খুঁজুন
, ,

আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ফাইনাল আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 18 December, 2022, 12:12 pm
আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ফাইনাল আজ

আরবের লোককথায় সম্রাট শাহরিয়ারকে গল্প শোনানোর জন্য তাঁর স্ত্রী শেহেরজাদির ১ হাজার ১ রাত লেগেছিল। রহস্য ও ধাঁধার সঙ্গে আরব্য রজনির গল্প শেষ হয়েছিল ভালোবাসার প্রাপ্তি আর স্বীকৃতিতে। সারাবিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের বিশ্বকাপের গল্প শোনাতে ফিফা অবশ্য ২৮ দিনের বেশি সময় নেয়নি। রহস্য আর ধাঁধা এই বিশ্বকাপের আরব্য উপন্যাসেও কম ছিল না। ফাইনাল ঘিরে দোহার হৃদয়ে যেভাবে মেসিম্যানিয়া চলছে, তা দেখেই কৌতূহল- তবে কি মরুর এই বিশ্বকাপের শেষটাও আবেগের বিস্ম্ফোরণ আর ভালোবাসার স্বীকৃতিতে শেষ হবে? ৩৫ বছর পর আর্জেন্টিনার হাতে বিশ্বকাপ উঠবে, নাকি টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রান্সের কাছেই থেকে যাবে ফুটবলের কোহিনূর? পশ্চিমা মিডিয়ায় এই ফাইনালের নাম হয়ে গেছে মেসি বনাম এমবাপ্পে। মেসির শ্রেষ্ঠত্বের তর্কমুক্ত পূর্ণতা মিলবে যদি আজ ট্রফি জিততে পারেন তিনি। অন্যদিকে, পেলের সঙ্গে তুলনাটা চলে আসবে আজ এমবাপ্পের হাতে ট্রফি উঠলে। দুই তারকার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ের অমোঘ মধ্যাকর্ষণে তেতে আছে কাতারের মরুতট। আর তা দেখার জন্য তন্ময় হয়ে অপেক্ষায় আছে গোটা ফুটবলবিশ্ব।

