বাধায় ফেলা হচ্ছে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য, নগরের পয়োবর্জ্য, প্লাস্টিক-পলিথিন, গৃহস্থালির কঠিন বর্জ্য এবং কৃষিতে ব্যবহূত বিভিন্ন রাসায়নিক। দীর্ঘদিনের এই অনিয়ন্ত্রিত দূষণে কর্ণফুলীর পানি, তলদেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষাও সেই উদ্বেগকেই আরো স্পষ্ট করেছে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সমীক্ষা অনুযায়ী, কর্ণফুলী নদীর ৭৯টি স্থানে দূষণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭৭টি স্থানেই দূষণের মাত্রা ভয়াবহ। শুধু চট্টগ্রাম নগরীতেই ২৩টি স্থান দিয়ে দূষণকারী বর্জ্য নদীতে পড়ছে। নগরের ১৯টি খাল এখন কার্যত শিল্প ও গৃহস্থালির বর্জ্য বহনের নালায় পরিণত হয়েছে। এসব খাল দিয়ে প্রতিদিন ডায়িং কারখানা, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তরল ও কঠিন বর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলীতে গিয়ে মিশছে। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী উপজেলা জুড়েও।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে, কর্ণফুলী উপজেলার নদী তীরে গড়ে ওঠা সিমেন্ট কারখানা, তেল শোধনাগার, চিনি শিল্প, ফিশিং কমপ্লেক্স, বিদ্যুেকন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্প থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। নগরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, ডায়িং কারখানা, তেলের ডিপো, সার কারখানা এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য ড্রেন ও খালের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। কৃষিজমিতে ব্যবহূত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারও বৃষ্টির পানি ও খালের মাধ্যমে নদীতে মিশে দূষণের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্য উদ্ধৃত করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি লিটার স্যুয়ারেজ বর্জ্য উত্পন্ন হয়। কার্যকর স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় এর অধিকাংশই কোনো ধরনের পরিশোধন ছাড়াই কর্ণফুলীতে গিয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে বিভিন্ন শিল্পকারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য। পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০১৬ সালের জরিপেও উল্লেখ করা হয়েছিল, প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি লিটার গৃহস্থালি ও পয়োবর্জ্য নদীতে পতিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে দূষিত বর্জ্য জমতে জমতে নদীর পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, কমছে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ এবং ধীরে ধীরে ধ্বংস হচ্ছে নদীর প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র।

কর্ণফুলীর আরেকটি বড় সংকট হয়ে উঠেছে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ। রাউজান থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তর জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য নগরী থেকে বিভিন্ন খাল ও নালার মাধ্যমে কর্ণফুলীতে এসে পড়ে। গবেষণা সংস্থা সিপিডির এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের উপকূলীয় নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৯ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। এই প্লাস্টিক নদীর তলদেশে জমে শুধু নাব্যতা কমাচ্ছে না, মাছ, জলজ উদ্ভিদ এবং অন্যান্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্রও ব্যাহত করছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নদী ড্রেজিং করতে গিয়ে নদীর তলদেশে দুই থেকে তিন মিটার পুরু পলিথিন ও প্লাস্টিকের স্তর পাওয়া গেছে। ড্রেজারের পাইপে বারবার প্লাস্টিক আটকে যাওয়ায় স্বাভাবিক খনন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীর তলদেশে এভাবে প্লাস্টিক জমতে থাকলে ভবিষ্যতে নাব্যতা রক্ষা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

সরেজমিনে শাহ আমানত সেতু, চাক্তাই ও রাজাখালী খাল এলাকায় দেখা গেছে, নদীর তীর জুড়ে ছড়িয়ে আছে পলিথিন, প্লাস্টিক ও নানা ধরনের কঠিন বর্জ্য। কোথাও কোথাও বর্জ্য জমে পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। চাক্তাই ও রাজাখালী খাল দিয়ে প্রবাহিত কালো, দুর্গন্ধযুক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত পানি সরাসরি কর্ণফুলীতে গিয়ে পড়ছে। একই চিত্র বোয়ালখালীর কালুরঘাট, শিকলবাহা, গোমদণ্ডী, শাকপুরা, পতেঙ্গা, কর্ণফুলী উপজেলা এবং নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকাতেও দেখা যায়। বিভিন্ন শিল্পকারখানার বর্জ্য খাল ও ড্রেনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রামের প্রাণ কর্ণফুলী নদী আজ দখলে দূষণে বিপর্যস্ত। নদীর তীর দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যার কারণে কর্ণফুলী ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন ৩৭টি খাল দিয়ে নগরীর কয়েক হাজার টন প্লাস্টিক, পলিথিন ও মানবসৃষ্ট বর্জ্য নদীতে এসে পড়ছে। এতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে জীববৈচিত্রকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে। তাই কর্ণফুলীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং নদীকে জীবন্ত রাখা দেশের সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়া এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

