খুঁজুন
, ,

স্কু‌লের রাস্তা বন্ধ ক‌রে দোকান ঘর ও বা‌ড়ি নির্মান স্থানীয়‌দের ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 11 April, 2022, 9:23 pm
স্কু‌লের রাস্তা বন্ধ ক‌রে দোকান ঘর ও বা‌ড়ি নির্মান স্থানীয়‌দের ক্ষোভ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্র‌তি‌নি‌ধিঃ মিরসরাইয়ের ১৫ নং ওয়া‌হেদ পু‌র ইউ‌নিয়‌নের ১ নং গাছ বা‌ড়িয়া ওয়া‌র্ডে অব‌স্থিত গাছ বা‌ড়িয়া সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ‌্যাল‌য়ের ক‌য়েক শত ছাত্র ছাত্রী‌দের চলাচ‌লের রাস্তা বন্ধ ক‌রে দি‌য়ে জোর পূর্বক দোকান ঘর ও বা‌ড়ি নির্মা‌নের অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে। স্থা‌নিয় ইউ‌নিয়ন প‌রিষদ ও পু‌লিশ প্রশাস‌নের কা‌ছে বার বার অ‌ভি‌যোগ ক‌রেও রাস্তা উদ্ধার কর‌তে না পে‌রে ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে‌ছেন ভূক্ত‌ভো‌গিরা।

ওয়া‌হেদপুর ইউ‌নিয়‌নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার রা‌সেল জানান, সীট নং পূর্ব গাছবা‌ড়িয়া বিএস মূ‌লে দাগ নং ১৮৩৫ অনুযায়ী ১৮ ফিট প্রসস্থ ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সং‌যোগ থে‌কে গাছবা‌ড়িয়া সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ‌্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কি‌লো‌মিটার রাস্তা। কিন্তু ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সং‌যোগ থে‌কে প্রায় ১ কি‌লো‌মিটার রাস্তা ব্রিক স‌লিং থাক‌লেও আহম্মদ আলী মেস্ত্রী বা‌ড়ি অং‌শে এ‌সে রাস্তা‌টি চু‌রি হ‌য়ে গি‌য়ে‌ছে। রাস্তা দখল ক‌রে নির্মান করে‌ছে দোকান ঘর ও বসত বা‌ড়ি। এমন ভা‌বে স্থাপ‌না তৈ‌রি করা হ‌য়ে‌ছে যে রাস্তার কোন নিশানাও নেই। রাস্তার অভা‌বে শত শত মানু‌ষের চলাচল বি‌ঘ্নিত হ‌চ্ছে।

এছাড়‌া গাছবা‌ড়িয়া সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ‌্যাল‌য়ের কোমলম‌তি ছাত্রছাত্রীরা রাস্তা না পে‌য়ে অ‌ন্যের বা‌ড়ি ঘ‌রের উপর দি‌য়ে চলাচল কর‌তে হ‌চ্ছে। একজন ওয়ার্ড মেম্বার হি‌সে‌বে স্থা‌নিয় জনপ্র‌তি‌নি‌ধি হি‌সে‌বে আমার কা‌ছে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে‌ছেন রাস্তা ব‌্যবহারকারীরা। তা‌দের অ‌ভি‌যো‌গের ভি‌ত্তি‌তে দ‌লিলা‌দি যাচাই ক‌রে দেখা যায় রেকর্ড অনুযায়ি রাস্তার বয়স শত বছ‌রেরও বে‌শি। কিন্তু রাস্তা বন্ধ ক‌রে বিগত ক‌য়েক বছ‌রে আহম্মদ আ‌লি মেস্ত্রী বা‌ড়ির বা‌সিন্দা মৃত নুরুল আফছা‌রের ছে‌লে জিয়া উ‌দ্দিন মিন্টু (৩৫) জোর পূর্বক দোকান ঘর ও বসত বা‌ড়ি নির্মান ক‌রে তার বোন ও ভা‌গিনা‌কে ভাড়ায় হস্তান্তর ক‌রে‌ছে। রেকর্ড অনুযায়ী আর্মীটার দি‌য়ে মে‌পে রাস্তার জায়গা চিহ্নীত ক‌রে দোকান ঘর ও বসত‌বা‌ড়ি স‌রি‌য়ে নেওয়ার জন‌্য বার বার অনু‌রোধ করা হ‌লেও তা কর্ণপাত কর‌ছেনা তি‌নি। তি‌নি জনপ্র‌তি‌নি‌ধি, স্থা‌নিয় জনসাধারন, গণ‌্যমান‌্যব‌্যা‌ক্তি ও পু‌লিশ প্রশাসন কাও‌কেই পাত্তা দি‌চ্ছেন না।

