খুঁজুন
, ,

রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড,অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য জিএমকে অনুরোধ সুজনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 17 June, 2020, 8:01 pm
রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড,অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য জিএমকে অনুরোধ সুজনের

চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং করোনা পরীক্ষায় পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) সরদার সাহাদাত আলী’র সাথে তাঁর সিআরবি দফতরে মতবিনিময়কালে এ অনুরোধ জানান।

এ সম সুজন বলেন, করোনাকালীন সময়ে চট্টগ্রামের জনগনের স্বাস্থ্য সেবার বর্তমান পরিস্থিতি সকলের মতো আপনিও অবগত আছেন। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নিত্য নতুন মানুষ। আমি কিংবা আপনি আমরা কেউই বিপদমুক্ত নই। তারপরও মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে মানবতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রামের আদি বাসিন্দাদের বিশাল জায়গা জমি তৎকালীন সময়ে রেলওয়ের আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই চট্টগ্রামের জনগনের আবেদন হলো এই দুঃসময়ে আমরা রেলওয়েকে আমাদের পাশে পেতে চাই। আমি চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আপনার কাছে এ অনুরোধ জানাতে এসেছি।

সুজন রেলওয়ে হাসপাতালটির ১০০ সিট করোনা রোগীদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্ধ করায় জেনারেল ম্যানেজারকে কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, নগরীর কোলাহলমুক্ত এ হাসপাতালটি পরিপূর্ণভাবে করোনা রোগীদের উপযোগী করে প্রস্তুত করে তুলতে পারলে চট্টগ্রামের রোগীসহ সর্বস্তরের জনগন উপকৃত হবে। এক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটিতে আইসিইউ বেড এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন। তাছাড়া করোনা রোগীদের জীবন বাঁচাতে এ মূহুর্তে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন। তাই দ্রুততার সাথে অক্সিজেন প্ল্যান্টটি স্থাপনে জেনারেল ম্যানেজারের আশু দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে একটি বিশাল পরিবার। এখানে রেলওয়ের রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী। এরা প্রতিদিনই ট্রেন পরিচালনা, মেরামত, পার্সেল এবং যাত্রী সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সংস্পর্শে আসছেন অথচ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব রয়েছে তাদের। এর মধ্যে যদি কেউ কোভিড আক্রান্ত হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া অমূলক নয়। ইতিমধ্যে কোভিড আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন শ্রমিক কর্মচারীরও মৃত্যু হয়েছে। রেলওয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্টান। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় রেলওয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিসত্বর রেলওয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সর্বস্তরের স্টাফদের করোনা পরীক্ষার জন্য একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন অতীব জরুরি। পিসিআর ল্যাবের অভাবে অনেকে সঠিক সময়ে পরীক্ষা করতে পারছেন না, আর পরীক্ষা করলেও রিপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রিতায় পড়তে হচ্ছে। এতে করে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্টান বাংলাদেশ রেলওয়েতে যে কোন সময় করোনা মারাত্মক আঘাত হানতে পারে। তাই দেশের অর্থনীতির চাঁকা সচল রেখে যোগাযোগের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রেলওয়েকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা একান্ত জরুরি।

তিনি রেলওয়ে পরিবারের কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তাদের জন্য একটি আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনেরও আবেদন জানান।

তাছাড়া পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপেও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মচারী প্রতিদিন রেলের মেরামতের কাজ করে। তাদেরও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট রয়েছে। অতিসত্বর এখানে একটি আধুনিক পিসিআর ল্যাব স্থাপন করলে সেখানে প্রয়োজনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেলওয়ের শ্রমিক কর্মচারীর করোনা পরীক্ষার পর নগরবাসীও এর সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম হয়ে দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার যাওয়ার পথে রামু হবে জংশন স্টেশন। সেখান থেকে একটি লাইন চলে যাবে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পাশে। আরেকটি লাইন পূর্বদিকে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম যাবে। এ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক মিয়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-ইরান হয়ে যাবে ইউরোপের তুরস্ক পর্যন্ত। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন স্থাপিত হলে যোগাযোগসহ দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বারও বিস্তৃত হবে। তখন চট্টগ্রাম রেলওয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্টানে পরিণত হবে। তাই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দ্রুততার সাথে চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন প্ল্যান্ট এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হলে করোনা পরিস্থিতির পর রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারীরাই এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার সরদার সাহাদাত আলী অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে তাঁর দফতরে স্বাগত জানান।

তিনি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগের কর্মকান্ডের ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস একটি জাতীয় দুর্যোগ। এ দুর্যোগে কারো বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। সবাইকে যার যার সামর্থ্যে এগিয়ে আসতে হবে মানবতার কল্যাণে। আপনারা জানেন ঢাকার মতো চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালটিও করোনা রোগীদের ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অক্সিজেন প্ল্যান্টটি স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনারের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। দ্রুততার সাথে অক্সিজেন প্ল্যান্টটি স্থাপনে আমি নিজ উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্টানের সাথে আলোচনা করেছি। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবো আমরা।

এছাড়া পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় আছে। আমাদের কর্মকতা, কর্মচারীসহ সর্বস্তরের স্টাফদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী মহোদয় নিজে বিষয়টি মনিটরিং করছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।

এর আগে সুজন চট্টগ্রামের ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার সহযোগিতা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন।

তিনি চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা ও দেশের বৃহত্তম রপ্তানি কেন্দ্র সচল এবং নিরাপদ রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করেন। প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস চট্টগ্রামের ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সুজন নগরীর বায়েজিদে অবস্থিত মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে সম্পূর্ণ করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করা দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদকে আজ সকালে ফোন করে অভিনন্দন জানান। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন প্ল্যান্টসহ স্বাস্থ্য সেবা সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করায় চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করেন।

সুজন এস আলম গ্রুপের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের বাকী শিল্পগোষ্ঠীকে এগিয়ে আসার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজারের সাথে মতবিনিময়ের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, নুরুল কবির, মোরশেদ আলম, কেন্দ্রীয় রেল শ্রমিক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সহ-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রকিবুল আলম সাজ্জী, শাহাদাত হোসেন প্রমূখ।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।