খুঁজুন
, ,

রান উৎসবের ম্যাচে বরিশালকে উড়িয়ে দিল সিলেট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 January, 2023, 12:02 am
রান উৎসবের ম্যাচে বরিশালকে উড়িয়ে দিল সিলেট

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই মিরপুর শেরেবাংলায় দেখা দিল রান উৎসব। ফরচুন বরিশালের ১৯৪ রান ১ ওভার হাতে রেখেই টপকে গেল সিলেট স্ট্রাইকার্স। ৬ উইকেটের দারুণ জয়ে শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ন রাখল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। অন্যদিকে বৃথা গেল সাকিব আল হাসানের বিধ্বংসী ফিফটি। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে সিলেটের জয় নিশ্চিত করলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে যাওয়া মুশফিকুর রহিম আর লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা।

বড় স্কোর তাড়ায় নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রান আউট হন কলিন আকারম্যান (১)। দুর্দান্ত থ্রো করেন খালেদ আহমেদ। এরপরই দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ বলে ১০১ রানের দারুন জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত আর তৌহিদ হৃদয়। ৩৯ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৪৮ করে সঙ্গীর সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান শান্ত। এরপর মিরাজকে বাউন্ডারি মেরে ৩০ বলে ফিফটি তুলে নেন তৌহিদ হৃদয়। উইকেটে এসেই দারুণ সব শট খেলতে থাকেন জাকির হাসান। একবার অবশ্য সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচেও যান। ৩৪ বলে ৫৫ রান করে তৌহিদ হৃদয় এলবিডাব্লিউ হয়ে যান। শিকারি করিম জানাত।

এই আফগান পেসারকে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন মুশফিক। জয়ের সুবাস পেতে থাকে সিলেট। ১৭তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে প্রতিরোধ গড়েন পেসার খালেদ আহমেদ। জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে সিলেটের প্রয়োজন পড়ে ২৭ রানের। ডিসিলভার করা প্রথম বলে ছক্কা মারেন জাকির। পরের বলটি উড়িয়ে মারতে গিয়ে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে থামে তার ১৮ বলে ৪টি চার এবং ৩টি ছক্কায় ৪৩ রানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিম আর থিসারা পেরেরা বিধ্বংসী ব্যাটে ১ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিলেট স্ট্রাইকার্স।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৯৪ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ফরচুন বরিশাল। চতুরাঙ্গা ডি সিলভা এবং এনামুল হক ৭.২ ওভারে ৬৭ রান তুলে ফেলেন। পাওয়ারপ্লেতে আসে বিনা উইকেটে ৫৪ রান। অবশেষে ২১ বলে ২৯ করা এনামুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। পরের ওভারে ইমাদ ওয়াসিমের বলে মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়েন ২৫ বলে ৩৬ করা অপর ওপেনার চতুরাঙ্গা। তবু কমেনি বরিশালের রানের গতি। বিধ্বংসী মেজাজে থাকা সাকিবের ব্যাটে ভর করে ১০ ওভারে আসে ৯১ রান। দ্বিতীয় স্পেলে এসেই ইফতেখারকে (১৩) ফেরান মাশরাফি। এরপর জমে ওঠে সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটি।

মোহাম্মদ আমিরের বলে ইমাদ ওয়াসিম সহজ ক্যাচ ছাড়ায় ব্যক্তিগত ৩৩ রানে জীবন পান সাকিব। ১৯ বলে ৩০ রানের জুটি ভাঙে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে। ১২ বলে ১৯ রান করে থিসারা পেরেরার শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। এরপর ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। অন্য প্রান্তে ম্লান হায়দার আলী ৬ বলে ৩ রান করে বোল্ড হয়ে যান। মাশরাফির করা শেষ ওভারের প্রথম বলে দারুণ এক ক্যাচে সাকিবকে থামান মোহাম্মদ আমির। সাকিব খেলেছেন ৩২ বলে ৬৭ রানের ইনিংস। যাতে ছিল ৭ চার এবং ৪ ছক্কা। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯৪ তোলে বরিশাল। ৪ ওভারে ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন মাশরাফি।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।