খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহাদাত নগরবাসীর ভোটের মর্যাদা নিশ্চিতভাবে রক্ষা করবেন:মীর নাছির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২০, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
শাহাদাত নগরবাসীর ভোটের মর্যাদা নিশ্চিতভাবে রক্ষা করবেন:মীর নাছির

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজ সেবক ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করার জন্য সর্বস্তরের নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

মীর নাছির আজ শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে তাঁর নগরীর চট্টেশ্বরী রোডের বাস ভবন ডালিয়া কুঞ্জের সম্মুখস্থ মাঠে চসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেন এর ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এক উঠান-বৈঠক সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখছিলেন।

তিনি বলেন, আপনারা ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন। তিনি আপনাদের ভোটের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিতভাবে রক্ষা করবেন।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে একজন অতিশয় ভদ্রলোক, ন্যায় পরায়ন, ধর্মভীরু ও কর্মবীর আখ্যা দিয়ে সাবেক মেয়র মীর নাছির বলেন, স্মার্ট, আধুনিক ও হেলদি সিটি গড়ে তুলতে তাঁর মতো একজন উন্নত মন-মানসিকতা সম্পন্ন, রুচিশীল ব্যক্তিত্বকে মেয়রের আসনে বিজয়ী করা নগরবাসীর নৈতিক দায়িত্ব। সে লক্ষ্যে আগামী ২৯ মার্চ সকল বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে প্রতিটি ভোটারকে তাদের মূল্যবান রায় ধানের শীষ প্রতীকে প্রদানের জন্য তিনি আহবান জানায়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিএনপি’র আহবায়ক ও মহানগর বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন- বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও নগর বিএনপি সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক চাকসু এজিএস মাহাবুবুর রহমান শামীম, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক- আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম, দক্ষিণ জেলার বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক আলী আব্বাস, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান।

মীর নাছির বলেন, ডাঃ শাহাদাত চিকিৎসার সেবার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে নিজেকে ইতোমধ্যে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ক্ষমতা অধিষ্ঠিত না হয়েও স্বউদ্যোগে, স্বেচ্ছাশ্রমে নিজের অর্থায়নে নগরবাসীর সেবায় তিনি নিজেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে তাঁর মতো একজন প্রখর মেধাসম্পন্ন কর্মবীর মানবমুখী মানুষের প্রয়োজন। তাই আসন্ন নির্বাচনে ডাঃ শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী করতে পাড়ায়-মহল্লায় কেন্দ্র কমিটি গঠন করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগের ব্যবস্থার করার জন্য মীর নাছির দলীয় নেতা কর্মীদের প্রতি দৃঢ়ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান।

প্রধান বক্তা মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, চেয়ারের মোহে নয়, বরং আত্মার টান থেকে এই নগরবাসীর সেবা করতে আমি দৃঢ় অঙ্গিকারাবদ্ধ। আপনারা আমাকে ভোট দিন, আমি নিজেকে আপনাদের খাদেম হিসেবে গড়ে তুলবো। আমার কাজের হিসাব কড়ায় গন্ডায় নগরবাসীকে বুঝিয়ে দেবো। সকল দূর্নীতি-স্বজনপ্রীতি, লোভ-লালসার উর্দ্ধে ওঠে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহাবুবুর রহমান শামীম বলেন, বিএনপি সাধারণ জনগণের সংগঠন। ডাঃ শাহাদাত গণমানুষের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী করলে নগরবাসী উপকৃত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মানুষ ২৯ মার্চের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন। নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করে জালজালিয়াতে আশ্রয় নিলে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, ডাঃ শাহাদাত হোসেন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তাঁর গায়ে কোন প্রকার কালীমার চিহ্ন নেই। একজন পরিশ্রমী কর্মবীর হিসেবে তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে তিনি চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ স্মার্ট ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

নগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন ও মাহাবুব রানার পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দক্ষিণ জেলার বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, উত্তর জেলার বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি হারুন জামান, ইকবাল চৌধুরী, বিএনপি নেতা আব্দুল গফ্ফার চৌধুরী, বদরুল খায়ের চৌধুরী, জিএম আইয়ুব খান, জহির আহমদ, ইছাক চৌধুরী আলীম, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এয়াকুব চৌধুরী, ১৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সালাহ উদ্দিন কায়সার লাভু, আবু মুছা, জসিম উদ্দিন মিন্টু, আব্দুল কাদের জসিম, ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ ইলিয়াছ, ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুদ্দীন মোঃ রাশেদ. ৩০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা আকতার খান, মোঃ শফিকুল ইসলাম, তৌহিদুস সালাম নিশাত, জামাল আহমদ, শাহ আলম, শামছুল আলম, গাজী মোঃ ইউছুফ, চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ আবু, আবদুর রহিম, মঞ্জুর আলম, আবু আহমদ, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফয়েজ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।