খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ গুণী ব্যক্তিকে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার দিল চসিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
১৫ গুণী ব্যক্তিকে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার দিল চসিক

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ১১জনকে একুশে সম্মাননা ও ৪জনকে একুশে সাহিত্য পুরস্কার দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

আজ শুক্রবার এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সিজেকেএস জিমনেসিয়ামে মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলা-২০২০ চট্টগ্রাম মঞ্চে চসিক মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন সম্মাাননা প্রাপ্তদের হাতে এ সম্মাননা পদক তুলে দেন।

পুরষ্কারপ্রাপ্তরা হলেন :

ভাষা আন্দোলনে আবু তালেব চৌধুরী (মরণোত্তর), শিক্ষায় অধ্যক্ষ এএফএম মোজাফফর আহমদ (মরণোত্তর), চিকিৎসাসেবায় প্রফেসর সৈয়দা নুরজাহান ভূঁইয়া (মরণোত্তর), স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ হারুনুর রশীদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হারিছ, সাংবাদিকতায় আখতার-উন-নবী (মরণোত্তর), সংগঠক প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, সংগঠক বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, ক্রীড়ায় সিরাজ উদ্দিন মো. আলমগীর, সংগীতে ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশ, সমাজসেবায় সন্ধানী চমেক ইউনিটকে একুশে সম্মাননা স্মারক এবং কথাসাহিত্যে (অনুবাদ) ড. মাহমুদ উল আলম, প্রবন্ধ গবেষণায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কবিতায় ওমর কায়সার ও শিশুসাহিত্যে আকতার হোসাইনকে সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মরণোত্তর সস্মাননা স্মারক প্রাপ্তদের পক্ষে তাদের প্রতিনিধি এবং মুক্তিযোদ্ধা হারিছ, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর, ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশ, ড.মাহমুদ উল আলম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কবি ওমর কায়সার ও আকতার হোসাইন প্রমুখরা উপস্থিত থেকে সিটি মেয়রের হাত থেকে স্মামননা স্মারক ও পুরস্কার গ্রহন করেন।

এই উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, অমর একুশে বইমেলার আহ্বায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন আমি এই শহরের আদিবাসি। আমার পিতা,দাদা এ শহওে জম্ম গ্রহন করেন। আমার জম্মও এ শহরে। সম্ভবত: ১১৮০ সালে আমার পূর্ব পুরুষেরা এ শহরে এসেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আামি এই শহরের অনেক ভালো-মন্দের সাথে পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত হই। অনেক চড়াই -উতরাই পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে আসা। আমি এদেশের মাটি ও মানুষকে অন্তরে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমৃত্যু এটি থাকবে। এ নগরবাসীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকবো। এ নগরবাসীর কাছে আমি অনেক বেশি ঋণী। বেঁচে থাকলে, এ ঋণ শোধ করার চেষ্টায় থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সিটি মেয়র বলেন, আগামী ৪ আগস্ট মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হবে আমার। গত মেয়র নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আমি চিরঋণি।

তিনি বলেন, এবার বইমেলায় গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ স্টল হয়েছে। গতবারের ভুল ত্রুটি দূর করে এবারের বইমেলা সাজানো হেেয়ছে। আগামীতেও জিমনেশিয়ার প্রাঙ্গনে এই মেলা আয়োজনের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র এব্যাপারে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও যেন ফেরুুয়ারিতে চট্টগ্রামে সম্মিলিত বইমেলার ধারাবাহিকতা থাকে সেব্যাপারে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান সিটি মেয়র ।

তিনি বলেন, একুশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে। এটি চির অম্লান হয়ে থাকবে। এ ভাষা যত বেশি অন্তরে ধারণ করবো, লালন করবো আন্তর্জাতিক ভাবে ততবেশী গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান ও মর্যাদা বাড়বে। নগরীর ঝুপড়ি দোকানে ইংরেজি সাইনবোর্ড , সামাজিক অনুষ্ঠানে ইংরেজীতে নিমন্ত্রণপত্র ছাপানোকে বিকৃত মানসিকতা বলে মন্তব্য করে মেয়র।

কবি ওমর কায়সার বলেন, পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের পর দেশের মানুষ ছিল স্তব্ব । কথা বলতে পারছিলো না। তখন কয়েকজন তরুণ চট্টগ্রামের রাজপথে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিলেন। সেই শ্লোগান দাতাদের মধ্যে একজন হলেন মেয়র নাছির। চট্টগ্রামের মেয়র পদবীটা ছোট্ট একটি স্টেশন। এই ছোট্ট স্টেশনের গন্ডি পেরিয়ে মেয়র নাছির অনেক দূরে যাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, পদকের জন্য আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি না। কম বয়সে আমাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হলো। আমি চসিকের কাছে কৃতজ্ঞ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।