খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সনাতনী যাতায়াত ব্যবস্থা সন্দ্বীপের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
সনাতনী যাতায়াত ব্যবস্থা সন্দ্বীপের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতির অপার সম্ভাবনার হাতছানি চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। সন্দ্বীপের পশ্চিম অংশে জেগেছে বিশাল চর।যা কাজে লাগাতে পারলে উন্নত জনপদ হতে পারে সাগর কন্যা সন্দ্বীপ।

জাতীয় অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সব কিছু ছাপছি বিশদ সম্ভাবনার এ জনপদের প্রধান অন্তরায় সনাতনী যাতায়াত।

সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সাগরের তলদেশ দিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে সন্দ্বীপবাসী। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বিদ্যুৎ পেয়ে আনন্দে আত্নহারা সন্দ্বীপের বাসিন্দারা। চারদিকে সাগরবেষ্টিত সাগরকন্যা খ্যাত দ্বীপ উপজেলাটি দূর্যোগপবন এলাকা তাই ব্লক দিয়ে বেড়ীবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে।

দেলোয়ার খাঁ সড়ক ( মেইন রোড) প্রস্ততকরণের কাজও চলমান। আরসিসি জেটি নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্ভোধনের অপেক্ষায়।

সন্দ্বীপকে অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এতো সব উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে শুধুমাত্র নিরাপদ নৌ যাতায়াত না হওয়ায়। সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে ১৫ কি.মি. সাগর পাড়ি দিতে হয় অনিরাপদ নৌযানে করে। প্রতিনিয়ত সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের উপেক্ষা করতে হয় মৃত্যুর চোখ রাঙ্গানি।

বিশেযজ্ঞদের দাবী, স্বাধীনতার পর গত ৫ বছরে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কর্মকান্ড হলেও শুধুমাত্র অনিরাপদ নৌ যাতায়াতের কারণে সবকিছু দুলিশ্চাৎ হয়ে যাচ্ছে অনিরাপদ নৌযাতায়াতে কারণে।

যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে না পেরে কেউ চোখ হারিয়েছেন। সংকটাপন্ন বহু প্রসূতি মাকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিতে গিয়ে জীবিত অবস্থায় স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। অনেক মা আবার নদীর মাঝে ট্রলারে সন্তান প্রসব করে মৃত্যুবরণ করেছেন। সন্দ্বীপে এমন হাজারো ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়।

মূল ভূ-খণ্ড থেকে অনেক দূরে চারিদিকে জলরাশি বেষ্টিত এই দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থার কাছে মানুষ যেন অসহায়। প্রাকৃতিক নানামুখী প্রতিকূলতায় বিপন্ন এই মানুষগুলোর চিকিৎসা সেবা নিয়তিনির্ভর।

যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে না পেরে চিরদিনের জন্য ডান চোখটি হারিয়েছেন ঘাট শ্রমিক নিজাম উদ্দিন। নিজের চোখ হারিয়ে তার এখন আর তেমন কোন দুঃখ নেই। তার দাবি, আর কাউকে যাতে এভাবে চোখ হারাতে না হয়, সে ব্যবস্থা যেন সরকার গ্রহণ করে।

নিজামউদ্দিন বলেন, ঘাটে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে ট্রলার থেকে বস্তা নামানোর সময় তার ডান চোখে আঘাত লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চলে চান সন্দ্বীপের উত্তরপ্রান্তে গাছুয়ায় অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য গুপ্তছড়া ঘাটে গিয়ে কোনো যানবাহন পেলেন না, রাত হয়ে যাওয়ায়। সেই চোখ নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। পরের দিন একটি বালুর ট্রলারে করে চট্টগ্রামে চক্ষু ডাক্তারের কাছে পৌঁছাতে বিকেল গড়িয়ে যায়। ডাক্তার জানান, এই চোখ ভালো করার কোনো সুযোগ নেই।

শুধুমাত্র মূলভূখন্ডের সাথে অনিরাপদ নৌযাতায়াতের কারণে এমন দুর্বিসহ কষ্ট সন্দ্বীপবাসীর। বার বার নৌ দূর্ঘটনায় মানুষের প্রানহানী ঘটে তবুও নিরাপদ হয়নি যাতায়াত ব্যবস্থার। ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল ১৮ জনের শরীর সমাধি আজও কাঁদায় সন্দ্বীপবাসীদের।

শুধু তাই নয় সন্দ্বীপ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে প্রয়াত সাংসদ দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমানের মা, বোনও মৃত্যুবরণ করেছেন।

কলেজ ছাত্র জোবায়ের হোসেন রাজু বলেন, বর্ষাকালে সন্দ্বীপ চ্যানেল খুব বেশি উত্তাল থাকে। ফিটনেসবিহীন স্পীডবোটে করে মৃত্যুর চোখ রাঙ্গানি উপেক্ষা করে আমাদের আসা যাওয়া করতে হয়। আমরা নিরাপদ নৌযান চাই।

সম্মিলিত সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি বলেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকার অবহেলিত সন্দ্বীপের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করেছেন। আমরা বিদ্যুৎ পেয়েছি, যা ছিল অকল্পনীয়। সরকারে সব উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে অনিরাপদ নৌযাতায়াতের কারণে।

সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, সন্দ্বীপে যাতায়াত ব্যবস্থার দূর্ভোগ লাঘোবে আমি কাজ করে যাচ্ছি। জরুরি প্রয়োজনে রাতের বেলায়ও যাতে মানুষ সাগর পাড়ি দিতে পারে সেজন্য বয়াবাতি দেয়া হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নৌযাতায়াত নিরাপদ করা হবে।

Feb2

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।