খুঁজুন
, ,

স্কু‌লের রাস্তা বন্ধ ক‌রে দোকান ঘর ও বা‌ড়ি নির্মান স্থানীয়‌দের ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 11 April, 2022, 9:23 pm
স্কু‌লের রাস্তা বন্ধ ক‌রে দোকান ঘর ও বা‌ড়ি নির্মান স্থানীয়‌দের ক্ষোভ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্র‌তি‌নি‌ধিঃ মিরসরাইয়ের ১৫ নং ওয়া‌হেদ পু‌র ইউ‌নিয়‌নের ১ নং গাছ বা‌ড়িয়া ওয়া‌র্ডে অব‌স্থিত গাছ বা‌ড়িয়া সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ‌্যাল‌য়ের ক‌য়েক শত ছাত্র ছাত্রী‌দের চলাচ‌লের রাস্তা বন্ধ ক‌রে দি‌য়ে জোর পূর্বক দোকান ঘর ও বা‌ড়ি নির্মা‌নের অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে। স্থা‌নিয় ইউ‌নিয়ন প‌রিষদ ও পু‌লিশ প্রশাস‌নের কা‌ছে বার বার অ‌ভি‌যোগ ক‌রেও রাস্তা উদ্ধার কর‌তে না পে‌রে ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে‌ছেন ভূক্ত‌ভো‌গিরা।

ওয়া‌হেদপুর ইউ‌নিয়‌নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার রা‌সেল জানান, সীট নং পূর্ব গাছবা‌ড়িয়া বিএস মূ‌লে দাগ নং ১৮৩৫ অনুযায়ী ১৮ ফিট প্রসস্থ ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সং‌যোগ থে‌কে গাছবা‌ড়িয়া সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ‌্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কি‌লো‌মিটার রাস্তা। কিন্তু ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সং‌যোগ থে‌কে প্রায় ১ কি‌লো‌মিটার রাস্তা ব্রিক স‌লিং থাক‌লেও আহম্মদ আলী মেস্ত্রী বা‌ড়ি অং‌শে এ‌সে রাস্তা‌টি চু‌রি হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছে। রাস্তা দখল ক‌রে নির্মান করে‌ছে দোকান ঘর ও বসত বা‌ড়ি। এমন ভা‌বে স্থাপ‌না তৈ‌রি করা হ‌য়ে‌ছে যে রাস্তার কোন নিশানাও নেই। রাস্তার অভা‌বে শত শত মানু‌ষের চলাচল বি‌ঘ্নিত হ‌চ্ছে।

এছাড়‌া গাছবা‌ড়িয়া সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ‌্যাল‌য়ের কোমলম‌তি ছাত্রছাত্রীরা রাস্তা না পে‌য়ে অ‌ন্যের বা‌ড়ি ঘ‌রের উপর দি‌য়ে চলাচল কর‌তে হ‌চ্ছে। একজন ওয়ার্ড মেম্বার হি‌সে‌বে স্থা‌নিয় জনপ্র‌তি‌নি‌ধি হি‌সে‌বে আমার কা‌ছে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে‌ছেন রাস্তা ব‌্যবহারকারীরা। তা‌দের অ‌ভি‌যো‌গের ভি‌ত্তি‌তে দ‌লিলা‌দি যাচাই ক‌রে দেখা যায় রেকর্ড অনুযায়ি রাস্তার বয়স শত বছ‌রেরও বে‌শি। কিন্তু রাস্তা বন্ধ ক‌রে বিগত ক‌য়েক বছ‌রে আহম্মদ আ‌লি মেস্ত্রী বা‌ড়ির বা‌সিন্দা মৃত নুরুল আফছা‌রের ছে‌লে জিয়া উ‌দ্দিন মিন্টু (৩৫) জোর পূর্বক দোকান ঘর ও বসত বা‌ড়ি নির্মান ক‌রে তার বোন ও ভা‌গিনা‌কে ভাড়ায় হস্তান্তর ক‌রে‌ছে। রেকর্ড অনুযায়ী আর্মীটার দি‌য়ে মে‌পে রাস্তার জায়গা চিহ্নীত ক‌রে দোকান ঘর ও বসত‌বা‌ড়ি স‌রি‌য়ে নেওয়ার জন‌্য বার বার অনু‌রোধ করা হ‌লেও তা কর্ণপাত কর‌ছেনা তি‌নি। তি‌নি জনপ্র‌তি‌নি‌ধি, স্থা‌নিয় জনসাধারন, গণ‌্যমান‌্যব‌্যা‌ক্তি ও পু‌লিশ প্রশাসন কাও‌কেই পাত্তা দি‌চ্ছেন না।

