খুঁজুন
, ,

ইলিয়াসের সঙ্গে কারিন লিভ টুগেদার করত: সুবাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 26 December, 2021, 1:42 pm
ইলিয়াসের সঙ্গে কারিন লিভ টুগেদার করত: সুবাহ

সম্প্রতি আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী সুবাহ শাহ হুমায়রাকে বিয়ে করেছেন গায়ক ইলিয়াস হোসেন। কিন্তু বিয়ের পরপরই ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই সুবাহকে বিয়ে করেছেন তিনি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ইলিয়াসের দ্বিতীয় স্ত্রী।

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) আত্মপক্ষ সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ইলিয়াসের তৃতীয় স্ত্রী মডেল সুবাহ।

ডিভোর্স লেটার দেখেই জড়িয়ে ছিলাম আমি। তাও বৈধভাবে ইভেন কারিন ও তার মা সুকন্যা দিপাকেও আমি নিজেই সব খুলে বলেছি যে আমরা দুজন বিয়ে করে ফেলবো। ইলিয়াস আমাকে বিয়ে করতে চায়, আমিও চাই। তাও ২ মাস আগে।

এখন যদি ওই মহিলারা অস্বীকার করেন যে কিছুই জানেন না! মানুষকে উল্টা-পাল্টা মিথ্যা বলে তাহলে আমার কাছে প্রমাণ আছে যে ইনফর্ম করেছিলাম তাদেরকে অনেক আগেই।

আর যদি কোনো পুরুষের ক্ষমতা থাকে বউ পালার সে একের অধিক বিয়ে করতে পারে। এমন তো না যে ডিভোর্স না দিয়ে বাচ্চা রেখে বিয়ে করেছে ইলিয়াস !! আর আমি তো জানি ইলিয়াসের সাথে কারিনই লিভ টুগেদার করেছিল কারণ হলো ওই বিয়ের কোনো লিগাল কাবিননামাই নেই!!! হাহাহা

ওই মেয়ে থাকে বিদেশে। তিন বছর ধরে বাংলাদেশে আসে না। শুধু মোবাইলে মোবাইলে কথা বললেই কি সংসার হয় নাকি? কারিন এবং তার মায়ের অনেক অবৈধ সম্পর্ক আছে বিদেশে এবং বাংলাদেশে, এটাও আমি জানি।

সে মেন্টালি ভাবে পেরা দিতো অলওয়েজ। এটা ইলিয়াসের সার্কেলের সবাই জানে যে ওরা ম্যারেড লাইফে কখনো হ্যাপি ছিল না। আর ওই মেয়ে তিন বছর ধরে বাংলাদেশে আসে না ফিজিক্যাল রিলেশনও ছিল না। আমি তখন ইলিয়াসের ভালো বন্ধু ছিলাম পরে আমাদের দুজনের ভালো লাগা থেকেই বিয়ের ডিসিশন নিয়েছি আমরা ফ্যামিলিগতভাবে। সবাইকে জানিয়ে যা করার করেছি। আমরা তো পাপ কিছু করিনি।

আমাকে আর ইলিয়াসকে যদি আপনাদের ভালো না লাগে প্লিজ ইগনোর করতে পারেন। আমাদের দুজনকে ফলো করার দরকার নাই। লাইক দেওয়ার দরকার নাই। আমরা দুজন দুজনের সাথে ভালো আছি সংসার নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ!

আমরা চেয়েছিলাম যখন ফাইনালি বড় করে অনুষ্ঠান করব তখন মিডিয়া পাবলিককে বলব। কিন্তু এতো অশান্তির জন্য তা করা সম্ভব হলো না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। বিনা কারণে হারেসমেন্ট করলে মানহানি মামলা করতে বাধ্য হব। আইন সবার জন্যই সমান। আমার কিছু বলার নেই আর।

জানা গেছে, কারিন নাজ সুইডেনের স্টোকহোমে থাকেন। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন তিনি। কারিনকে বিয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছিলেন ইলিয়াস। সেই সংসার বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

এখন পর্যন্ত সুবাহ অভিনয় করেছেন ৬টি সিনেমায়। তবে মুক্তি পায়নি একটিও। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই মুক্তি পাবে ‘বসন্ত বিকেল’ সিনেমাটি। ২০১৯ সালে এ সিনেমার মাধ্যমে নায়িকার খাতায় নাম লেখান সুবাহ।

ক্রিকেটার নাসিরের সাবেক প্রেমিকা মডেল ও অভিনেত্রী সুবাহ শাহ হুমায়রার সঙ্গে ইলিয়াসের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু সেটা নিশ্চিত না করে ইলিয়াস বলেছিলেন, আমরা ভালো বন্ধু।

সুবাহ বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজেদের গায়েহলুদের ছবি প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যমকে সুবাহ গায়েহলুদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের গায়েহলুদ হয়েছে।’ তবে কবে হয়েছে জানাননি। বিয়ে কবে হয়েছে- এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।

তবে সুবাহ ও ইলিয়াস কিছুদিন আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় কাছের কয়েকজন মানুষ ছিলেন।

এন-কে

Feb2
Feb2

দাপুটে জয়ে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 5 July, 2026, 3:11 am
দাপুটে জয়ে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমকের নাম ছিল মরক্কো। প্রথম কোনো আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলা আটলাস লায়নরা এবার সবার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। দাপুটে পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক কানাডাকে বিদায় করেছে হাকিমি-দিয়াজ-উনাহিরা।

হিউস্টনের এনার্জি স্টেডিয়ামে মরক্কো-কানাডা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় বিশ্বকাপের শেষ ষোলো। যেখানে মরক্কোর হয়ে আজ্জেদিন উনাহি জোড়া এবং সুফিয়ান রাহিমি এক গোল করেছেন। আশরাফ হাকিমির দলের দখলে ছিল ৫৩ শতাংশ বল। এ ছাড়া তারা ৫ শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে ১০ শটের ৩টি লক্ষ্যে ছিল কানাডার। তাদের বেশ কয়েকটি দারুণ আক্রমণ ঠেকিয়েছেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।

গোল না পেলেও মরক্কোর পরের দুটি গোলেই ছিল ব্রাহিম দিয়াজের অবদান। আফ্রিকার প্রথম কোনো ফুটবলার হিসেবে তিনি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় সেই রেকর্ড আরও উন্নীত করার সুযোগ আছে এই রিয়াল মাদ্রিদের তারকার সামনে।

অবশ্য ম্যাচের প্রথমার্ধে কানাডার তীব্র আক্রমণের চাপ সামলাতে হয়েছে মরক্কোকে। তবে বিরতির আগে আগে গোল পায়নি কেউই। দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে তারা দারুণ এক পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে এগিয়ে যায়। আক্রমণে আশরাফ হাকিমি বক্সে ক্রস না তুলে বলটি পাস দেন উনাহির দিকে। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট ঠেকাতে পারেননি কানাডা গোলরক্ষক ম্যাক্রিমে ক্রুপো।

সমতাসূচক গোলের খোঁজে কানাডা আক্রমণে মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ৮২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে ফেলেন উনাহি। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাহিম দিয়াজ বক্সে ঢুকে বল বাড়ান তার দিকে। উনাহি শক্তিশালী শটে বল জালের ওপরের কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান সুফিয়ান রাহিমি। বক্সের ভেতর থেকে ঠান্ডা মাথায় তিনি বল জালে জড়িয়ে কানাডাকে চূড়ান্ত হতাশা উপহার দেন।

মরক্কোর জয়ে গোলরক্ষক ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর। বিশেষ করে প্রথমার্ধে তানি ওলুওয়াসেই বক্সের ভেতরে চমৎকার টার্ন নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শট নিলে দারুণ দক্ষতায় সেটি প্রতিহত করেন বুনো। তার সেই সেভ মরক্কোকে গোল হজম করা থেকে রক্ষা করে। প্রথমার্ধে কানাডা একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও গোল করার মতো কার্যকারিতার অভাব ছিল স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতার মূল্য দিয়েই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

মাদকমুক্ত সমাজ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 9:31 pm
মাদকমুক্ত সমাজ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: মীর হেলাল

তরুণ ও কিশোর সমাজকে মাদকের কালো থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।

আজ শনিবার (০৪ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসব-২০২৬’ ফুটবল খেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, খেলাধুলা তরুণ ও কিশোরদের মরণনেশা মাদক থেকে দূরে রাখে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দূরদর্শী ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কিশোর ও তরুণদের পাঠ্যপুস্তকের পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক চর্চা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বাধ্যতামূলক করেছেন। এর ফলে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং একটি সুস্থ-সবল সমাজ বিনির্মাণ ত্বরান্বিত হচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের সাথে কুশল বিনিময় করেন। তিনি উপস্থিত তরুণ ও ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং দেশের সব ধরনের কল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা এবং কারিগরি ও আধুনিক সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য তরুণ প্রজন্মের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আবুল হাশেম বক্কর এর চমৎকার ব্যবস্থাপনায় এই উৎসবমুখর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একাদশ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি (সাদা দল)।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, খেলোয়াড় এবং বিপুল সংখ্যক ক্রীড়ামোদী দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 July, 2026, 5:53 pm
জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তবে বিচারের নামে কারো প্রতি যেনো অবিচার না হয়। এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। একটু বিলম্ব হোক তবুও অন্যায়কারীর যেনো সঠিক বিচার হয়। আমরা সেই চেষ্টাই করব।’

শনিবার (৪ জুলাই) আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি, আহতদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

মা প্রয়াত খালেদা জিয়া ও ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মূহুর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে, আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নেই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মূহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে– তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, তা একক কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। জনতার সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।’

জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে, যার সাহস আছে। আপনারা আপনজনকে হারিয়েছেন, কেউ কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। যে অঙ্গ হারিয়েছেন, তা ঠিক হয়ে যাবে? না, ঠিক হয়ে যাবে না। তবে সবাই মিলে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন– আপনার আপন জনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। তাই আসুন দেশ, মাটি এবং মানুষের কল্যাণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের দুঃখ বেদনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় স্বজনদের দুঃখ বেদনার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পানি চলে আসে।

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত এবং জাতীয় সংগীতের পর জুলাই আন্দোলনের ওপর প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জাতীয় এই সম্মেলনের মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মরক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন– শহীদ আবু সাইয়িদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবার শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া।

জুলাই বিপ্লবে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ, তার আর্তির কথা তুলে ধরেন।

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।