মিরসরাই থানা প‌রিচা‌লিত নিজামপুর পু‌লিশ ফা‌ড়ির উপপ‌রিদর্শক এস আই রা‌কিব জানান, রাস্তা দখ‌লের অ‌ভি‌যোগ পে‌য়ে ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন ক‌রে অ‌ভিযুক্ত স্থা‌নে দোকান ঘর ও বসতবা‌ড়ির স্থাপনা দেখ‌তে পে‌য়ে‌ছি। যে‌হেতু জায়গা জ‌মির অ‌ভি‌যো‌গের মিমাংসা পু‌লিশ কর‌তে পা‌রেনা তাই তা‌দের‌কে পরামর্শ দি‌য়ে‌ছি স্থা‌নিয় ইউ‌নিয়ন প‌রিষদ অথবা কো‌র্টের মাধ‌্যমে সমাধান কর‌তে। ত‌বে দখল বেদখল‌কে কেন্দ্র ক‌রে যা‌তে কোন প্রকার অ‌প্রি‌তিকর ঘটনা না ঘ‌টে সে ব‌্যাপা‌রে সতর্ক করা হ‌য়ে‌ছে থানা প্রশাসন থে‌কে।

স্থানীয় বা‌সিন্দা শামসুল হুদা, শামীম আরা, জসীম উ‌দ্দিন, হুমায়ুন ক‌বির, নাজমুল হাসান, ম‌মিন হো‌সেন, নুরুল মোস্তফা, মোহাম্মদ আ‌লি, আব্দুল মান্নান সহ উপ‌স্থিত ভুক্ত‌ভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ ক‌রে জানান, শত বছর আ‌গের ১৮ ফিট প্রশস্থ সড়ক‌টির এক কিলো‌মিটা‌রের মাথায় আম‌ম্মেদ আলী মেস্ত্রী বাড়ীর মু‌খে ৪০ ফিট জায়গা অ‌বৈধ দখল ক‌রে এমন ভা‌বে দোকান ঘর ও বসত বা‌ড়ি নির্মাণ করা হ‌য়ে‌ছে যে রাস্ত‌টি দোকান ও বসত ঘ‌রের পে‌টের ভেত‌রে চ‌লে গে‌ছে। এছাড়‌া টি‌নের বেড়া দি‌য়ে চলাচ‌লের পথ বন্ধ ক‌রে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। একজন ব‌্যা‌ক্তি কার ক্ষমতার ব‌লে এ‌তো বড় অন‌্যায় করে তার ক্ষমতার বড়াই দেখা‌চ্ছে আমরা জান‌তে চাই। পু‌রোগ্রামবাসী সড়ক‌টির মেরামত চায় সড়ক‌টির দখলকৃত অংশ উদ্ধার চায়।

ঘটনার স্থল সরজ‌মি‌নে প‌রিদর্শ‌নে গি‌য়ে দেখা যায় সড়ক‌টির আহ‌মেদ আলী মেস্ত্রী বাড়ি পর্যন্ত গি‌য়ে দোকানঘর ও বসতঘ‌রে বি‌লিন হ‌য়ে গে‌ছে। দোকান ও বসত ঘর‌শে‌ষে আবার শুরু। মাঝখা‌নে প্রায় ৪৯ ফিট রাস্তা নেই। এ‌বিষ‌য়ে অ‌ভিযুক্ত জিয়া উ‌দ্দিন মিন্টু‌র কা‌ছে জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, রাস্তা সী‌টে থাক‌লেও এ‌টি কখ‌নো রাস্তা হি‌সে‌বে ব‌্যবহার ছিল না। দোকান ঘর রাম্তার অং‌শে প‌ড়েনাই। রেকর্ড অনুযায়ী রাস্তা ১৮‌ফিট রাস্তা ধরা হ‌লে স্থাপনার কিছু অংশ রাস্তাুয় প‌ড়ে। স্থা‌নিয় চেয়ারম‌্যান মেম্বার ও গন‌্যমান‌্য ব‌্যা‌ক্তিরা য‌দি টিহ্নীত ক‌রে‌দেন কতটুকু ছাড়‌তে হ‌বে তাহ‌লে সেই অনুযায়ী দখল ছে‌ড়ে দি‌তে আমার আপ‌ত্তি নেই। এব‌্যাপা‌রে আপ‌নি চেয়ারম‌্যা‌নের সা‌থে কথা বল‌তে পা‌রেন, চেয়ারম‌্যান বিষয়‌টি সম্প‌র্কে অবগত আ‌ছেন।

এব‌্যাপা‌রে ১৫ নং ওয়া‌হেদপুর ইউ‌নিয়‌নের চেয়ারম‌্যান ফজলুল ক‌বির ফি‌রোজ জানান, রাস্তার বিষয়‌টি মৌ‌খিক ভা‌বে জান‌লেও আমা‌কে লি‌খিত ভা‌বে এখ‌নো কেউ জানায়‌নি। ওয়ার্ড মেম্বার‌কে দা‌য়িত্ব দি‌য়ে‌ছি দ‌লিল পত্র যাচাই ক‌রে রাস্তা দখল থাক‌লে সে‌টি উদ্ধা‌রের ব‌্যাবস্থা নি‌তে।

