খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে শিশু-চিকিৎসক-সাংবাদিকসহ ১৩১ জনের করোনা শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২০, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে শিশু-চিকিৎসক-সাংবাদিকসহ ১৩১ জনের করোনা শনাক্ত

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে। এদের মধ্যে নগরীর ১১৫ জন এবং উপজেলায় ১৬ জন।

চট্টগ্রামের ১ম ল্যাব ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬২টি নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রামে মহানগরে ৪৪, রাউজান ১, হাটহাজারী ১, ফটিকছড়ি ১, বাঁশখালী ২, সীতাকুণ্ড ৫, এবং নোয়াখালী জেলার ১ ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৩ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে (সিভাসু) ৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন এবং রাঙ্গামাটি জেলার ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ১৯৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য নগরে ৭১, পটিয়া ১, সন্দ্বীপ ২ এবং কক্সবাজার ১ জন।

এছাড়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার পুরাতন একজন পুরাতন করোনা রোগীর দ্বিতীয়বার পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের দুই ল্যাবে ৫২৭টি নমুুুুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৩১ জন। চট্টগ্রামের মোট আক্রান্ত বেড়ে ৯৭৬ জন।

চমেক ল্যাবে শনাক্ত ৭৫ জন হলেন: দামপাড়ার একজন ৬০ বছর বয়সী পুরুষ, বায়েজিদ এলাকার একজন ৪৩ বছর বয়সী নারী, কালুরঘাট এলাকার ২৮ বছর বয়সী একজন পুরুষ, বাকলিয়ার এলাকার দুই পুরুষ— এদের একজনের বয়স ৩৬ বছর, আরেকজনের ৩১ বছর, সিএণ্ডবি কলোনির ২১ বছর বয়সী নারী, পতেঙ্গা এলাকার দুজন— একজন ২৫ বছর বয়সী নারী, আরেকজন ৩৪ বছর বয়সী পুরুষ, খাতুনগঞ্জ এলাকার ৩৭ বছর বয়সী পুরুষ ও আগ্রাবাদ এলাকার ৪০ বছর বয়সী পুরুষ।

গত ২৪ ঘন্টায় আরও শনাক্ত হলেন ব্যাটারিগলি এলাকার ২৪ বছর বয়সী নারী, বহদ্দারহাট এলাকার দুজন পুরুষ— একজন ষাটোর্ধ এবং অপরজনের বয়স ২৬ বছর, বাকলিয়ার তুলাতলী এলাকার ৩১ বছর বয়সী পুরুষ, কোতোয়ালী এলাকার ৩২ বছর ও লালখানবাজার এলাকার ৪০ বছর বয়সী নারী।

এছাড়াও অক্সিজেন এলাকার দুজন নারী করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এদের একজনের বয়স ৫৫ এবং আরেকজনের বয়স ২৬ বছর। পাঁচলাইশ এলাকার তিনজন নারী ও দুজন শিশুর শরীরেও করোনা পজিটিভ আসে। এর মধ্যে একজনের বয়স ৩০, একজনের ৩৩ এবং বাকি এক নারীর বয়স ৫৮ বছর। শিশু দুজনের একজন ৭ ও অন্যজন ৬ বছর বয়সী।

এছাড়া নাসিরাবাদ এলাকার ৪২ বছর বয়সী পুরুষ, ৪৭ বছর বয়সী নারী এবং একই এলাকার ২৩ নম্বর গলির ৩৩ বছর বয়সী নারী, পাথরঘাটার ৩৩ ও ৫০ বছর বয়সী দুজন পুরুষ এবং নার্সিং হোস্টেলের একজনের করোনা পজিটিভ এসেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেন আন্দরকিল্লা এলাকার ৪৫ বছরের নারী ও ৪০ বছর বয়সী পুরুষ, একই এলাকার ৫৫ বছর বয়সী ও ৫১ বছর বয়সী ডাক্তার, কোতোয়ালীর ৪৪ বছর বয়সী পুরুষ। এছাড়া সন্দ্বীপের ২৪ বছর বয়সী পুরুষ ও ১৩ বছর বয়সী এক নারীর শরীরেও করোনার জীবাণু মিলেছে।

এদিকে বাকলিয়া এলাকার ৬০ বছর বয়সী পুরুষ, কোতোয়ালী এলাকার ৩৪ বছর বয়সী নারী, পুকুরিয়া এলাকার ৩০ বছর বয়সী পুরুষ, পতেঙ্গার স্টিল মিল এলাকার ২৭ বছর বয়সী নারীর করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বন্দর এলাকাতেই আক্রান্ত হলেন তিনজন— এদের একজন ৫৮ বছরের পুরুষ, একজন ১৭ বছর বয়সী নারী ও ৬ মাস বয়সী শিশু।

করোনা পজিটিভ হিসেবে আরও শনাক্ত হয়েছেন কক্সবাজারের ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ, পটিয়ার ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ, মোহরার ৩৯ বছর বয়সী পুরুষ, বন্দর থানার ফকিরহাটের ৫৫ বছর বয়সী নারী, জেনারেল হাসপাতালের ৩০ ও ২৭ বছর বয়সী পুরুষ, বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়িতে ৮ মাস বয়সী শিশু, নন্দনকানন এলাকার ৩৮ বছর বয়সী পুরুষ।

এছাড়া সদরঘাটে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ, বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ৪০ বছর বয়সী পুরুষ ও ৩২ বছর বয়সী নারী, কোতোয়ালী এলাকার রুমঘাটায় ৫২ বছরের নারী, খুলশী কলোনিতে ২০ বছর বয়সী পুরুষ, ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার ৫৫ বছর বয়সী পুরুষের শরীরে করোনার জীবাণু মিলেছে। বন্দর থানার ফকিরহাট এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন চারজন। এদের একজন ৩৩ বছরের ও একজন ৩০ বছরের পুরুষ এবং একই এলাকায় ২৭ বছরের নারী ও ৫ বছর ৭ মাসের শিশুর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। খুলশী টিএন্ডটি কলোনি এলাকার নারী ও কাঞ্চনদত্ত এলাকার ৫০ বছর বয়সী নারীও আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়।

এছাড়া শনাক্ত হলেন ইপিজেডের ব্যাংক কলোনিতে ৩৫ বছর বয়সী নারী, পতেঙ্গার স্টিল মিল এলাকার ৩৩ বছর বয়সী পুরুষ, হালিশহরের বড়পোল এলাকার ১৮ বছর ও চৌমুহনীতে ৩০ বছর বয়সী নারী, বন্দরের গনাডেঙ্গা এলাকার ৪৪ বছর বয়সী নারী, পতেঙ্গার আকমল আলী রোড এলাকার ২৫ বছর বয়সী পুরুষ, বন্দর এলাকার ৩০ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ৩৬ বছর বয়সী নারী।

আরও আক্রান্ত হয়েছেন কালুরঘাটের সিএন্ডবি কলোনিতে ২৬ বছর বয়সী নারী, ইপিজেড এলাকার দুজন পুরুষ— একজন ২৩ বছর, অন্যজন ৩০ বছর। এছাড়া বাদুরতলা এলাকার ৪২ বছর বয়সী এক নারীর শরীরেও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৪১ জন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১২০ জন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।