খুঁজুন
, ,

ছাতিম সুবাসে মাতোয়ারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 4 November, 2020, 11:21 am
ছাতিম সুবাসে মাতোয়ারা

অ আ আবীর আকাশ : সারা বাংলাদেশ ছড়িয়ে গেছে দারুণ এক সুন্দর সুগন্ধে। ইট পাথরের শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জের পরতে পরতে এমন কোন জায়গা নেই যে, এই দারুণ মিষ্টি সুগন্ধে মেতে উঠেনি। এমন কোন নাগরিক তথা জীব-জানোয়ার নেই যে, এই মিষ্টি সুগন্ধ তার নাকে এসে মিলায়নি। হঠাৎ করে তাকে বিমোহিত করেনি। পথিক মোহিত হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে যায় ছন্দোবদ্ধ সুগন্ধে। সুগন্ধটি কিসের, কে বলতে পারেন?

শরীরের দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রান পেতে কেউ কেউ সুগন্ধ মাখান। কিন্তু পৃথিবীজোড়া সুগন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছেন কে? কত টাকার সুগন্ধ হলে সারা পৃথিবী সন্ধ্যার পুর্বাহ্ন থেকে পরদিন সকালের সূর্য তেজস্ক্রিয় ছড়ানোর পূর্ব পর্যন্ত পৃথিবীময় সুগন্ধে ভরিয়ে দিতে পারে।

চন্দনকুটির আমার ভাঙা বাড়ীর দুপাশে দুইটা ছাতিম গাছ লাগিয়েছি পুষ্পঘ্রাণে মাতোয়ারা হওয়ার আশায়। সত্যি দারুন সুমিষ্টঘ্রাণে সুখনিদ্রা যাই। দীর্ঘ রজনী জেগে যখন সাহিত্যভূবনে ডুবে থাকি তখন আমাকে আলোড়িত করে ছাতিম সুবাস। পঞ্চম শ্রেনী পড়ুয়া ইমতিয়াজ যখন জানতে পারলো ছাতিম একটি প্রকৃতিবান্ধব বৃক্ষ,সুবাসিত পুষ্পকরথ তখন থেকে সেও গাছের প্রতি যত্নবান হতে শুরু করলো। প্রথম শ্রেণী পড়ুয়া আফসানা মীম তানহা বললো, আব্বু আমাকে দু’থোকা ফুল পেড়ে দেন।একথা শুনে পাশ থেকে ইমতিয়াজ তাকে বোঝাতে থাকে -না, মনি ফুলেরা রাতে আমাদেরকে সুবাস দিবো।ফুল ছিঁড়লে আর ঘ্রাণ ছড়াবে না,সুবাস দিবো না। তুমিও পড়তে বসলে আর ছাতিমের সুমিষ্টি সুবাস পাবে না। একথা শুনে মীম বললো, আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আর ফুল ছিঁড়বো না।

এমন একটি পুষ্প-বৃক্ষ যেখানে থাকে সে নিজেই জানান দেয় তার অবস্থানের কথা। ছড়িয়ে দেয় তার পুষ্পঘ্রাণ। তাকে খুঁজে পেতে কষ্ট হয়না। দু’শ তিন’শ গজ দূরে থাকলেও বলে দেয়া যায় পুষ্প-বৃক্ষটি কোথায় রয়েছে। সুগন্ধ ছড়ানো পুষ্প-বৃক্ষটির নাম ছাতিম।

বাংলায় ছাতিম গাছ বলা হয়। সংস্কৃতে নাম সপ্তপর্ণী। ছাতিম চির সবুজ বৃক্ষ। উচ্চতা বিশ থেকে পঁচিশ মিটার, দুধের মতো সাদা তেতো রস থাকে। ছাল অসমতল ধূসর বর্ণ, শাখা বিশিষ্ট। ডালপালা লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে, স্তরসৃষ্টি করেও এক রকম নিবিড় ঘন আবেশ রচনা করে। গন্ধের মধ্যে নেশার ঝাঁঝ আছে। ছাতিম এইভাবে নিজেকে ঘোষণা করে।

