খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ে ৩০ বছরের পুরনো রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 5 February, 2020, 5:46 pm
মিরসরাইয়ে ৩০ বছরের পুরনো রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই প্রতিনিধি::: মিরসরাইয়ে ৩০ বছররে পুরনো রাস্তা কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয় উত্তর হাসিম নগর এলাকাবাসি। অভিযুক্ত বলেছেন আমার জায়গা ৩০ বছর ব্যবহার করতে দিয়েছি এটা কি আমার অপরাধ?

গত ৩০ বছর ধরে চলাচল করা একটি জনবহুল রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। উপজেলার ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের হাসিমনগর এলাকার গোলাপ বিবি সড়কের সংযোগ রাস্তাটি কেটে ফেলায় ক্ষোভ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গেলে উত্তর হাসিমনগর এলাকার নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে তাদের দীর্ঘ সময় ধরে চলাচলের রাস্তাটি কেটে ফেলার প্রতিবাদ করেন।

এলাকার বাসিন্দা মজিবুল হক, আমিনুল হক, নুরুল আমিন, হারাধন দাশ, শাহ আলম জানান- উত্তর হাসিমনগর এলাকায় আমরা প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করছি। স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মক্তব, মসজিদ, হাট-বাজারে যাওয়ার জন্য সবাই এই সড়কটি ৩০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসছি। এলাকাবাসী নিজের জায়গা দিয়ে এই রাস্তা তৈরি করেন। যারা জায়গা দিতে পারেনি তারা অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন।

হঠাৎ করে স্থানীয় প্রভাবশালী শহীদুল্লাহ, অহিদুন্নবী, রফিক, আরিফ, সাঈদ গংরা ঝুকিপূর্ণভাবে রাস্তার পাশ কেটে মাটি নিয়ে বড় গর্ত করে ফেলেন। যার ফলে রাস্তাটির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং সামনের বর্ষায় রাস্তাটি ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যাবস্থা বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় মলিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র দাশ বলেন, আমরা এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাই। এখন রাস্তা কেটে বন্ধ হয়ে গেলে কিভাবে স্কুলে যাবো!

এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি এস্কেবেটর দিয়ে রাস্তা কেটে মাটি নিয়ে যায় ক্ষমতাশালিরা। আমরা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে রাস্তা কাটা বন্ধ করেন।

সাইফুল ইসলাম আরো অভিযোগ করে বলেন, শহীদুল্লার ছেলে রফিক পুলিশে চাকরী করেন। তাই তিনি উপস্থিত থেকে সবাইকে মামলার ভয় দেখিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে বড় গর্ত করেন মাটি নিয়ে যান, এই ব্যাপারে আপন্তি জানালে সবাইকে দেখে নেয়ার হুমকিও দেন। আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে জানিয়েছি।

এই বিষয়ে মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, এলাকার লোকজন দীর্ঘদিন যাবত আমার জায়গার উপর নির্মিত রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছে। রাস্তার বেশির ভাগ জায়গাই আমার। এখন আমার জায়গা প্রয়োজন হচ্ছে তাই রাস্তা কেটে ফেলছি। আমার জায়গা আমি কাটবো এতে সমস্যা কোথায়? আমি যদি রাস্তার জন্য জায়গা দিতে হয় তাহলে পাশে যার জমি সেও তো জায়গা দিতে হবে। শুধু আমার জায়গা দখল করে রাস্তা হবে এটা কোন ধরনের কথা, আমার জায়গা ব্যবহার করতে দিয়েছি গত ত্রিশ বছর এটা কি আমার অপরাধ?? এখন আমার জায়গা আমার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবো না??

এই বিষয়ে ১১ নং মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাস্টার বলেন, রাস্তা কেটে ফেলার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং স্কেবেটর দিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে মাটি খনন বন্ধ করেছি। উভয় পক্ষকে এই বিষয়ে সমাধান করার পরামর্শ দিয়েছি।

 

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।