খুঁজুন
, ,

করোনা ও মশার হাত থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করার নির্দেশনা প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রীকে সুজনের কৃতজ্ঞতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 April, 2020, 5:32 pm
করোনা ও মশার হাত থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করার নির্দেশনা প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রীকে সুজনের কৃতজ্ঞতা

.jpg

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা, মশা এবং ডেঙ্গুর হাত থেকে চট্টগ্রামবাসীকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন সেবা সংস্থা এবং প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা প্রদান করায় চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়তই দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন। কখনো ভিডিও কনফারেন্স, কখনো প্রেস কনফারেন্স, কখনো সংবাদ সম্মেলন করে এ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছেন। এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের লড়াইয়ে দেশবাসীকে সাহস ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লড়াইয়ে বিজয়ের আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তিনি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পরামর্শের পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাজের সব স্তরের পেশাজীবী মানুষ এই প্রণোদনা প্যাকেজের সুফল পাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে যেসব সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এভাবেই প্রতিদিন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নানা নির্দেশনা, উৎসাহ এবং কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার ফলে জনগন এ ভাইরাস রোধে অনেকখানি সচেতন হয়েছে এবং প্রয়োজন ব্যতীত ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বলে মত প্রকাশ করেন সুজন।

তবে বর্তমান সময়ে ঘরে থাকার পথে প্রধানতম অন্তরায় হচ্ছে মশা, বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি এবং নগরীর কিছু কিছু জায়গায় অনিয়মিত পানি সরবরাহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের এ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের জনগনের হৃদয়ের কথা উপলব্দি করতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করার ফলে নগরবাসী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দ্রুতই মুক্তি পাবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন সুজন।

তিনি আরো বলেন প্রবাসীরা আমাদের দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। দেশের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য একটা অংশ আসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে। প্রতি মাসেই রেমিটেন্স বাড়ছে যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি সুসংবাদও বটে। তবে বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে লকডাউনের ফলে আমাদের প্রবাসীরা বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এতে করে খাদ্য চিকিৎসাসহ নানামূখী অসুবিধার সম্মূখীন হচ্ছেন প্রবাসীরা। এ অবস্থায় কারো কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য চাওয়ার মতো অবস্থাও তাদের নেই। তিনি বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের আর্থিক এবং খাদ্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে দূতাবাসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বর্তমান করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে নগরবাসীকে ঘরে রাখা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ব্যবসায়ীদেরকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য রাখা থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবং সেনাবাহিনীর নিকট আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সুজন এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি এবং ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ বন্ধ করার বিনীত আবেদন জানিয়ে বলেন সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হচ্ছে বিদ্যুৎ এবং পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা। তিনি দ্রুততার সাথে বিদ্যুতের পরিস্থিতির উন্নতি এবং নগরবাসীর নিকট নিয়মিত সুপেয় পানি সরবরাহ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত আবেদন জানান। এছাড়া নাগরিক উদ্যোগের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নগরীর যে সকল এলাকায় ওয়াসার পানির স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছিল সে সকল এলাকায় ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদান করায় ওয়াসার এমডি’র নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং এ ধারা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

তাছাড়া নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় প্রায় অনেকদিন ধরে পানি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুজন বলেন এর ফলে ঐ এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ নিদারুন কষ্ট ভোগ করছে। ফলত বাধ্য হয়েই বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা অনিরাপদ পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে এলাকাবাসী। তিনি এ অবস্থা থেকেও এলাকাবাসীকে সহসা মুক্তি দানের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট উদাত্ত আহবান জানান।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় যারা স্ব-উদ্যোগে লকডাউন করেছে তাদেরকে নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিবাদন জানান তিনি। নগরীর অবশিষ্ট বাকি এলাকায়ও জনগনকে ঘরে থাকা নিশ্চিত করা, আড্ডা মারা বন্ধ করা এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য স্ব-স্ব এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, মহল্লার সর্দার এবং যুব সমাজের প্রতিও উদাত্ত আহবান জানান সুজন।

 

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।