গুড়ি :মোটা মনে হয় যেন শাখা দিয়ে ঠেকানো। পাতা দশ থেকে পনের সেমি লম্বা। পত্র সংখ্যা সাত। ফুল : ছোট সাদা থোকায় থোকায় ফোটে।

ফল : ত্রিশ থেকে ষাট সেমি লম্বা সরু, এক বৃন্তে দুটি করে ঝুলে থাকে।

ছাতিম বা সপ্তপর্ণী চির সবুজ বড় গাছ। শরতে তার ফুল ফোটে। শরৎ শঙ্কর ঋতু। দিনে গরম-রাতে ঠান্ডা, শহরে রাতের ঠান্ডা অনুভব কম হলেও গ্রামে তার প্রভাব প্রবল। এ সময় উল্লেখযোগ্য ফুল বলতে শিউলী ও ছাতিম।

ছাতিম যখন ফোটে তার সু-গন্ধের প্লাবনে চারিদিক মেতে ওঠে। ছাতিমের এই সুবাসিত ভালোবাসাকে অবহেলা করে কার সাধ্য। ফুলের স্তবকে- স্তবকে ফোটার নির্ঝর লক্ষ্য করার মতো। বহুদূর পর্যন্ত সে প্রবল উগ্র গন্ধের ঐশ্বর্য ছড়ায়।

ফুল অনুজ্জ্বল, সবুজাভ সাদা। দূর থেকে হঠাৎ দেখা যায় না। কিন্তু সবগুলো ডালের আগায় সাতটি পাতার বুকে ফুলগুলো বের হয় ছাতার মতো গোল হয়ে। ছাতিম নাম সার্থক এইজন্য। তার ছায়া নিবিড়, গন্ধ নিবিড়।

ছাতিম ফুলের নিচের অংশ নলের মতো এবং নল-মুথের পাঁচটি পাঁপড়ি ইস্যু বাঁকানো। পরাগচক্র গভীরে থাকে। গর্ভকোষ দু’টি আংশিক যুক্ত থাকে, এজন্য ফল জোড় বাঁধা। ফল সজনের মতো বা বরবটির মতো। ফুলের মতোই ফল থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। সারা গাছে ঝুলে থাকা ফল দেখার মতো।

ঝুলে থাকা ফলগুলি যেন সুন্দরী রমনীর আলুলায়িত চুল। বসন্তের দিকে ফল পাকে। বীজ রোমশ ও হাওয়ায় ভেসে চলে যায়। বীজ থেকে সহজে চারা জন্মে। গাছের বৃদ্ধিও হয় দ্রুত। ছাতিমের আকৃতিতে একটি বৈশিষ্ট্য আছে। তার ডালপালায় ছড়ানো ভঙ্গিটি কয়েকটি জোড়া দেওয়া ছাতার মতো।

এর সরল উন্নত কান্ড কিছুদূর উপরে ওঠে হঠাৎ শাখা-উপশাখায় একটি চাঁদোয়ার মতো সৃষ্টি করে আবার এক লাফে একে ছাড়িয়ে অনেক দূর উঠে এমনি করে ঘন পাতার কয়েকটি চাঁদোয়ার সৃষ্টি করে। চন্দ্রা তৈরির এই বৈশিষ্ট্য শুধু ডালপালায় নয় তার পাতাও বৈশিষ্ট্যের দাবি রাখে। একই গ্রন্থি সাতটি পাতার চক্রাকার বিন্যাস শাখার মতোই সুন্দর।

