খুঁজুন
, ,

যন্ত্রীসভার বুদ্ধি কম!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 24 October, 2020, 2:10 pm
যন্ত্রীসভার বুদ্ধি কম!

অ আ আবীর আকাশ : যন্ত্রীসভার লোকেরা সব সময় এসি লাগান শরীরে। দেশের চিন্তায় শরীরে হরদম ঘাম ছোটে। কি করে দেশের উন্নয়ন হবে, দেশের মানুষ সুখী হবে, এতে করে পকেটে টুপাইস ঢুকবে এসব চিন্তায় রাতে ঠিকমতো ঘুম পর্যন্ত হয় না। প্রত্যেক যন্ত্রীর বাসায়,অফিসে,গাড়িতে, সভাকক্ষে,এমনকি পুরো বাথরুম,টয়লেট সব এসির আওতায় এনেছেন। যন্ত্রীরা চিন্তা করে দেখেছেন,গরমে তাদের খামারের গরু ছাগল হাঁস মোরগ কষ্ট পাচ্ছে, সেখানে এবার নদীর ড্রেজিংয়ের বাজেট পাস হলে সে বাজেট থেকে দু’শো এসি ম্যানেজ করবেন। গতবছর গ্রামের বাড়িতে একজন যন্ত্রীর মার্কেটে পঞ্চাশটি এসি লাগিয়ে নিয়েছেন। তার এলাকার উন্নয়নে পাশ হওয়া ১০ কোটি টাকা থেকে। এ নিয়ে মিডিয়াপাড়ায় হইচই পড়েছিলো। কিচ্ছু হয়নি। কি করে হবে! যন্ত্রী যন্ত্রী মাসতুতো ভাই। কে কার খবর রাখে! খবর পেলেতো মিথ্যা, গুজব, বানোয়াট ইত্যাদি বিশেষণ দিয়ে উড়িয়ে দেয়া যন্ত্রীদের তকমা হয়ে গেছে।

নদীভাঙ্গা মানুষের কষ্ট কেউ দেখে না। খোঁজ নেয় না। প্রতিবছর নদীভাঙ্গা মানুষের সংখ্যা বাড়ে, সরকার নদীভাঙ্গাদের উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ফলাফল জিরো। তাহলে টাকা যায় কোথায়! নদী মানুষকে ধাবড়ায়, সর্বগ্রাসী করে, নদী সর্বনাশী হবে নাকি মানুষ নদীকে শাসন করবে! যন্ত্রীরা ভাবে নদীর সাথে পাল্লা দেয়ার, টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। আইলা, সিডর, নাসরিন, ঘূর্ণি, তুফান কিবা করোনা এসব এলে মোকাবেলা করার সক্ষমতা যন্ত্রীসভার আছে। তাও পর্যাপ্ত সক্ষমতা! কিন্তু নদীশাসনের দূরহ চিন্তাটুকুও আমাদের নেই।

নদীতে রাতদিন করে বালুখেকোরা উন্নত পর্যায়ের মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যায়। সেখান থেকে যন্ত্রী-কেমপি নেতা-পেতার পকেটে টাকা ঢোকে। হায়! তারা বালুচুরি করে নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। কিন্তু সে নদীর ড্রেজিং করতেও আমাদের যন্ত্রীসভার সরকার কোটি কোটি টাকা বাজেট পাশ করে। একদিকে সরকারি টাকা অন্যদিকে আলু বিক্রির টাকা,দুদিকের টাকায় লালে লাল যন্ত্রীরা, কেমপি, নেতা-পেতারা। এতো টাকা খরচ করেও ফলাফল আসে না। নদী ভাঙ্গন, নদীর স্রোত সোজা হয় না। যারা রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু কাটে। তাদের সুন্দর করে দেখিয়ে দিলেই তো আর বাজেট বরাদ্দ লাগে না। তারা তো এমনিতেই বালু চুরি করেন। সরকারের টাকা মানে জনগণের টাকায় আর হরিলুট বসে না। কারো মাথায় কি এসব ঢোকে না? ঢুকলে সমস্যা, যন্ত্রীদের বিদেশে বাড়ি করার চিন্তা, বিমান কেনার স্বপ্ন, মিল কলকারখানা করার চিন্তা ফিকে হয়ে যাবে। যন্ত্রীরা কোন কারণে যদি একবার ক্ষমতা পায় তাহলে সরকারপ্রধানকে তৈল মাখিয়ে অধিদপ্তরের গুষ্টি-গাড়া উদ্ধার করে। বৃদ্ধ বয়সেও ষোড়শীর যৌবনে উঁকি মারেন। চিন্তা করেন পরে যদি না পাই! আমার চেনা একজন মাত্র ৮ মাসের জন্য যন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এতে করেই ঢাকার বনানীতে বাড়ির মালিক বনে গেছেন। আরোতো বিভিন্ন খবর আছেই।

