খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে : ডা.শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে : ডা.শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও চসিক মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেছেন,মহামারী করোনা মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই করোনাকালে বিএনপি নেতারা সাধ্যমত অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। অথচ যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে তাদের জীবনযাপন এখন নিরাপদ নয়।

সরকারের সর্বশেষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া গায়েবী মামলায় নেতাকর্মীরা হাইকোর্টে জামিন নিতে আদালতে হাজির হলে তাদেরকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সরকার তাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার আবারো চালু করেছে। সরকার কোনও দিক সামাল দিতে পারছে না শুধু বিরোধীমতের নেতাদের দমনে উঠে পড়ে লেগেছে।

তিনি অবিলম্বে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ গায়েবী মামলায় গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের নিংশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ে থানা, ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময়কালে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়ে মানুষ মৃত্যুর মুখে পড়লেও সরকার তা নিয়ে কোন প্রকার চিন্তিত না। আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে জনগণকে আজ তার মাশুল দিতে হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের যে সমস্ত বিএনপি নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের জন্য শোক প্রকাশ করছি। বিএনপির ৪২ তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগররীর আওতাধীন সাংগঠনিক ওয়ার্ড সমূহে কর্মসূচি পালন করা হবে। চসিক নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী, ওয়ার্ড ও থানা কমিটি এবং মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্নয় করে এসব কর্মসূচী পালন করার আহবান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে অবৈধ সরকারের জুলুম নির্যাতনের মাত্রা এখন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যর্থ হলেও ভোট চুরির মতো জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ও ত্রাণ চুরিতে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি সফল হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মো. মিয়া ভোলা, শামসুল আলম, হাজী মো. আলী, শফিকুর রহমান স্বপন, মাহবুবুল আল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ আলমম, এসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধরী লিটন,জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আবুল হাশেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মশিউল আলম স্বপন, মহিলা দলের সভাপতি মনোয়য়ারা বেগম মনি, সহ সম্পাদক সালাউদ্দীন কায়সার লাভু, ইদ্রিস আলী, আবু মুছা, হাসান লিটন, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী,থানা বিএনপির সভাপতিবৃন্দ মনজুর রহমান চৌধুরী, হাজ¦ী বাবুল হক, মোশাররফ হোসেন ডেপ্টি, মামনুর রশিদ হুমায়ুন, হানিফ সওদাগর, সরফরাজ কাদের চৌধুরী রাসেল,ডা. নুরুল আফসার, মো. সেকান্দর, আলহাজ্ব সালাউদ্দীন, আবদুল্লাহ আল হারুন, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ আলহাজ্ব জাকির হোসেন, জাহিদ হাসান, রোকন উদ্দীন মাহমুদ, জসিম উদ্দীন জিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুর রহমান, শাহাব উদ্দীন, মাঈনুদ্দীন চৌধুরী মাঈনু, আবদুল কাদের জসিম, শরিফ উদ্দীন খান, নুর হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিবৃন্দ মশিউল আলম স্বপন, মো. ইলিয়াস, আকতার খান, আবদুল্লাহ আল ছগির, এস এম মফিজ উল্লাহ, মনজুর আলম মঞ্জু, মো. বেলাল, হাজ¦ী মো. ইলিয়াস, ইলিয়াস চৌধুরী, জানে আলম জিকু, মো. আসলাম, কাজী শামসুল আলম, রফিক চৌধুরী, মো. সাইফুল, খাজা আলাউদ্দীন, জাহিদ মাস্টার, রাসেল পারভেজ সুজন, মো. সেকান্দর, খন্দকার নুরুল ইসলাম, আলী আব্বাস খান, এস এম ফরিদুল আলম, মো. শরীফ, মোশাররফ জামান, আবু মুছা বাবলু, ফয়েজ আহমদ, ইসমাইল বালী, ফারুক আহমদ, আজম উদ্দীন, মো. আশরাফ, মো. হারুন, শায়েস্তা উল্লাহ, এফএ সেলিম, সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ হাসান লিটন, মামুন আলম, আবুল কালাম আবু, মাহবুব রানা, মো. ফিরোজ, সিরাজুল ইসলাম মুন্সী,হাসান ওসমান, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, ফরিদুল আলম, শফি উল্লাহ, একে আজাদ, নাসিম চৌধুরী, হাজ¦ী আবু ফয়েজ, এম এ হালিম বাবলু, হাজ¦ী এমরান, ইয়াকুব চৌধুরী নাজিম, সাব্বির আহমদ, জাহিদ উল্লাহ রাশেদ, আলী হায়দার, আনোয়ার হোসেন আরজু, জিয়াউর রহমান জিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সৈয়দ আবুল বশর, জসিম মিয়া, আবু সাঈদ হারুন, সাদেকুর রহমান রিপন, মো. হাসান, হাজ¦ী জাহেদ, মুজিবুর রহমান, মঞ্জুরুল কাদের, শফি মেম্বার, মো. হাসান, কামরুল ইসলাম, আবু মহসীন চৌধুরী, মো. হারুন, লিয়াকত আলী, জেসমিনা খানম, ছকিনা খাতুন, কামরুন নাহার লিজা, খালেদা বোরহান, মনোয়ারা বেগম, রুখসানা বেগম মাধু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।