তারা যেমন মেসির বাঁ পায়ের জাদু দেখতে চায়, তেমনি এমবাপ্পের চিতার গতিও দেখতে চায়। হাফ লাইন থেকে চঞ্চল গ্রিজম্যান তাদের যেমন মুভ করে, তেমনি এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ঈগলের মতো ছোঁ মারার দৃশ্যও আকর্ষণ করে। আক্রমণের শৈলীতে, রক্ষণের কারুতে, মাঝমাঠের বল দখলে- দু’পাশেই এত সমান সমান ভার যে সামান্য বাতাসেই ঝুঁকে যে কোনো দিক পাল্লা। তাই সত্যিকার অর্থেই দারুণ একটি ফাইনাল উপভোগ করতে যাচ্ছে সবাই। গতকাল মিডিয়া সেন্টারের ক্লিন্সম্যান আর আর্সেন ওয়েঙ্গার একটি অনুষ্ঠান করে এভাবেই আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্স ম্যাচের স্বাদ বোঝাচ্ছিলেন। কিন্তু দু’জনেই অন্তত একটি ব্যাপারে একমত, আবেগে ফ্রান্সের চেয়ে আর্জেন্টিনা বেশি এগিয়ে। দোহায় এ মুহূর্তে প্রায় ৪০ হাজার আর্জেন্টাইন পাসপোর্টে অ্যারাইভাল সিল লাগিয়ে শহরে ঘুরছে। তাদের সঙ্গে এশিয়ান, আফ্রিকানদের অনেকে মেসির ১০ নম্বর জার্সি জড়িয়ে মেট্রোয় এমনভাবে স্প্যানিশ সুর তুলছে, তাদেরও আলাদা করা যাচ্ছে না। দেশ-বিদেশের এত মেসিভক্তের আনাগোনা চোখ এড়ায়নি ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমেরও। ‘দর্শক কিন্তু ম্যাচ জেতায় না, মাঠের ১১ জনকে ম্যাচ জেতাতে হয়। আমরা চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলব কাল।’ গতকাল সাংবাদিকদের সামনে এসে এভাবেই শান্ত স্বরে হুমকিটা দিয়ে যান ফরাসি কোচ। তবে দলের পাঁচ খেলোয়াড় জ্বরে ভুগছেন, পশ্চিমা মিডিয়া যাকে ‘ক্যামেল ফ্লু’ বলছে। ফাইনালে র‌্যাবিওটসহ ওই পাঁচজনকে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিতে হচ্ছে ফ্রান্সকে। অবশ্য বিশ্বকাপের আগে বেনজেমাসহ এমন পাঁচ খেলোয়াড় ছাড়াই কাতার এসেছে তারা। দলে এমবাপ্পে, জিরুদ আর গ্রিজম্যান থাকলে বাকি জায়গাগুলো নিয়ে খুব বেশি ভাবার নেই বোধ হয় দেশমের। অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথমে গোল খেয়ে শুরু হয় এবারের ফ্রান্সের বিশ্বকাপযাত্রা। তার পর থেকে শুধুই গোলমুখে আক্রমণ ফরাসিদের। মাঝে রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়ে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে অবশ্য তিউনিসিয়ার কাছে হারতে হয় তাদের। তবে মরক্কোর সঙ্গে সেমিফাইনালের ম্যাচে ফ্রান্সের ডিফেন্সের দুর্বলতা কিছুটা ধরা পড়েছে। গতকাল তা নিয়ে কথাও শুনতে হয় ফ্রান্সের অধিনায়ক হুগো লরিসকে। ভারানে আর হার্নান্দেজকে দিয়ে দু’দিকে ঠিক সামলাতে পারেনি সেদিন ফ্রান্স। তা ছাড়া নকআউটে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সকে টাইব্রেকারের মুখোমুখি হতে হয়নি। সেদিক থেকে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের কিন্তু আত্মবিশ্বাস বেশি থাকবে।

এমনিতে দু’দলের মোট ১২ বারের দেখায় আর্জেন্টিনার জয় ৬টিতে, ফ্রান্সের ৩টিতে। তা ছাড়া সম্প্রতি উয়েফা নেশন্স লিগেও ফ্রান্স গ্রুপ পর্বে ওপরের দিকে থাকতে পারেনি। কিন্তু মঞ্চ যখন বিশ্বকাপের আর দলটি যখন ফ্রান্স, সঙ্গে দেশম আর এমবাপ্পের জুটি- তখন ‘মেসি আবেগে’র বাইরে বেরিয়ে ভাবতে হবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদেরও। যদিও এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারার পর সত্যিকারের ধাক্কাটা খেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তার পর মেক্সিকোর বিপক্ষে মেসির ৬৪ মিনিটের ওই গোলটিই আর্জেন্টিনাকে যেন পুনর্জন্ম দেয়। একে একে মেক্সিকো, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস আর ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে এখন লাতিনের এই দেশ। শেষবার ২০০২ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল। তার পর কিন্তু লাতিনের কোনো দেশ বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। হয়তো সে কারণেই ব্রাজিলের সাবেক অধিনায়ক কাফুও চান, কাপটা উঠুক মেসির হাতেই। ২০১৪ সালে মেসি নৈপুণ্যে ফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। এবার আর মেসি একা নন, তাঁর ব্রিগেডে আছেন আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজরা। অপেক্ষা কেবল রূপকথার সফল সমাপ্তির।

Feb2
Feb2

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিপইয়ার্ডে ‘শূন্য প্রাণহানি’ নিশ্চিতের তাগিদ চট্টগ্রাম ডিসির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:10 pm
শিপইয়ার্ডে ‘শূন্য প্রাণহানি’ নিশ্চিতের তাগিদ চট্টগ্রাম ডিসির

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ কাটার আগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন।

