খুঁজুন
, ,

লুঙ্গি পরে পুলিশের ‘দুঃসাহসী’ অভিযান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 January, 2020, 7:45 pm
লুঙ্গি পরে পুলিশের ‘দুঃসাহসী’ অভিযান

বিভিন্ন সময়ে অপরাধীদের ধরতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এসব কৌশল তারা সব সময়ই গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তবে আলোচিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে আসামিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমী কৌশল অবলমাবন করেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।

তেমনি একটি আলোচিত ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টা মামলা। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা ছিল। কারণ ঘটনার পরে এটিকে জঙ্গি হামলা হিসেবে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল। এ মামলার বেশ কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে আসলে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।

এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।তদন্তের শুরুর পরেই তারা ফরহাদ নামের এক আসামি গ্রেপ্তার করে। কিন্তু এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুলসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা ছিল তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

সে কারণে নাজমুলকে গ্রেপ্তারের বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত বুধবার দুপুরে উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এ সময় তার অন্য সহযোগী শেখ রনি (২৫),ফয়সাল কবির (২৬) ও মনির হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

লুঙ্গি পরা পুলিশি অভিযানে অবাক সবাই

পালতক নাজমুলকে গ্রেপ্তারের পিবিআই উত্তরের ছয় সদস্যদের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে যখন তারা আসামির হাতে হ্যান্ডকাপ পড়ায় তখন আসামিসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষরা অবাক হয়ে যায়। কারণ ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়া সবাই ছিলেন লুঙ্গি পরা ব্যক্তি।

সেই অভিযানে অংশ নেওয়া পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আলামিন শেখ। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযানের কৌশল হিসেবে আগে থেকেই লুঙ্গি পরে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলাম। তাই আসামি তো আমাদের উপস্থিতি টের পায় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আসামিকে যখন আমরা গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসি তখন উঁৎসুক অনেক মানুষ আমাদের দেখে নানা ধরনের মন্তব্য করছিলেন।’

আমার দুঃসাহসী দল-পিবিআই প্রধান বনজ কুমার

এই ঘটনার পরে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টে তিনি ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সকল লুঙ্গি পড়া পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের ছবিও দিয়েছেন। ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার দুঃসাহসী দল। (অভিযান পরবর্তী সময়) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলীর উত্তরার বাসায় ডাকাতির প্রচেষ্টায় ৭ জনের মধ্যে দলনেতাসহ পাঁচজনকে বাগেরহাট, ত্রিশাল, গাজীপুর ও ঢাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা সকলেই আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ-স্বীকারমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) দলের অভিযানকারী সদস্য ছিলেন যথাক্রমে (বাঁ থেকে) ইন্সপেক্টর জুয়েল মিয়া, ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলাম, সাব-ইন্সপেক্টর আল আমিন শেখ, ইন্সপেক্টর আশরাফুজ্জামান, সাব-ইন্সপেক্টর ফরিদ উদ্দিন ও ৬.কনস্টেবল সুযন মিয়া।’

ড. সারওয়ার আলী হত্যাচেষ্টা মামলার আদ্যোপান্ত

ড. সারওয়ার আলী হত্যাচেষ্টা মামলার পালতক আসামি নাজমুলসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কয়েকটি ডায়রি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে উগ্রবাদী কোনো লেখা পাওয়া যায়নি। মূলত ক্ষোভ থেকেই এই হামলা করা হয়। কারণ ২০১৭ সালে সারওয়ার আলীর স্ত্রীর গাড়ি চালিয়েছে নাজমুল। তার দাবি, তখন মানুষ হিসেবে প্রাপ্য সঠিক ব্যবহার পায়নি সে। ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করাকালীন ডা. সারওয়ার আলীর স্ত্রী ডা. মাখদুমা নার্গিস তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। এটি মানতে না পেরেই চাকরি ছেড়ে দেয় নাজমুল। চাকরি ছাড়ার পর থেকেই প্রতিশোধ নিতে নানা পরিকল্পনা করে সে।’

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার আরও বলেন, ‘মূলত এরপর থেকেই ডা. সারওয়ার আলীর পরিবারকে উচিত শিক্ষা দেয়া ও ভয় দেখিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে নাজমুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ জানুয়ারি রাতে উত্তরা-৭ নম্বর সেক্টরের বাড়িতে ঢুকে ডা. সারওয়ার আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যারচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। তবে বাসার লোকজন ও প্রতিবেশীদের তৎপরতায় তিনি এ যাত্রায় প্রাণে রক্ষা পান।পরে এই ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।’

পিবিআইর সূত্রে জানা যায়, আসামি নাজমুল ও ফরহাদসহ আরও কয়েক জন ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি রাজধানীর আশকোনা এলাকায় হজ ক্যাম্পের সামনে একটি হোটেলে নাস্তা করে ও হামলার পরিকল্পনা করে। ৫ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে আশকোনা এলাকার হোটেল রোজ ভ্যালির ৩০৩ নম্বর কক্ষে নাজমুলের নেতৃত্বে ওই ৭ দুর্বৃত্ত হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে।

ঘটনার মূলহোতা নাজমুল বাসার পরিবেশ, কক্ষ, পার্কিং প্লেস ইত্যাদি সম্পর্কে সবাইকে ব্রিফ করে এবং হামলার সময় কার কী ভূমিকা হবে তা বুঝিয়ে দেয়। নাজমুল অন্যদের জানায় যে, ডা. সারোয়ার আলীর বাসায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।

ঘটনার দিনে গত ৫ জানুয়ারি রাতে ১০টা ২০ মিনিটে ডা. সারওয়ার আলীর উত্তরার বাসায় স্ত্রী ডা. মাখদুমা নার্গিসসহ রাতের খাবার শেষে টিভি দেখছিলেন। এ সময় বাসার তৃতীয় তলায় বসবাসরত তাদের মেয়ে ডা. সায়মা আলীর বাসার দরজায় অজ্ঞাতনামা ২ দুর্বৃত্ত এসে কড়া নাড়ে। সায়মা দরজা খুলতেই ওই দুই দুর্বৃত্ত অতর্কিত ভেতরে সায়মা, তার স্বামী মো. হুমায়ুন কবির ও নাতনি অহনা কবিরের গলায় ছুরি ধরে। এর পর তাদের মধ্যে একজন তার মেয়েকে ছেড়ে দিয়ে চতুর্থ তলায় সারওয়ার আলীর বাসায় কড়া নাড়ে। তিনি দরজা খুলতেই জোর করে ঘরে ঢুকে সারওয়ার আলীকে মেঝেতে ফেলে গলায় ছুরি ধরে। ওই সময় তার স্ত্রী চিৎকার করলে তৃতীয় তলার অপর অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত চতুর্থ তলায় আসে। তার স্ত্রীর চিৎকার শুনে দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া মেজর (অব) সাহাবুদ্দিন চাকলাদার ও তার ছেলে মোবাশ্বের চাকলাদার ওরফে সজিব চতুর্থ তলায় আসে। সাহাবুদ্দিন চাকলাদার দুর্বৃত্তদের একজনকে জাপটে ধরে এবং তার ছেলে সজিব একটি গ্লাস হাতে নিয়ে অপর দুর্বৃত্তকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে। দুর্বৃত্তরা এ সময় দ্রুত বাসা থেকে পালিয়ে যায়। তখন পর ডা. সারওয়ার আলীর মেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিলে দ্রুত উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ গিয়ে দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া একটি মোবাইল সেট, সাতটি চাপাতি, সিমবিহীন একটি মোবাইল, আইপ্যাড, নাইলনের দড়িসহ বিভিন্ন মাল উদ্ধার করে।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।