সাধারণ জনসভা মনে করে কেমপিদের মধ্যে সবচেয়ে চিন্তাশীল আধিপত্যবাদী চৌকস ব্যক্তিকে যন্ত্রিসভায় ঢোকানো হয়। প্রকৃত অর্থে তা নয়, কিছু কিছু লোভী, ঠোঁটকাটা, মূর্খ প্রকৃতির লোকও যন্ত্রীসভার সদস্য হয়ে যান কপাল গুনে।

একবার মেঘনার পূর্ব কূলের কমলনগর সাহেবেরহাট, মাতাব্বরহাট লুধুয়া ভাঙ্গন রোধে যন্ত্রীসভায় ষোল’শ কোটি টাকা বাজেট পাস করে। প্রতি অর্থবছরে দু’শো কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজ শুরু হলো মাতাব্বরহাটে মাত্র এক কিলোমিটার। যদি সেনাবাহিনী দ্বারা নির্মিত রামগতি আলেকজান্ডার বেড়ির সাথে লাগিয়ে শুরু করে এক দিক থেকে বেড়ি করে আসতো তাহলে এতদিনে আর ১০ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতো। কিন্তু তা না করে মাঝখান থেকে এক কিলোমিটার বেঁধে 200 কোটি টাকার কাজ শেষ করে এ থেকে দায়মুক্ত হয়েছে ঠিকাদার। এদিকে আর সামান্য বাকি আছে বেড়ি ভেঙে নদীতে বিলিন হওয়ার। অন্য দিকে বেড়ির দুপাশ ইউ আকৃতির মতো করে নদী আরো প্রায় কয়েক কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে গেছে। ভেঙে নিয়ে গেছে মানুষের স্বপ্ন, আবেগ, ভালোবাসা, অনুভূতি। দু’বার আনিসুর রহমান নামের একজন যন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি দেখে শুনে কি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন! আল্লাহ মালুম। কিন্তু এখনো ভাঙছে নদী। তাহলে যন্ত্রীসভায় তিনি কি উত্থাপন করলেন? কি ব্যবস্থা নিলেন আজ তিন বছরে?

কাজের আগেও তো এই যন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি কেন আলেকজান্ডারের সাথে মিলিয়ে কাজ শুরু করতে বলেননি? সেনাবাহিনীর কাজ নিখুঁত ও সুন্দর মজবুত হওয়ায় আলেকজান্ডারের নদীর স্রোতের মুখ ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। কেন যন্ত্রীসভায় সেনাবাহিনীকে না দিয়ে চোরা অসাধু ঠিকাদারকে দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করালেন? যন্ত্রীদের টাকার কি লোভ! শেষে স্থানীয় কেমপি নেতা গরু-ছাগল তো আছেই। তারা সেনাবাহিনীর কাছে ঘেঁষতে পারেনি বলে ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করিয়েছে ভাগবাটোয়ারা করার জন্য। সে কারণেই তো মাতাব্বরহাট আজ নদী গর্ভে বিলিন। অন্যদিকে চোর বদমাশ সেনাবাহিনীর কাছে না ঘেঁষাতে সে বেড়ি আজ পর্যটন কেন্দ্র। লজ্জা থাকা চাই যন্ত্রীদের। আর কেমপি, গরু, ছাগলের গলায় পাদুকামালা পরানো দরকার এই কারণে- যে যন্ত্রীরা দূরের, আমরা স্থানীয়, নদী ভাঙলেই আমরাই উদ্ধাস্তু হই। আমরা ও আমাদের আত্মীয় স্বজন গৃহহারা হয়। তাহলে যেভাবে পারি আলেকজান্ডারের মতো মজবুত করে বেড়ি বানিয়ে নিব। এসব চিন্তা নেই স্থানীয় নেতা গরু ছাগলের!

আমার বলতে ইচ্ছে করে -‘আরে শালারা যদি ভূমি না থাকে, মানুষ না থাকে, এলাকা না থাকে, তোরা আর নেতাগিরি করবি কি দিয়ে? কেমপি,নেতা-পেতা গরু ছাগল হবি কি দিয়ে? কথা ‘ক’ চিটিং, তোরা দেশের জনগণকে জবাই করে দিছত।

তাহলে বুদ্ধির কাজ হল-নদীর ড্রেজিং করতে বরাদ্দ, বাজেট কিছুই লাগবে না। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে তাদের নকশা করে বালু তোলা বৈধ করে দিলেই হয়। প্রয়োজনে পার্সেন্টিজ অনুযায়ী সরকারের কোষাগারে টাকাও নেয়া যেতে পারে তাদের কাছ থেকে।এতে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে। অন্যদিকে নদী ভাঙ্গন রোধে বেড়িবাধ ঠিকাদার ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান কাউকে না দিয়ে সরকারি বাহিনী সেনাবাহিনীকে দিয়ে করালে কাজ মজবুত হবে। টাকা কাজে লাগবে। জনগণ উপকৃত হবে। নদীও শাসন হবে।
*** চলবে

লেখকঃ কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সপাদকঃ আবীর আকাশ জার্নাল
abirnewsroom@gmail.com

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।