Feb2
Feb2

নতুন সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 9:38 am
নতুন সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অভিনেতা জয় চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপুর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন জানায়, সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে এবার ৪৮০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু হয়। দীর্ঘ গণনা প্রক্রিয়া শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং শনিবার ভোরে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জয় চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

এবারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসিপাড়া ছিল উৎসবমুখর। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল—আরমান–মুক্তি পরিষদ এবং শিবা শানু–জয় চৌধুরী পরিষদ। প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল পরিচিতি ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সরগরম ছিল পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গন।

কেপ ভার্দের কঠিন পরীক্ষায় পাস করে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 8:03 am
কেপ ভার্দের কঠিন পরীক্ষায় পাস করে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

অবিশ্বাস্য, নাটকীয় এবং সম্ভবত বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর খেলা উপহার দিলো আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের নবাগত দেশটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শেষ মিনিট পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। ১২০ মিনিটে ৫ গোলের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে আর্জেন্টিনা (৩-২)। কেপ ভার্দেকে কি পরাজিত বলা চলে? বিশ্বফুটবলে নিজেদের নামটি স্মরণীয় করে রাখতে যা করা দরকার কেপ ভার্দে সবটুকুই করেছে!

ম্যাচের পরতে পরতে টানটান উত্তেজনা, লড়াকু ও আত্মবিশ্বাসের অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখাল দুই দল। আর্জেন্টিনা ওই পথ পেরিয়েই তো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জিতেছে। কিন্তু কেপ ভার্দে কীভাবে-কোথা থেকে এত প্রেরণা সঞ্চার করল? অবশ্য প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই স্পেন ও উরুগুয়েকে সমতায় আটকে রাখাই তো কম প্রেরণাদায়ক নয়!

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিল কেপ ভার্দে। ২৮তম মিনিটে প্রায় নিজেদের অর্ধ থেকে নিখুঁত এক পাস বাড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসির দৌড়ে যাওয়ার লাইনেই ছিল সেই বল। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ৭ গজ দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি। সেই জোরালো শট কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।

এর আগে বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ সপ্তম ম্যাচে গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন মেসি। এবার অষ্টম ম্যাচেও গোল পেলেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই গোলদাতা। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাকে মেসি ২০-এ নিয়ে গেলেন। নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে তুঙ্গে থাকা ফর্ম দিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্ষত-বিক্ষত করে চলছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ছন্দ হারাতেই সুযোগটা নিয়েছে কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে তারা ডেরয় দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ পরিণত করেছে। রায়ান মেন্দেস ডান প্রান্ত দিয়ে বল বাড়ালে দুয়ার্তে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে দুর্দান্ত এক শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান। আর্জেন্টিনার লিড নেওয়া গোলে অ্যাসিস্ট করা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দ্রুত এগিয়ে এলেও দুয়ার্তেকে ঠেকাতে পারেননি।

৯০ মিনিটের আগপর্যন্ত সময়টাতে ছিল ভোজিনহার বীরত্বের গল্প। মেসির দুটি দারুণ ‍ফ্রি-কিক বাঁচিয়েছেন তিনি, আরও কয়েকটি দারুণ আক্রমণ পরাস্ত হয়েছে তার সামনে এসে। ফলে ১-১ স্কোরলাইন নিয়ে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। তবে বেশিক্ষণ আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। আলবিসেলেস্তেদের প্রথম গোলেও বলের যোগান দিয়েছিলেন লিসান্দ্রো। নিজেদের রক্ষণ থেকে তিনি নিঁখুত পাস দিয়েছিলেন। দল যখন লিড পেতে মরিয়া ছিল, আবারও দৃশ্যপটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্টারব্যাক।

