খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিমন্ত্রীর সাথে চসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
ভূমিমন্ত্রীর সাথে চসিক প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাত

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সাথে তাঁর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে এই সৌজন্য সাক্ষাতে ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী নগরীর ফুটপাত অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও সড়ক সংস্কারের তড়িৎ পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, যানজট নিরসন ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে তাঁর পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

এ সময় প্রশাসক মাননীয় মন্ত্রীর দৃষ্টির আকর্ষণ করে বারইপাড়া খাল খনন, কুলগাঁও বাসটার্মিনাল, লালচাঁন খাল ও রাস্তা অধিগ্রহণ ও অর্থ সহায়তায় সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া নগরীর পাহাড়তলীস্থ জোড়ঢেবা ও ভেলুয়ার দিঘীকে পর্যটনের আওতায় এনে দৃষ্টিনন্দন করতেও মাননীয় মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন প্রশাসক। মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রশাসককে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

সাক্ষাতে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোজাম্মেল হক, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন।

মানসিকভাবে সুস্থ ও একটি স্বাস্থ্যবান
জাতি গঠনে সকলের দরকার সম্মিলিত প্রয়াস

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক রোগীকে পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থন দেয়া খুবই জরুরি। অন্যান্য রোগের ন্যায় মানসিক রোগেরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা রয়েছে। ঝাড়ফুক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিহারে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

আজ সকালে চসিক জেনারেল হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে ‘মেন্টাল হেলথ অ্যাডভোকেসি এসোসিয়েশন (সযধধ/মা) ও চসিক এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “নগরবাসীর মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন,এ বছর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য : অধিক বিনিয়োগ-অবাধ সুযোগ’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথার্থ হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। এজন্য চসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।

তিনি বলেন নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে। যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন তারাই নয় বরং যারা এখনো এই রোগে আক্রান্ত হননি তাদের মাঝেও বাড়ছে মানসিক নানা সমস্যা। একইসঙ্গে যারা কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের মাঝেও দেখা দিচ্ছে নানা রকম মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রভাব। তাই সবাইকে সচেতন থাকর আহবান জানান প্রশাসক।

এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, কবি ও সাংবাদিক এজাজ ইউসুফি, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আখতার চৌধুরী, মেন্টাল হেলথ অ্যাডভোকেসি এসোসিয়েশন (মা)’র সভাপতি শরীফ জহির উদ্দিন মো. আবু রায়হান, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল যাত্রা, সমন্বয়কারী মোহিনী সংগীতা সিনহা, চসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেন্টাল হেলথ অ্যাডভোকেসি এসোসিয়েশন (মা)’র কার্যনির্বাহী সদস্য ফারুক তাহের।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী’র কবরে পুষ্পমাল্য
দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন চসিক প্রশাসক

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক সাংসদ জননেতা মরহুম আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী (বাবু)’র আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

শনিবার সকালে মরহুমের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু শুধু একটি নামই নয়, একটি আদর্শ। তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় রাজনীতিক। তিনি ছিলেন গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষের পরম বন্ধু। তাঁর আলোয় আলোকিত হয়েছিল সমগ্র চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের রাজনীতি। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু আমৃত্যু আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষের পাশে নিজেকে উজাড় করে গেছেন। নীতি-নৈতিকতা ছিল অনন্য সম্পদ। জনগণ ছিল তাঁর পরম আত্মার আত্মীয়, জয় করেছেন তাদের মন, ভালোবাসা। চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষায় তিনি আমরণ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। দলের নেতা কর্মীদের আখতারুজ্জামান চৌধুরীর জীবন কর্মকান্ড থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহবান জানান প্রশাসক।

শ্রদ্ধানিবেদনকালে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যাপক এম,এ মান্নান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, সহ-সভাপতি মোঃ সোলায়মান চেয়ারম্যান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাহাবুদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগ অর্থ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, সদস্য মোঃ আবদুর রহিম, মোঃ সেলিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী আনিস, ১০ নং হাইলধর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি দিদারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তাহের, প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নুর আলী, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরেক প্রমুখ।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।