খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড,অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য জিএমকে অনুরোধ সুজনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০, ৮:০১ অপরাহ্ণ
রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড,অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য জিএমকে অনুরোধ সুজনের

চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং করোনা পরীক্ষায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) সরদার সাহাদাত আলী’র সাথে তাঁর সিআরবি দফতরে মতবিনিময়কালে এ অনুরোধ জানান।

এ সম সুজন বলেন, করোনাকালীন সময়ে চট্টগ্রামের জনগনের স্বাস্থ্য সেবার বর্তমান পরিস্থিতি সকলের মতো আপনিও অবগত আছেন। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নিত্য নতুন মানুষ। আমি কিংবা আপনি আমরা কেউই বিপদমুক্ত নই। তারপরও মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে মানবতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দাদের বিশাল জায়গা জমি তৎকালীন সময়ে রেলওয়ের আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই চট্টগ্রামের জনগনের আবেদন হলো এই দুঃসময়ে আমরা রেলওয়েকে আমাদের পাশে পেতে চাই। আমি চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আপনার কাছে এ অনুরোধ জানাতে এসেছি।

সুজন রেলওয়ে হাসপাতালটির ১০০ সিট করোনা রোগীদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্ধ করায় জেনারেল ম্যানেজারকে কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, নগরীর কোলাহলমুক্ত এ হাসপাতালটি পরিপূর্ণভাবে করোনা রোগীদের উপযোগী করে প্রস্তুত করে তুলতে পারলে চট্টগ্রামের রোগীসহ সর্বস্তরের জনগন উপকৃত হবে। এক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটিতে আইসিইউ বেড এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন। তাছাড়া করোনা রোগীদের জীবন বাঁচাতে এ মূহুর্তে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন। তাই দ্রুততার সাথে অক্সিজেন প্ল্যান্টটি স্থাপনে জেনারেল ম্যানেজারের আশু দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে একটি বিশাল পরিবার। এখানে রেলওয়ের রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী। এরা প্রতিদিনই ট্রেন পরিচালনা, মেরামত, পার্সেল এবং যাত্রী সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সংস্পর্শে আসছেন অথচ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব রয়েছে তাদের। এর মধ্যে যদি কেউ কোভিড আক্রান্ত হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া অমূলক নয়। ইতিমধ্যে কোভিড আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন শ্রমিক কর্মচারীরও মৃত্যু হয়েছে। রেলওয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্টান। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় রেলওয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিসত্বর রেলওয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সর্বস্তরের স্টাফদের করোনা পরীক্ষার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন অতীব জরুরি। পিসিআর ল্যাবের অভাবে অনেকে সঠিক সময়ে পরীক্ষা করতে পারছেন না, আর পরীক্ষা করলেও রিপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রিতায় পড়তে হচ্ছে। এতে করে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্টান বাংলাদেশ রেলওয়েতে যে কোন সময় করোনা মারাত্মক আঘাত হানতে পারে। তাই দেশের অর্থনীতির চাঁকা সচল রেখে যোগাযোগের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রেলওয়েকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা একান্ত জরুরি।

তিনি রেলওয়ে পরিবারের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তাদের জন্য একটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনেরও আবেদন জানান।

তাছাড়া পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মচারী প্রতিদিন রেলের মেরামতের কাজ করে। তাদেরও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট রয়েছে। অতিসত্বর এখানে একটি আধুনিক পিসিআর ল্যাব স্থাপন করলে সেখানে প্রয়োজনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেলওয়ের শ্রমিক কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার পর নগরবাসীও এর সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম হয়ে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার যাওয়ার পথে রামু হবে জংশন স্টেশন। সেখান থেকে একটি লাইন চলে যাবে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পাশে। আরেকটি লাইন পূর্বদিকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম যাবে। এ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক মিয়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-ইরান হয়ে যাবে ইউরোপের তুরস্ক পর্যন্ত। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন স্থাপিত হলে যোগাযোগসহ দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বারও বিস্তৃত হবে। তখন চট্টগ্রাম রেলওয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্টানে পরিণত হবে। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দ্রুততার সাথে চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হলে করোনা পরিস্থিতির পর রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারীরাই এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার সরদার সাহাদাত আলী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে তাঁর দফতরে স্বাগত জানান।