মিরসরাই থানা প‌রিচা‌লিত নিজামপুর পু‌লিশ ফা‌ড়ির উপপ‌রিদর্শক এস আই রা‌কিব জানান, রাস্তা দখ‌লের অ‌ভি‌যোগ পে‌য়ে ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন ক‌রে অ‌ভিযুক্ত স্থা‌নে দোকান ঘর ও বসতবা‌ড়ির স্থাপনা দেখ‌তে পে‌য়ে‌ছি। যে‌হেতু জায়গা জ‌মির অ‌ভি‌যো‌গের মিমাংসা পু‌লিশ কর‌তে পা‌রেনা তাই তা‌দের‌কে পরামর্শ দি‌য়ে‌ছি স্থা‌নিয় ইউ‌নিয়ন প‌রিষদ অথবা কো‌র্টের মাধ‌্যমে সমাধান কর‌তে। ত‌বে দখল বেদখল‌কে কেন্দ্র ক‌রে যা‌তে কোন প্রকার অ‌প্রি‌তিকর ঘটনা না ঘ‌টে সে ব‌্যাপা‌রে সতর্ক করা হ‌য়ে‌ছে থানা প্রশাসন থে‌কে।

স্থানীয় বা‌সিন্দা শামসুল হুদা, শামীম আরা, জসীম উ‌দ্দিন, হুমায়ুন ক‌বির, নাজমুল হাসান, ম‌মিন হো‌সেন, নুরুল মোস্তফা, মোহাম্মদ আ‌লি, আব্দুল মান্নান সহ উপ‌স্থিত ভুক্ত‌ভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে জানান, শত বছর আ‌গের ১৮ ফিট প্রশস্থ সড়ক‌টির এক কিলো‌মিটা‌রের মাথায় আম‌ম্মেদ আলী মেস্ত্রী বাড়ীর মু‌খে ৪০ ফিট জায়গা অ‌বৈধ দখল ক‌রে এমন ভা‌বে দোকান ঘর ও বসত বা‌ড়ি নির্মাণ করা হ‌য়ে‌ছে যে রাস্ত‌টি দোকান ও বসত ঘ‌রের পে‌টের ভেত‌রে চ‌লে গে‌ছে। এছাড়‌া টি‌নের বেড়া দি‌য়ে চলাচ‌লের পথ বন্ধ ক‌রে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। একজন ব‌্যা‌ক্তি কার ক্ষমতার ব‌লে এ‌তো বড় অন‌্যায় করে তার ক্ষমতার বড়াই দেখা‌চ্ছে আমরা জান‌তে চাই। পু‌রোগ্রামবাসী সড়ক‌টির মেরামত চায় সড়ক‌টির দখলকৃত অংশ উদ্ধার চায়।

ঘটনার স্থল সরজ‌মি‌নে প‌রিদর্শ‌নে গি‌য়ে দেখা যায় সড়ক‌টির আহ‌মেদ আলী মেস্ত্রী বাড়ি পর্যন্ত গি‌য়ে দোকানঘর ও বসতঘ‌রে বি‌লিন হ‌য়ে গে‌ছে। দোকান ও বসত ঘর‌শে‌ষে আবার শুরু। মাঝখা‌নে প্রায় ৪৯ ফিট রাস্তা নেই। এ‌বিষ‌য়ে অ‌ভিযুক্ত জিয়া উ‌দ্দিন মিন্টু‌র কা‌ছে জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, রাস্তা সী‌টে থাক‌লেও এ‌টি কখ‌নো রাস্তা হি‌সে‌বে ব‌্যবহার ছিল না। দোকান ঘর রাম্তার অং‌শে প‌ড়েনাই। রেকর্ড অনুযায়ী রাস্তা ১৮‌ফিট রাস্তা ধরা হ‌লে স্থাপনার কিছু অংশ রাস্তাুয় প‌ড়ে। স্থা‌নিয় চেয়ারম‌্যান মেম্বার ও গন‌্যমান‌্য ব‌্যা‌ক্তিরা য‌দি টিহ্নীত ক‌রে‌দেন কতটুকু ছাড়‌তে হ‌বে তাহ‌লে সেই অনুযায়ী দখল ছে‌ড়ে দি‌তে আমার আপ‌ত্তি নেই। এব‌্যাপা‌রে আপ‌নি চেয়ারম‌্যা‌নের সা‌থে কথা বল‌তে পা‌রেন, চেয়ারম‌্যান বিষয়‌টি সম্প‌র্কে অবগত আ‌ছেন।

