বোয়ালখালীতে কাউন্সিলরের চাঁদাবাজিতে বন্ধ হচ্ছে টেম্পো সার্ভিস !
বোয়ালখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত চলাচল করে সিএনজি চালিত অটো টেম্পো। এসব টেম্পোকে পথ চলতে দিতে হয় চাঁদা। তবে চাঁদা হার কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। না দিয়ে উপায় নেই চালকদের। আগামী ৫ জুলাই মঙ্গলবার থেকে এ সড়কে টেম্পো চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন বোয়ালখালী শাখার নেতৃবৃন্দরা।
গত কয়েকদিন ধরে বোয়ালখালী-কাপ্তাই মাথা সড়কের কয়েকটি স্থানে পৃথকভাবে চাঁদা দাবী করা হচ্ছে টেম্পো চালকদের কাছ থেকে। চালকরা এতে অনিহা প্রকাশ করলে মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ টেম্পো চালকদের।
রবিবার (৩ জুলাই) এ ব্যাপারে বোয়ালখালী থানাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন বোয়ালখালী শাখার নেতৃবৃন্দরা।
অভিযোগে বোয়ালখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র কধুরখীল ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুল ইসলামকে দায়ী করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয় চাঁদাবাজ এ কাউন্সিলরের নেতৃত্বে টেম্পো থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। তাঁর সহযোগী হিসেবে চাঁদা আদায়ের মাঠে কাজ করেন আনোয়ার হোসেন, মো. শফি, মো.ওসমানসহ কয়েকজন কর্মী।
এর আগেও তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি জানিয়ে চট্টগ্রাম টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন বোয়ালখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁদের (চাঁদাবাজ) সাথে কথা বলতে চাইলে তাঁরা আমাদের হাত-পা ভেঙে দিবে ও বিভিন্ন মামলার আসামী করার হুমকি দিচ্ছেন। তাই চাঁদাবাজি বন্ধসহ চালকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ অভিযোগ দিয়েছি।
মো.সেলিম বলেন, এর সুষ্ঠু সমাধান না হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী ৫ জুলাই মঙ্গলবার থেকে এ সড়কে টেম্পো চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো.ওয়াসিম বলেন, আরাকান সড়কের হযরত পেতন আউলিয়া (রহ.) মাজার গেইট, পূর্ব কালুরঘাট ও কাপ্তাই রাস্তার মাথা টেম্পো স্ট্যান্ডে তারেক বাহিনী চালকদের কাছ থেকে টাকা দাবী করছে। চালকদের সারাদিনের পরিশ্রমের টাকা যদি পথে চাঁদা দিয়ে দিতে হয় তবে গাড়ি চালিয়ে লাভ কি? এর থেকে গাড়ী না চালানোয় ভালো।
প্যানেল মেয়র তারেকুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘আমি কোনো শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত না। তারপরও আমাকে কেন জড়িত করছে বুঝতে পারছি না। এ সড়কে বেশ কয়েকটি টেম্পো সংগঠন রয়েছে। কারা কি করছে জানি না।’
তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত উল্লেখ করে বলেন, আমার অত টাকার দরকার নেই। আমি এলাকাবাসীর ভালোবাসায় কাউন্সিলর হয়েছি। তিনি অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এসব টেম্পো সংগঠনের কোনো কাজ নেই। তারা সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভাড়া আদায় করেন। গাড়িগুলোর ফিটনেস নেই, চালকরা হলেন ভ্যান-রিকশার ড্রাইভার। হরহামেশায় উল্টে যায় এসব টেম্পো।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, চট্টগ্রাম জেলা অটো টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়ন বোয়ালখালী শাখার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত অভিযোগ রয়েছে বোয়ালখালী-কাপ্তাই রাস্তার মাথায় চলাচলরত সিএনজি চালিত টেক্সীগুলোকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদার বিনিময়ে চালকদের টোকেন দেওয়া হয়। সেই টোকেনে চলে লাখ টাকার বাণিজ্য। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও নিরব রয়েছে প্রশাসন। ফলে দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এ চাঁদাবাজ বাহিনী।


আপনার মতামত লিখুন