খুঁজুন
, ,

বোয়ালখালীতে ২৪ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুনমাত্রা ‘উপকেন্দ্র-২’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 18 February, 2020, 4:30 pm
বোয়ালখালীতে ২৪ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুনমাত্রা ‘উপকেন্দ্র-২’

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। পূজন সেন, বোয়ালখালী : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ২৪ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুনমাত্রায় যোগ হচ্ছে কানুনগোপাড়ায় নির্মিত ‘বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র-২’। ১০ এমভিএ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এ উপকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে চলতি মাসের শেষের দিকে উদ্বোধন হতে পারে এ উপকেন্দ্রটি। ২০১৮ সালের শেষের দিকে এ উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলো পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে ১৩ আগস্ট চট্টগ্রামের প্রথম উপজেলা হিসেবে বোয়ালখালীকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত এলাকা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপজেলায় চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় গ্রাহক রয়েছেন ৬৬ হাজার। দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট।

শিকলবাহা উপকেন্দ্র থেকে এ উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে মিলতো না চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ। যান্ত্রিক ত্রুটি ও অন্যান্য বিপর্যয়ে বিঘ্ন ঘটতো বোয়ালখালী উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহে। উপজেলার আরাকান সড়কে পাশে গোমদণ্ডী ফুলতল এলাকায় ১০ এমভিএ উপকেন্দ্র থাকলেও তা চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কুলিয়ে ওঠতো না।

পরবর্তী এ উপকেন্দ্রে আরো ৫ এমভিএ যোগ করলে ধারণ ক্ষমতা ১৫ এমভিএ উন্নীত করা হয়। ২০১৫ সালে আরো ৫ এমভিএ যোগ করলে তা ২০ এমভিএ ধারণ ক্ষমতায় উন্নীত হয়।

তবে এ উপজেলায় শিল্পকারখানা ও আবাসন গড়ে ওঠার ফলে দিনদিন বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েই চলেছে। প্রয়োজন হয়ে পড়ে আরো কয়েকটি উপকেন্দ্রের। গ্রাহক সন্তুষ্টির লক্ষ্যে উপজেলার টি.কে পেপার এন্ড কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্টিজের নিজস্ব উপকেন্দ্র থেকেও বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার পূর্বাঞ্চলে (শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, আমুচিয়া ও কড়লডেঙ্গা ইউনিয়ন) বিদ্যুৎ সরবরাহে লো ভোল্টেজ দেখা দিতো। এছাড়া প্রায় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েন ওই অঞ্চলের গ্রাহকরা। এ সমস্যা নিরসনে কানুনগোপাড়া এলাকায় উপকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চট্টগ্রাম দক্ষিণ) উত্তম কুমার সেন ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, বোয়ালখালী উপজেলার গ্রাহক সেবার মান বাড়ানো ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা নিরসনে ১০ এমভিএ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কানুনগোপাড়ায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি ‘১৫লক্ষ গ্রাহক সংযোগ প্রকল্প’র আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে।বোয়ালখালীতে উপকেন্দ্র ২

প্রায় ১২-১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কেন্দ্রটি মুজিববর্ষ উপলক্ষে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বা মার্চ মাসের ১ম সপ্তাহে উদ্বোধন হতে পারে।

এলাকা পরিচালক মো. আশরাফ উদ্দিন কাজল ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে যে সমস্যা ছিলো তা আপাততঃ নিরসন হয়েছে। তবে কালুরঘাটে সড়ক সেতু নির্মিত হলে এ এলাকায় আরো শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, হবে আবাসনও।

ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। সেই লক্ষ্যে আরো কয়েকটি উপকেন্দ্রসহ আধুনিক সরঞ্জামে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বোয়ালখালী জোনাল ম্যানেজার রফিকুল আজাদ ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, শিকলবাহা উপকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বোয়ালখালীতে আসে। তবে সেই বিদ্যুৎ ধারণ করার মতো উপকেন্দ্র বোয়ালখালীতে ছিলো না। পূর্বাঞ্চলে সেই বিদ্যুৎ পৌঁছাতে গিয়ে লো ভোল্টেজ হয়ে পড়তো।

এছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যেতো। কানুনগোপাড়া উপকেন্দ্র নির্মাণের ফলে এ সমস্যার অনেকটাই নিরসন হবে।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ বছরকে ‘সেবা বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। মুজিববর্ষে এ উপকেন্দ্র বোয়ালখালীবাসীর জন্য একটি বড় পাওয়া।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।