শাখাগুলো ডাঁটার চারপাশে চক্রাকারে কিছু সংখ্যক পাতা বা ফুল দ্বারা সাজানো থাকে। ঠিক যেন ছাতার শিকে। ফুল ও সে রকম চক্রাকার। ছাতিমের সংস্কৃতিনাম সপ্তপর্ণী। পাতা সাধারণত সাতটি হয় বলে এই নাম। আর ইংরেজিতে ডেভিলস্ ট্রি ও ভিটাবার্ক ট্রি। উদ্ভিদতাত্ত্বিক ‘স্কলারিস’ নামের অর্থ এই যে, আগে এই গাছের কাঠ দিয়ে স্কুলের ছাত্রদের জন্য শ্লেট তৈরি হতো। সাধারণ মানুষের কল্পনায় এই গাছের একটি যাদুকরী দুষ্টশক্তি জড়িত আছে মনে করে বলে এর অপর নাম শয়তান গাছ। পশ্চিম ভারতের লোকেরা এর ছায়ায় বসতে চায় না।

আদিবাসী লোকেরা তো আরো একদম বাড়িয়ে আছে, তারা এই গাছের ছায়াও মাড়ায় না। এই গাছের তলায় ঘুমানো মানে নির্ঘাত মৃত্যু। গাছের প্রহরী শয়তান এই সুযোগে তার কাজটি করে নেয় বলে তাদের বিশ্বাস। শয়তান এই গাছ পাহারা দেয় মনে করে বলে কেউ এই গাছের ক্ষতিও করে না।

ছাতিমের পুরুছালের ভিতরটা সাদা দানাদার, কিন্তু উপরটা খসখসে। সারা গাছে সাদা দুধের মতো আঠাঁ বা ক্ষীর আছে। ছাল, পাতা, ফুল, ক্ষীর ওষুধে ব্যবহৃত হয়।

কুষ্ঠে, জ্বরে, সান্দমেহে, হিক্কানিঃশ্বাসে, দাঁতের যন্ত্রণায়, হাঁপানিতে, স্তনদুধের স্বল্পতায়, গাঁটের ব্যথায়, সর্দি বসায়, শ্বাসকষ্টে, দুষ্টব্রণে ছাতিমের নানা অংশ ঔষধের কাজে ব্যবহার করা হয়। জ্বর ধীরে ধীরে নামায় বলে- ম্যালেরিয়াতেও উপকারী। চর্মরোগেও ছাতিম ফলপ্রদ।

ছাতিম যেন এসব রোগে ছাতার মতো ছায়া দিয়ে আগলে রাখে। ছাতিমের কাঠ দিয়ে খুব সাধারণ ফার্নিচার, প্যাকিংকেস, চায়ের পেটি, পেনসিল এবং দেশলাইয়ের কাঠি তৈরি হয়। ছাতিম গাছ সহজে মরে না। ডালপালা কাটলেও আবার দ্রুত ডাল বের হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তি নিকেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর প্রমাণপত্রে সপ্তপর্ণীর পত্র দেওয়া হয়।

উপকারিতা:

১। ছাতিম গাছের ছালচূর্ণ করে গুলঞ্চের রস মিশিয়ে খেলে এবং এই গাছের ছাল থেঁতো করে সিদ্ধ করে এই পানি দিয়ে গোসল করলে কুষ্ঠ রোগ ভালো হয়।

২। জ্বর হলে ছাতিম গাছের ছাল সিদ্ধ করে সেই পানি দুইবেলা সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

৩। ছাতিম গাছের রস গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে কাশি ভালো হয়ে যায়।

৪। দাঁতে পোকার যন্ত্রণা হলে ছাতিমের আঠা পোকা লাগা দাঁতের ছিদ্রে দিন উপকার পাবেন।

৫। হাঁপানি হলে ছাতিমের ফুল চূর্ণ করে পিপুল চূর্ণ করে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে হাঁপানি কমে যায়।

৬। বাতের ব্যথা হলে ছাতিমের ছাল সিদ্ধ করে সেবন করলে ব্যথা কমে যায়।

৭। এসিডিটি হলে ছাতিমের ছাল বা ফুল চূর্ণ করে সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

তথ্য সহযোগিতাঃ ইন্টারনেট।
লেখকঃ কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট মানবাধিকার ও সাংবাদিক।
সম্পাদকঃ আবীর আকাশ জার্নাল।
abirnewsroom@gmail.com

 

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।