খুঁজুন
, ,

বণিকতন্ত্রের নিকট মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে : খোরশেদ আলম সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 5 May, 2020, 9:23 pm
বণিকতন্ত্রের নিকট মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে : খোরশেদ আলম সুজন

বণিকতন্ত্রের নিকট মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল সোমবার (৪ মে) রাত ১০টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তিনি এ ভাইরাস মোকাবিলাকে যুদ্ধ জয়ের মতো উল্লেখ করে জনগনকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি করোনাভাইরাসের মহাদূর্যোগ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছেন। জনগনের ঘরে থাকার সুবিধার্থে গত ২৬শে মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে টানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে সরকারের এতোসব কার্যকরী উদ্যোগকে বাঁধাগ্রস্ত করছে এক শ্রেণীর বণিকতন্ত্র। যারা ছলে বলে কৌশলে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেছে। তাদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থটাই মূখ্য। তাই তারা সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। তারা সরকারকে জিম্মি করে তাদের অসৎ ফায়দা হাসিলে সদা তৎপর রয়েছে। এতে করে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। মানুষের জীবন রক্ষা আজ বানিজ্যিকরণের কাছে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। এসব বণিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, বেসরকারি হাসপাতালের নৈরাজ্য বন্ধ, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নগরজুড়ে মশার উৎপাত বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনগনের চিকিৎসায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তাদের গাফিলতির কারণে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে সাধারণ অসুস্থ রোগী। অথচ নূন্যতম সেবা পেলে এসব রোগীদের জীবন বাঁচানো কোন কঠিন বিষয় ছিলো না। তিনি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের জনগনের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না খেলার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

এছাড়া হলি ক্রিসেন্টের মতো একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছি, করবো বলে সময়ক্ষেপণ করছে যা জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে উল্লেখ করে অতিসত্বর তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

এছাড়া করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, কিট এবং ঔষধপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও বৃদ্ধি করার বিশেষ আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, আমরা বারবার ওয়াসার এমডি’র নিকট অনুরোধ জানিয়েছি যে নগরীর যে সমস্ত এলাকায় ওয়াসার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক নয় সে সব এলাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে হলেও ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। কারণ সরকারি নির্দেশনা হচ্ছে জনগনকে ঘরে থাকা। সেই নির্দেশনা পালন করতে হলে অবশ্যই ব্যবহার্য পানির ব্যবস্থাও করতে হবে ওয়াসাকে। তাছাড়া রমজান মাসে গৃহস্থালি কাজে পানির ব্যবহার পূর্বের তুলনায় কম হলেও গ্রাহকগণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি যে কোন মূল্যে ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদাত্ত আহবান জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান। নচেৎ নৈতিক দায়িত্ব পালনে বর্তমান পরিস্থিতিতেও ওয়াসা অফিসে অবস্থান নিতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেন সুজন।

করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে আগামী ১০ মে থেকে দোকান পাট ও শপিংমলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত দোকান পাট ও শপিংমল খোলা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তিনি শপিংমল এবং দোকান পাটে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার উদাত্ত আহবান জানান। এছাড়া শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ জানান। এছাড়া উপরোক্ত নির্দেশাবলী যারা অমান্য করবেন তাদের জরিমানা সহ শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের নিকট বিনীত আহবান জানান।

তিনি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীকে অনলাইনে গ্যাসের বিল জমা নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে একজন গ্রাহকের বিল জমা নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে করে গ্রাহকগণ ভোগান্তিতে পড়ছে। তাছাড়া রমজান মাসে এভাবে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে গিয়ে অনেক গ্রাহক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যদি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর অনলাইনে বিল নেওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে সে ক্ষেত্রে সাধারন ছুটি শেষ হওয়ার পর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল জমা নেওয়ার জন্য কেজিডিসিএল এর এমডি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিঃস্বার্থভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে টাকার যোগান দেওয়া রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি নজর দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বর্তমান লক ডাউন অবস্থায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ মূহুর্তে তাদের পাশে দাড়ানো সরকারের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ প্রবাসীরা স্ব-উদ্যোগে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। তাদের এ অবদানের পিছনে কারো কোন সাহায্য নেই। একজন প্রবাসী তার পরিবারের জমানো উপার্জন দিয়ে বিদেশে গিয়ে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাই প্রবাসীসহ তাদের পরিবার পরিজন যারা দেশে অবস্থান করছেন তাদের তালিকা করে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন বর্ষা মৌসুম একেবারেই সন্নিকটে। মানুষের মনে অজানা শংকা এবং ভয় কাজ করছে কখন বৃষ্টি এসে ঘরবাড়ি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয়। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্টান নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসণে কাজ করছে। এ কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন খাল কিংবা নালাতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে ফলতঃ পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়ে খাল, নালাগুলো ভরাট হয়ে গিয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে যা মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে। অতিসত্বর এসব খাল এবং নালাগুলোর মুখ উন্মুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সৃষ্টি করতে না পারলে জনগনকে এর চরম ফল ভোগ করতে হবে। তাই জলাবদ্ধতা প্রকল্পের সাথে জড়িত সকল সংস্থাকে অতিসত্বর খাল এবং নালার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

এছাড়া মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের পাশাপশি জনগনের সামনে উঁকি দিচ্ছে প্রাণঘাতী ব্যাধি ডেঙ্গু। গত বছরও ডেঙ্গুর কারণে আমরা অনেককেই অকালে হারিয়েছি যা কখনোই কারো কাম্য নয়। তাছাড়া নগরবাসীর ঘরে থাকার পথে অন্যতম অন্তরায় হচ্ছে মশা। তাই মশা নিধনকে বর্তমান সময়ে অধিকতর গুরুত্ব দানের জন্যও চসিক মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।