এব‌্যাপা‌রে ১৫ নং ওয়া‌হেদপুর ইউ‌নিয়‌নের চেয়ারম‌্যান ফজলুল ক‌বির ফি‌রোজ জানান, রাস্তার বিষয়‌টি মৌ‌খিক ভা‌বে জান‌লেও আমা‌কে লি‌খিত ভা‌বে এখ‌নো কেউ জানায়‌নি। ওয়ার্ড মেম্বার‌কে দা‌য়িত্ব দি‌য়ে‌ছি দ‌লিল পত্র যাচাই ক‌রে রাস্তা দখল থাক‌লে সে‌টি উদ্ধা‌রের ব‌্যাবস্থা নি‌তে।

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 2:51 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, নগরীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হলে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের শান্তিনগর এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামে ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে উদ্যোগী হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব কার্যক্রমের সুফল পেতে হলে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাকলিয়ায় আয়োজিত এ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগরবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, ইসমাইল বাবুল, মোহাম্মদ সেকান্দর, আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ ইমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের, আরিফুল ইসলাম ডিউক, নাসরিন আক্তার প্রমুখ।

৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 1:05 pm
৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

শনিবার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারকাজের উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কল্পলোক মডেল মসজিদ চত্বর মাঠ প্রাঙ্গণে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) এবং হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

খেলাধুলার সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।”

তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমাদের লক্ষ্য, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা।”

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়)-এর সভাপতি এম. আব্দু শুক্কুর সভাপতিত্ব করেন। এতে মুখ্য উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন লিপু, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কল্পলোক আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এলাকার শিশু-কিশোর, তরুণ এবং সাধারণ বাসিন্দাদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি এসব উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

কল্পলোকের খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের এ উদ্যোগ নগরীতে পরিকল্পিত উন্মুক্ত স্থান সম্প্রসারণ এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির (১ম পর্যায়) সভাপতি এম. এ. শুক্কুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল হারুন, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক, আমির হক ও মোহাম্মদ আবুল হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলী আকবর।

ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:04 am
ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

লক্ষ্য ২৫০ রান। ১৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪০। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে জয় পেতে শেষ দুই ওভারে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। একই ব্যবধান ছিল সেঞ্চুরি থেকেও দূরত্বে থাকা অধিনায়ক শাই হোপের। অক্ষর প্যাটেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি শতকও পূর্ণ করেন তিনি।

অক্ষরের ওভারের প্রথম বলটি ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করেন হোপ। পরের বলটি এক্সট্রা কাভারে ঠেলে দিলেও রান নেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। তৃতীয় বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি ও জয়—দুটিই একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন তিনি। মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করা হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের লক্ষ্য অতিক্রম করার ঘটনা।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে সেই রেকর্ড গড়েছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ম্যাচটি জিতেছিল স্বাগতিকেরা।

রাঁচিতে আজকের ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন দাপুটে জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ক্যারিবীয়দের স্কোর ৫ রানে ২ উইকেটে নামিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শেরফান রাদারফোর্ড।

রাদারফোর্ডকে নিয়ে পরের ৯ ওভারে ১২০ রান যোগ করেন হোপ। ৩৭ বলে ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন আউট হন, তখনও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান।

সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে তাঁর জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। শেফার্ডও ছিলেন আক্রমণাত্মক; ১৩ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায়। এর আগে গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।

এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন। ভারতের বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি হোপের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে।