খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪২ লাখে বিক্রির পরেও মাশরাফীর হাতেই থাকছে সেই ব্রেসলেট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২০, ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
৪২ লাখে বিক্রির পরেও মাশরাফীর হাতেই থাকছে সেই ব্রেসলেট

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ:বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তীর হাতে সবসময় পরিহিত থাকা এক সামান্য ব্রেসলেটকে অসামান্য করে তুলেছে। রূপার এই ব্রেসলেটের ওজনটা বুঝা গেল আজ নিলামে। মাশরাফীর ১৮ বছরের এই সঙ্গীকে ৪২ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন লেইজিং অ্যান্ড ফিনেন্স কোম্পানিস অ্যাসোসিয়েশন-বিএলএফসিএ।

রোববার (১৬ মে) দিনগত রাত পৌনে একটায় শেষ হয় নিলামটি। ফেইসবুকে ‘Auction 4 Action’ পেইজ-এ নিলামে ব্রেসলেটটির ভিত্তিমূল্য ধরা হয় ৫ লাখ টাকা। নিলামে তুমুল আগ্রহ ও লড়াই শেষে এটি কিনে নেয় বিএলএফসিএ।

এই অর্থ দিয়ে মাশরাফীর ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহায়তা করা হবে করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে অসহায় মানুষদের।

তবে নিলামে বিক্রি হলেও ব্রেসলেট থাকবে মাশরাফির হাতেই।

বন্ধুর মামাকে দিয়ে নিজের নাম খচিত এই ব্রেসলেট বানিয়েছিলেন মাশরাফি।

বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান মমিন উল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্রেসলেটটি তারা উপহার হিসেবে মাশরাফীকেই ফিরিয়ে দিতে চান।

লাইভে মমিন উল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ব্রেসলেটটি তারা কি করবেন? জবাবে তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটি উপহার হিসেবে মাশরাফীকেই দিতে চাই। তার হাতেই এটি সবচেয়ে বেশি শোভা পায়।

মাশরাফি লেখা সেই ব্রেসলেট

ব্রেসলেটটি মাশরাফীর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেয়ার জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানান তিনি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মাশরাফীকে অনুরোধ করেন।

সম্মতি জানিয়ে মাশরাফী বলেন, আপনারা যদি ব্রেসলেটটি নিজেদের কাছে রাখেন তাতেও আমি কষ্ট পেতাম না। আপনাদের হাত থেকে পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি এটা আর পরবো না।

নিজের নাম খচিত এই ব্রেসলেট দীর্ঘ ১৮ বছর ব্যবহার করেছেন মাশরাফি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন জড়িয়ে আছে এই স্মারকটিতে। শনিবার (১৬ মে) নিলাম শুরু হলেও নিলামের বিডের তথ্য প্রথমবার প্রকাশ করা হয় রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যার দিকে। ৬টা ১০ এর হালনাগাদ অনুযায়ী, নিলামের দর হাঁকানো হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার বা সাড়ে ৭ লাখ টাকা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জানানো হয়, ব্রেসলেটের জন্য ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্য হাঁকানো হয়েছে। রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বিড দেখানো হয় ১১ লাখ টাকা। রাত নয়টায় ব্রেসলেটের বিড ১২ লাখ টাকা জানানো হয়।

রাত পৌনে বারোটার দিকে মাশরাফিকে নিয়ে আয়োজকরা ফেসবুক লাইভ শুরু করেন। এরপর থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম। মাশরাফির ব্রেসলেট বিক্রির টাকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সংকটে পড়া মানুষের সহায়তার কাজে ব্যয় করা হবে।

মাশরাফির ডান হাতে সেই প্রিয় ব্রেসলেট

প্রিয় ব্রেসলেটের অজানা গল্প জানালেন মাশরাফি:

নিলামের সরাসরি সম্প্রচারিত পর্বে তিনি বলেন, ‘আমি যখন অনেক ছোট, বড়দের দেখতাম বিভিন্ন ধরনের ব্রেসলেট পরতেন। দুইটা জিনিসের প্রতি ছোটবেলা আমার অনেক শখ ছিল- ব্রেসলেট ও সানগ্লাস। কিন্তু বাবা-মায়ের ভয়ে, বিশেষ করে বাবার ভয়ে কখনো পরতাম না।’

২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির যাত্রা শুরু হয়। এরপর ভাবলেন- একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে নিশ্চয়ই বাবা-মা ব্রেসলেট পরার যখন বকা দেবেন না! তখন হাতে ব্রেসলেট পরা শুরু করেন। যদিও পছন্দসই ব্রেসলেট পেতে সময় লেগেছে।

মাশরাফি বলেন, ‘একটি ব্রেসলেট পরা শুরু করি। কিন্তু ডাইভ দিলে সেটা হাত থেকে পড়ে যায়। পরে অবশ্য খুঁজে পেয়েছিলাম, তবে বেশিদিন টেকেনি। আমার এক বন্ধুকে বললাম ব্রেসলেট- আমাকে একটা তৈরি করে দে। সবাই যেরকম মূল্যবান ভাবছে ওরকম কিছু কিন্তু এটা না, অনেকে রুপার ভাবছে- সেটাও না। এটা অতি সাধারণ, স্টিলের তৈরি। আমার বন্ধুর মামার কাছ থেকে বানিয়ে নিয়েছি। এরপর থেকে পরি।’

দীর্ঘ ১৮ বছরে মাশরাফি কয়েকবার খুলেছেন এই ব্রেসলেট। তবে ব্রেসলেটটি হাতে থাকলেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। ক্যারিয়ারজুড়ে সবসময় সব অবস্থায়ই তাকে এই ব্রেসলেট হাতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকবার হাত থেকে খুলে রেখেছি। তবে এটা ছাড়া কখনো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিনি। এরপর থেকে এটাই আমার সঙ্গী। ভালোমন্দ সবকিছুর সাথেই এটা জড়িয়ে আছে। এটা ছাড়া আর কিছু ব্যবহারের চেষ্টা করিনি। শুধু অপারেশন থিয়েটারে স্টিলের কিছু রাখার অনুমতি করে না, কিংবা এমআরআই করতে গেলে। এই দুই সময় ছাড়া সাধারণত এটা খুলিনি। অবশ্য এই দুই জায়গায় অনেক বেশি গিয়েছি (হাসি)। তাছাড়া এটা সবসময় আমার সাথে ছিল ও আছে।’

আইপিডিসি ফিন্যান্সের চমৎকার সিদ্ধান্তে নিলাম শেষেও ব্রেসলেটটি মাশরাফির কাছেই থাকছে!

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।