Feb2
Feb2

জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 6:17 pm
জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, শহরকে নিজের শহর হিসেবে মনে করে এর সম্পদ, পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া জলাবদ্ধতাসহ নগরীর কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক উদ্বুদ্ধকরণ কমিটির কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপসচিব ড.কিসিঞ্জার চাকমা।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই শহর শুধু আমার শহর নয়। এই শহরে আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন, আমরা আছি এবং আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে বসবাস করবে। আমরা যতদিন পর্যন্ত মনে করতে না পারব যে এই শহর আমার, ততদিন সত্যিকার অর্থে শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখা সম্ভব হবে না। শহরের প্রতি এই মালিকানাবোধ ও দায়িত্ববোধ প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু শুধু অবকাঠামোগত প্রকল্প দিয়ে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, নালা-নর্দমায় বর্জ্য না ফেলা এবং পানি চলাচলের পথ দখল বা বাধাগ্রস্ত না করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনের কোনো উদ্যোগই পুরোপুরি সফল হবে না।

মেয়র আরও বলেন, আমরা অনেক সময় কোনো অনিয়ম দেখলে নিজের দায়িত্ব পালন না করে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও আমাদের দায়িত্ব। গতকাল বাংলাদেশের প্রথম ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক পরিদর্শন করেছি। আজ সেখানে একটি লরি রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি আমাদের নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয়? কেউ যদি সাইকেল ট্র্যাক দখল করে, ফুটপাত দখল করে বা নগরীর কোনো স্থাপনা নষ্ট করে, তাহলে শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনকে দোষারোপ না করে নাগরিকদেরও প্রতিবাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য নয়। কিন্তু আমরা নিজেরাই ফুটপাত দখল করে গাড়ি রাখছি, আবার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সমালোচনা করছি। এভাবে একটি শহরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিতে হবে, তেমনি নাগরিকদেরও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

মেয়র বলেন, শুধু সচেতনতার কথা বললেই হবে না, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যখন দেখবে কোনো অনিয়মের জন্য জরিমানা বা শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন অন্যরাও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হবে। গণসচেতনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ ও দৃশ্যমান জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপন করেছে। কিন্তু অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। নগরীর কোনো সম্পদ চুরি হতে দেখলে সেটিকে নিজের সম্পদ মনে করে নাগরিকদের প্রতিবাদ করতে হবে। একইভাবে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছ, স্থাপনা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করলে বা নিয়ে গেলে সেটিও প্রতিরোধ করা নাগরিকদের দায়িত্ব। কারণ এসব সম্পদ জনগণের টাকায় তৈরি; এগুলোর ওপর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে গ্রিন, ক্লিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে কাজ করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী তার পরিবারকে সচেতন করতে পারে, পরিবার থেকে সেই সচেতনতা সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এভাবেই একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধীরে ধীরে সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫২ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২ লাখ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়রের নির্দেশনায় গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে উপদেষ্টাদের পরামর্শে ১০৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ, প্রচার অভিযান, বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং গ্রিন অ্যাম্বাসেডর ঘোষণাসহ সাত দফা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শ্রেণিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে সপ্তাহের পাঁচ দিন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার শপথ পাঠ, প্রতি মাসে দুইবার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতি দুই মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তার পরিবারে পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবক, অভিভাবকের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নগরীর খাল, নালা, ড্রেন ও জলপ্রবাহের পথ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। শুধু সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না; নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু সমালোচনা নয়, ইতিবাচক কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে, নিজেরাও আইন মেনে চলতে হবে এবং অন্যদের আইন মানতে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই আমরা সম্মিলিতভাবে একটি সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা,চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল আলম কচি এবং থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক ওভিক ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুল হক। সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রোমিলা বড়ুয়া।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 5:46 pm
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্প দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটির গবেষকরা তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (১০ অক্টোবর ) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয়।

এ সময় প্রকল্পটির গবেষক কুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ও গবেষণার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও অবহিত হন।

প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনায় এটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন কুয়েটের গবেষকরা। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেল সমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন গবেষকরা।

এ সময় গবেষকরা জানান, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তারা জানান, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 2:51 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, নগরীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হলে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের শান্তিনগর এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামে ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে উদ্যোগী হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব কার্যক্রমের সুফল পেতে হলে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাকলিয়ায় আয়োজিত এ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগরবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, ইসমাইল বাবুল, মোহাম্মদ সেকান্দর, আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ ইমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের, আরিফুল ইসলাম ডিউক, নাসরিন আক্তার প্রমুখ।