তিনি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের কর্মকান্ডের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস একটি জাতীয় দুর্যোগ। এ দুর্যোগে কারো বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। সবাইকে যার যার সামর্থ্যে এগিয়ে আসতে হবে মানবতার কল্যাণে। আপনারা জানেন ঢাকার মতো চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালটিও করোনা রোগীদের ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অক্সিজেন প্ল্যান্টটি স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনারের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। দ্রুততার সাথে অক্সিজেন প্ল্যান্টটি স্থাপনে আমি নিজ উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্টানের সাথে আলোচনা করেছি। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবো আমরা।

এছাড়া পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় আছে। আমাদের কর্মকতা, কর্মচারীসহ সর্বস্তরের স্টাফদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী মহোদয় নিজে বিষয়টি মনিটরিং করছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।

এর আগে সুজন চট্টগ্রামের ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার সহযোগিতা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন।

তিনি চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা ও দেশের বৃহত্তম রপ্তানি কেন্দ্র সচল এবং নিরাপদ রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করেন। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস চট্টগ্রামের ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সুজন নগরীর বায়েজিদে অবস্থিত মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে সম্পূর্ণ করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করা দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদকে আজ সকালে ফোন করে অভিনন্দন জানান। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন প্ল্যান্টসহ স্বাস্থ্য সেবা সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করায় চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করেন।

সুজন এস আলম গ্রুপের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের বাকী শিল্পগোষ্ঠীকে এগিয়ে আসার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজারের সাথে মতবিনিময়ের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, নুরুল কবির, মোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় রেল শ্রমিক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সহ-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রকিবুল আলম সাজ্জী, শাহাদাত হোসেন প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাঁদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাঁদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।

তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।

তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে যান, তাঁরা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ।

যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়।

দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরবে সব সেনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরবে সব সেনা

আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠপর্যায়ে থাকা সব সেনা সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনা সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে আগামী ৬ জুন থেকে। শুরুতে দূরবর্তী জেলা থেকে ব্যারাকে ফেরানো হবে সেনা সদস্যদের। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে তাদের। এভাবে জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হবে মাঠ থেকে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে তারা।’

এর আগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ায় মাঠেই থেকে যায় সেনাবাহিনী। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনেও দায়িত্ব পালন করেছেন সেনাসদস্যরা।

সারা দেশে মাঠপর্যায়ে এখনো ১৭ হাজার সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে চূড়ান্ত প্রত্যাহার করতে বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তার কারণ হিসেবে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে করতে সদস্যরা ক্লান্ত, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের চূড়ান্তভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া

জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসের পর বাড়লো লঞ্চভাড়াও। একজন যাত্রীর লঞ্চভাড়া কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা ও বেশি দূরত্বে ১৪ পয়সা বেড়েছে। কম দূরত্বে লঞ্চের ভাড়া ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

লঞ্চভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ১৮ পয়সা বেড়ে ২ টাকা ৯৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ভাড়া ২ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে ১৪ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়েছে।

নতুন ভাড়া মঙ্গলবার (৫ মে) থেকেই কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’ এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার নৌযানে যাত্রী পরিবহনের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ে। জ্বালানি তেলের নতুন দাম ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়। এরপরই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন মালিক ও শ্রমিকরা। দফায় দফায় সরকারের সঙ্গে মিটিং করেন তারা।

পরে গত ২৩ এপ্রিল ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ওইদিনই ভাড়া বাড়িয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওইদিন থেকে কার্যকর হয় নতুন ভাড়া।