খুঁজুন
রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামকে নান্দনিক স্বপ্নপুরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব: রেজাউল করিম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামকে নান্দনিক স্বপ্নপুরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব: রেজাউল করিম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উপলক্ষে দলীয় প্রচারনার ৭মদিনে নগরীর ২৫নং রামপুর, ১১নং দক্ষিন কাট্টলী ও ২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও ২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন, উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী লোটন, নির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, থানা আওয়ামীগের আলহাজ ফয়েজ আহম্মদ, মো. আবু তাহের, মহাগনর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম কায়সার, ১১নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন সওদাগর, ২৫নং রামপুর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সবুর লিটন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব ছাবের আহমদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল ইস মজমুদার, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ১১, ২৫ ও ২৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হুরে আরা বেগমসহ থানা ও ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবলী, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উন্নয়নের নেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে নৌকায় ভোট দিয়ে চট্টগ্রামে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারাকে আরো গতিশীল করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

গণসংযোগকালে বিভিন্ন পথ সভায় সমম্বিত প্রয়াসে চট্টগ্রাম নগরবাসীর সকল প্রকার দুর্ভোগ দুর করে চট্টগ্রামকে নান্দনিক স্বপ্নপুরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের দাবী আমার দাবী। চট্টগ্রামের মানুষের সমস্যা, আমার সমস্যা। উন্নত চট্টগ্রামের দাবী, আমারও দাবী।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেওয়ায়, বাংলাদেশকে তিনি উন্নয়নের সকল সূচকে ব্যাপক অগ্রগতিতে বিশ্ব দরবারে উচ্চতর মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শীতা বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়েছে।

একটি দারিদ্র পীড়িত দেশকে তিনি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করে যেভাবে উন্নত রাষ্ট্রের দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর প্রসংশায় পঞ্চমুখ। পাহাড়, সমতল, সাগর, নদী ও প্রাকৃতিক বন্দর চট্টগ্রাম নিয়ে সম্ভাবনার শতভাগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যানের রাজনীতি করে উল্লেখ করে রেজাউল করিম বলেন, আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। চট্টগ্রামের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে আমি জনগণকে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে মূখর ছিলাম। জলাবদ্ধতা, দখল, দুষণ রোধ এবং নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি নিশ্চিত করার দাবী নিয়ে সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি। দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি। পরিবেশ সংরক্ষনের জন্য আন্দোলন করেছি। শিক্ষার সুযোগ ও উন্নয়নের দাবীতে সোচ্চার থেকেছি।

খেলাধূলা, সংস্কৃতির বিকাশ ও স্বাস্থ্য সেবার মান ও পরিধি বৃদ্ধি নিয়ে দাবীর কথা বলি। করোনা কারণে কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে যথাসাধ্য সহায়তা পাঠাতে সচেষ্ট ছিলাম। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করেছি। মুক্তি করোনা আইসোলন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। আইসোলেশন সেন্টারের সাথে সাধারন রোগীদের জন্য আউটডোর চিকিৎসা ও পরামর্শ সেন্টার করেছি। চট্টগ্রামের ব্যাপক পরিকল্পনার সাথে সমম্বয় রেখে চট্টগ্রামের মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ও উন্নত নাগরিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে তিনি আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে, চট্টগ্রামের মানুষের সুখ দুখের সাথী হিসেবে আমি ২৭ তারিখের মেয়র নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আপনাদের ভোট চাই।

যাতে আমার ও আমার চট্টগ্রামের মানুষের দাবীগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি। আপনাদের চুড়ান্ত রায় যদি আমার নেত্রীর মনোয়নের সাথে মিলে এবং নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করেন, আমি সমম্বিত পরিকল্পনায় সেবার মান উন্নয়নে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করব, নাগরিক দাবীসমূহ পূরণ করব।
এছাড়াও আজ দুপুরে নগরীর ২৪ নং আগ্রাবাদ ওয়ার্ডস্থ মনছুরাবাদ ও মোল্লাপাড়া এলাকার জনসাধারনের সাথে মত বিনিময় ও আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন।

সৈয়দ মো. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, সৈয়দ মাহমুদুল হক, সিরাজুল ইসলাম, আবদুস সামাদ, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুর রহমান মিয়া, আবদুল বারেক, এম এ হান্নান কাজল, নাজমুল হক ডিউক, ওসমান গণি আলমগীর, রবিউল হাসান সুমন, কাজী মাহমুদুল হাসান রনি, আরিফুল ইসলাম, আবদুল্লা জুবায়ের হিমু, বেলাল সাত্তার, সাইফুদ্দিন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।