খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন কমিশন সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন কমিশনে পরিণত হয়েছে: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
নির্বাচন কমিশন সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন কমিশনে পরিণত হয়েছে: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও চসিক মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ঢাকার দুই উপ-নির্বাচনে সরকারের যে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ জাতি দেখে তাতে করে নির্বাচন এখন মানুষের কাছে একটি মঞ্চ নাটকের মতো। বাংলাদেশের মানুষ এখন নির্বাচন মানেই বুঝে শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের জয়জয়কার আর বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের দমন নিপীড়নের হাতিয়ার।

নির্বাচন কমিশন একটি মেরুদণ্ডহীন প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কমিশনার পরিণত হয়েছে। নির্লিপ্ত নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশে যে ভোট চুরি আর ডাকাতির মহাউৎসব চলে, তার থেকে আমেরিকার অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে। একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে কিভাবে এ ভোট চুরিকে স্বীকৃতি দেয় তা বোধগম্য নয়। আমেরিকার নির্বাচনে জনগণের রায় আর গণতন্ত্রের প্রতিফলন হয়, বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র হরণ হয়। নির্বাচনে কোথায় কি ফলাফল হবে তা গণভবন থেকে আগে থেকে তৈরি করে দেওয়া হয়।

আজ শনিবার (১৪ নভেম্ব্র) নগরীর ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন ঢাকার গাড়ি পোড়ানো মামলায় চট্টগ্রামের তিন যুবদল নেতাকে আসামী করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুর হাশেম বক্কর বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে বজ্রপাতের শব্দকে ককটেল বিস্ফোরণ দাবি করে প্রশাসন বিএনপির নেতাকর্মীদের গায়েবী মামলা দিয়েছে। গায়েবী মামলায় মৃত থেকে প্রবাসী নেতাকর্মীদেরও আসামী করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকায় সদ্য সমাপ্ত উপ-নির্বাচনের ভোট কারচুপি ডাকতে সরকার তাদের পোষ্য বাহিনী দিয়ে বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে। আর সেই অগ্নিসংযোগের মামলায় সারাদেশের নেতাকর্মীদের নামে মামলা করেছে। চট্টগ্রামের তিন যুবদল নেতা সেদিন চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও গাড়ি পোড়ানো মামলায় তাদেরকেও আসামী করা হয়েছে। চট্টগ্রামে থেকে কিভাবে গাড়ি পোড়ানো যায় তা এই সরকার না থাকলে জানতাম না। গায়েবী মামলা দিয়ে সুসংগঠিত বিএনপিকে আদালতে দৌড়ের উপর রাখতে চাই সরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, নির্বাচন কমিশনারের সহায়তায় সারাদেশে ভোট ডাকাতির মহাউৎসব চলছে। বিগত সময়ের নির্বাচন গুলোতেও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। এ আসনের জনগণ বিগম উপ-নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিলেও আওয়ামীলীগ সরকারের ইশারায় জনগণের সে ভোট চুরি করে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষ দেখছে কিভাবে ভোট কেন্দ্র দখল করে এজেন্টদের বের করে ভোট চুরির উৎসব হয়েছে। এই ভোট চোরদের রুখতে হবে। এদের থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে আমাদের সুসংগঠিত হতে হবে।

পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মুন্সীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কাউন্সিলর প্রার্থী ইস্কান্দার মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মনজুর আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম মঞ্জু, কামরুল ইসলাম, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনীর চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন নগর বিএনপি সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আবু মুসা, থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোজাম্মেল হক হাছান, পাঁচলাইশ থানা বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী, এনামুল হক ইনু, আবুল বশর, মকবুল হোসেন খোকন, মোহাম্মদ সালামত আলী, শাহাদাত হোসেন ওয়াসিম, জানে আলম , ৪৩ নং আমিন শিল্পাঞ্চল সভাপতি এডভোকেট এফ এ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এম এ হোসেন দিদার, বিএনপির নেতা মোহাম্মদ নাসের, আবুল খায়ের, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, এরশাদ হোসেন, মোহাম্মদ রাসেল, রাজন খান, মোহাম্মদ ফারুক, নগর সেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, নগর যুবদলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আসাদুজ্জামান রুবেল, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকি, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন, পাঁচলাইশ থানা মহিলাদলের সভানেত্রী সাইমা হক, সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর প্রার্থী জিন্নাতুন্নেসা জিনিয়া প্রমুখ।
২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।