গত ১৪ আগস্ট ওই ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক ও নগদ অর্থ তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জাহাজভাঙা শিল্পকে “জিরো ক্যাজুয়ালটি” বা শূন্য প্রাণহানির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে হবে। একই সঙ্গে এখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

দুর্ঘটনাটি হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের কারণে ঘটেছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাসটি তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে অপসারণের মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ছিল না। স্থানীয় বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের কাছেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ছিল না। বিশেষ করে এলএনজি বা গ্যাসবাহী জাহাজ কেনা ও কাটার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে থাকায় তদন্তকারীরা শুরুতে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে গ্যাস বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

জাহাজের ভেতরে গ্যাস কীভাবে জমে ছিল এবং কাটার আগে কেন তা অপসারণ করা হয়নি—এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। মতামত পাওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরিবার প্রতি ১০ লাখ টাকা

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারের জন্য বিএসবিআরএ ও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলোকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। শিল্পনীতির বিধান অনুযায়ী দুই লাখ টাকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ বাকি সাত লাখ টাকার চেক নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ডে বসবাসকারী পাঁচ নিহত শ্রমিকের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচটি পরিবার তাদের স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এই অর্থ পাবে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। তারপরও উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে কোনো পরিবার যেন পথে না বসে কিংবা অন্যের কাছে হাত পাততে বাধ্য না হয়, সে জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা দেয়।

দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদারক করবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান

জেলা প্রশাসক বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা কোনোভাবেই ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে মালিকপক্ষ এবং শ্রম দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে হবে।

শিল্পের কোনো দুর্বলতা বা নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প যেন কোনো ধরনের সংকটে না পড়ে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএসবিআরএর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী নিহত শ্রমিকদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি শিল্পে নিয়োজিত সবার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

দুর্ঘটনার জন্য ক্ষমা চান ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকবে। এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বিসহ জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে কাজ করার সময় শ্রমিকেরা বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হন। ঘটনাস্থলে নয়জনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

মাইজভাণ্ডারী আশেকান সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 7:42 pm
মাইজভাণ্ডারী আশেকান সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

দপ্তরে মাইজভাণ্ডারী আশেকান সোসাইটির উদ্যোগে শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড় মিউনিসিপ্যাল স্কুল হতে পবিত্র মহান ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা ও জশনে জুলুস বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালীটি পূনরায় স্কুল মাঠে ফিরে যায়।

৩০তম আওলাদে রাসুল (দ.), শাহসুফি সৈয়দ ওসমান কাদের মাইজভাণ্ডারী (মাঃ) এর সদারতে, শাহজাদা সৈয়দ মারুফ বিন কাদের মাইজভাণ্ডারী (মাঃ)’র সভাপতিত্বে এতে প্রধান মেহমান ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আহমদুল আলম চৌধুরী রাসেল, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক ইসরাফিল খসরু।

এডভোকেট মীর মুহাম্মদ ফেরদৌসুল আলমের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন খান, কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ জাহেদ, আব্দুল কুদ্দুস মাইজভাণ্ডারী, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আল্লামা সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আল্লামা সৈয়দ জাফর সাদেক, মুফতি সালেহ সুফিয়ান ফরহাদাবাদী, সৈয়দ আবুল হাসেম, আল্লামা শহীদুল্লাহ চিশতি, সুমন মাহমুদ চৌধুরী, আল্লামা রবিউল প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মীর সোহাইব, নাসির ফকির, কবির ফকির, তারেক হায়দার, ইমরান হোসাইন বাপ্পি, মোক্তার হোসাইন, কবির, রবিন, সুমন, রাজু, আলভী, শাকিল, হান্নান, নজু ভান্ডারের আওলাদগন।

এতে অংশ নেন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। সবশেষে বা’দ জুমা দেশ ও জাতির কল্যাণে আখেরী মোনাজাত দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।