৯১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল আরেকজনের স্পর্শ পেয়ে একপাশে ফাঁকায় থাকা লিসান্দ্রো পেয়ে যান। হয়তো ধারণা ছিল তিনি ক্রস করবেন, কিন্তু তা না করে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে জাল কাঁপিয়েছেন। ১০৩ মিনিটে সেই গোল শোধ করেছেন কেপ ভার্দের সিডনি ক্যাব্রাল। বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে তিনি ভেতরের দিকে কাট করেন। ফিরতি বল পেয়ে ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট নিয়েই যেন অবাক করা দৃশ্যের জন্ম দিলেন ক্যাব্রাল। হয়তো বলটি এভাবে ফাঁকি দেবে ধারণাও ছিল না এমি মার্টিনেজের।

আর্জেন্টিনাকে আবারও লিড পেতে অপেক্ষা করতে হলো ৮ মিনিট। মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার পেয়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেড দেন, বল জালে জড়িয়ে যাওয়ার আগে সেটি কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার হাতে লেগেছে। ফলে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে আর্জেন্টিনা লিড পায় ৩-২ ব্যবধানে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনাও স্বস্তিতে ছিল না। আক্রমণ এবং রক্ষণ দু’দিকেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। শেষমেষ রেফারির শেষ বাঁশিই যেন স্কালোনি শিষ্যদের হাফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ এনে দিলো!

টাইব্রেকারে জিতে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিসর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 5:48 am
টাইব্রেকারে জিতে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিসর

১৯৩৪ বিশ্বকাপেই কেবল নকআউটে খেলেছিল মিসর। যদিও ওই আসরই ছিল সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে, যেখানে হাঙ্গেরির কাছে হেরে তাদের যাত্রা শেষ হয়। ৯২ বছর পর চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে ‍উঠেই মোহামেদ সালাহ’র দল ইতিহাস গড়েছিল। এবার টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলোয় উঠল মিসর।

অস্ট্রেলিয়া নকআউটে প্রথম জয়ের অপেক্ষায় নেমেছিল টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে। ভাগ্যের ছোঁয়ায় তারা ম্যাচে সমতাও টেনেছিল। ৫৫ মিনিটে ১-১ সমতা হয় স্কোরলাইনে। তবে ৯০ মিনিটের বাকি সময় এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১২০ মিনিটেও তাতে আর কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি কেউই। এরপর সকারুজদের হৃদয় ভেঙে মিসর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলো।

অস্ট্রেলিয়া টাইব্রেকারের শুরুটাই করেছে মিস দিয়ে, হ্যারি শুটারের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর তাদের চতুর্থ শট নেওয়া লুকাস হেরিংটনও ভুলে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন। বিপরীতে মিসরের পক্ষে শট নেওয়া চারজনই (মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহামেদ সালাহ ও আবদেল মাজিদ) জালে জড়িয়েছেন বল। ফলে আর পঞ্চম শট নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। জয় নিশ্চিত হয় ৪-২ ব্যবধানে।

ম্যাচজুড়েই অবশ্য আধিপত্য ছিল মিসরের। ৫৮ শতাংশ পজেশন রাখা সালাহ’র দল ১৪ শটের মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে সকারুজদের ১৬ শটের স্রেফ একটি লক্ষ্যে ছিল। এর আগে ম্যাচের ১৩ মিনিটে মিসর লিড পায় ইমান আশুরের দারুণ এক হেডে দেওয়া গোলে। আর ৫৫ মিনিটে মিসরের মোহাম্মদ হানির দেওয়া আত্মঘাতী গোলে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরে।

সাতবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হলেও মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছে মিসর। এ ছাড়া আগের তিন আসরে তারা কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি। সালাহ’র দল এবার নকআউট নিশ্চিত করে এক জয় ও দুই ড্রতে। শেষ ৩২–এর ম্যাচটিতে চোট থেকে ফিরেও নিজের মতো করে এই লিভারপুল ও মিসরীয় কিংবদন্তি একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছেন। আর বাকি সতীর্থরা তার চাপ কমাতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে সম্মিলিতভাবে। আগামী ৭ জুলাই আটালান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নামবে মিসর, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দে।

এ ছাড়া সালাহ টাইব্রেকারেও গোল করেছেন ঠান্ডা মাথার এক চিপ শটে। পরে গ্যালারিভর্তি দর্শকের সঙ্গে আনন্দের অশ্রুচোখে উল্লাসে মাতেন, আর মাথায় পরেন মিসরীয় ফারাও’র মুকুট। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে রাজ্যের হতাশা। নকআউটে তাদের প্রথম জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলো আরও চার বছরের জন্য।