খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ফাইনাল আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:১২ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ফাইনাল আজ

আরবের লোককথায় সম্রাট শাহরিয়ারকে গল্প শোনানোর জন্য তাঁর স্ত্রী শেহেরজাদির ১ হাজার ১ রাত লেগেছিল। রহস্য ও ধাঁধার সঙ্গে আরব্য রজনির গল্প শেষ হয়েছিল ভালোবাসার প্রাপ্তি আর স্বীকৃতিতে। সারাবিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপের গল্প শোনাতে ফিফা অবশ্য ২৮ দিনের বেশি সময় নেয়নি। রহস্য আর ধাঁধা এই বিশ্বকাপের আরব্য উপন্যাসেও কম ছিল না। ফাইনাল ঘিরে দোহার হৃদয়ে যেভাবে মেসিম্যানিয়া চলছে, তা দেখেই কৌতূহল- তবে কি মরুর এই বিশ্বকাপের শেষটাও আবেগের বিস্ম্ফোরণ আর ভালোবাসার স্বীকৃতিতে শেষ হবে? ৩৫ বছর পর আর্জেন্টিনার হাতে বিশ্বকাপ উঠবে, নাকি টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রান্সের কাছেই থেকে যাবে ফুটবলের কোহিনূর? পশ্চিমা মিডিয়ায় এই ফাইনালের নাম হয়ে গেছে মেসি বনাম এমবাপ্পে। মেসির শ্রেষ্ঠত্বের তর্কমুক্ত পূর্ণতা মিলবে যদি আজ ট্রফি জিততে পারেন তিনি। অন্যদিকে, পেলের সঙ্গে তুলনাটা চলে আসবে আজ এমবাপ্পের হাতে ট্রফি উঠলে। দুই তারকার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ের অমোঘ মধ্যাকর্ষণে তেতে আছে কাতারের মরুতট। আর তা দেখার জন্য তন্ময় হয়ে অপেক্ষায় আছে গোটা ফুটবলবিশ্ব।

তারা যেমন মেসির বাঁ পায়ের জাদু দেখতে চায়, তেমনি এমবাপ্পের চিতার গতিও দেখতে চায়। হাফ লাইন থেকে চঞ্চল গ্রিজম্যান তাদের যেমন মুভ করে, তেমনি এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ঈগলের মতো ছোঁ মারার দৃশ্যও আকর্ষণ করে। আক্রমণের শৈলীতে, রক্ষণের কারুতে, মাঝমাঠের বল দখলে- দু’পাশেই এত সমান সমান ভার যে সামান্য বাতাসেই ঝুঁকে যে কোনো দিক পাল্লা। তাই সত্যিকার অর্থেই দারুণ একটি ফাইনাল উপভোগ করতে যাচ্ছে সবাই। গতকাল মিডিয়া সেন্টারের ক্লিন্সম্যান আর আর্সেন ওয়েঙ্গার একটি অনুষ্ঠান করে এভাবেই আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্স ম্যাচের স্বাদ বোঝাচ্ছিলেন। কিন্তু দু’জনেই অন্তত একটি ব্যাপারে একমত, আবেগে ফ্রান্সের চেয়ে আর্জেন্টিনা বেশি এগিয়ে। দোহায় এ মুহূর্তে প্রায় ৪০ হাজার আর্জেন্টাইন পাসপোর্টে অ্যারাইভাল সিল লাগিয়ে শহরে ঘুরছে। তাদের সঙ্গে এশিয়ান, আফ্রিকানদের অনেকে মেসির ১০ নম্বর জার্সি জড়িয়ে মেট্রোয় এমনভাবে স্প্যানিশ সুর তুলছে, তাদেরও আলাদা করা যাচ্ছে না। দেশ-বিদেশের এত মেসিভক্তের আনাগোনা চোখ এড়ায়নি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমেরও। ‘দর্শক কিন্তু ম্যাচ জেতায় না, মাঠের ১১ জনকে ম্যাচ জেতাতে হয়। আমরা চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলব কাল।’ গতকাল সাংবাদিকদের সামনে এসে এভাবেই শান্ত স্বরে হুমকিটা দিয়ে যান ফরাসি কোচ। তবে দলের পাঁচ খেলোয়াড় জ্বরে ভুগছেন, পশ্চিমা মিডিয়া যাকে ‘ক্যামেল ফ্লু’ বলছে। ফাইনালে র‌্যাবিওটসহ ওই পাঁচজনকে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিতে হচ্ছে ফ্রান্সকে। অবশ্য বিশ্বকাপের আগে বেনজেমাসহ এমন পাঁচ খেলোয়াড় ছাড়াই কাতার এসেছে তারা। দলে এমবাপ্পে, জিরুদ আর গ্রিজম্যান থাকলে বাকি জায়গাগুলো নিয়ে খুব বেশি ভাবার নেই বোধ হয় দেশমের। অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথমে গোল খেয়ে শুরু হয় এবারের ফ্রান্সের বিশ্বকাপযাত্রা। তার পর থেকে শুধুই গোলমুখে আক্রমণ ফরাসিদের। মাঝে রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়ে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে অবশ্য তিউনিসিয়ার কাছে হারতে হয় তাদের। তবে মরক্কোর সঙ্গে সেমিফাইনালের ম্যাচে ফ্রান্সের ডিফেন্সের দুর্বলতা কিছুটা ধরা পড়েছে। গতকাল তা নিয়ে কথাও শুনতে হয় ফ্রান্সের অধিনায়ক হুগো লরিসকে। ভারানে আর হার্নান্দেজকে দিয়ে দু’দিকে ঠিক সামলাতে পারেনি সেদিন ফ্রান্স। তা ছাড়া নকআউটে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সকে টাইব্রেকারের মুখোমুখি হতে হয়নি। সেদিক থেকে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের কিন্তু আত্মবিশ্বাস বেশি থাকবে।

এমনিতে দু’দলের মোট ১২ বারের দেখায় আর্জেন্টিনার জয় ৬টিতে, ফ্রান্সের ৩টিতে। তা ছাড়া সম্প্রতি উয়েফা নেশন্স লিগেও ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে ওপরের দিকে থাকতে পারেনি। কিন্তু মঞ্চ যখন বিশ্বকাপের আর দলটি যখন ফ্রান্স, সঙ্গে দেশম আর এমবাপ্পের জুটি- তখন ‘মেসি আবেগে’র বাইরে বেরিয়ে ভাবতে হবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদেরও। যদিও এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারার পর সত্যিকারের ধাক্কাটা খেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তার পর মেক্সিকোর বিপক্ষে মেসির ৬৪ মিনিটের ওই গোলটিই আর্জেন্টিনাকে যেন পুনর্জন্ম দেয়। একে একে মেক্সিকো, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস আর ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে এখন লাতিনের এই দেশ। শেষবার ২০০২ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল। তার পর কিন্তু লাতিনের কোনো দেশ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। হয়তো সে কারণেই ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক কাফুও চান, কাপটা উঠুক মেসির হাতেই। ২০১৪ সালে মেসি নৈপুণ্যে ফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। এবার আর মেসি একা নন, তাঁর ব্রিগেডে আছেন আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজরা। অপেক্ষা কেবল রূপকথার সফল সমাপ্তির।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।