খুঁজুন
, ,

অর্থহীন নির্বাচনে দুই হাজার কোটি টাকা নয় ছয়ের হিসাব জণগণকে দিতে হবে: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 4 January, 2024, 6:00 pm
অর্থহীন নির্বাচনে দুই হাজার কোটি টাকা নয় ছয়ের হিসাব জণগণকে দিতে হবে: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের জনগণের কষ্টার্জিত টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে আওয়ামীলীগ সরকার। আজকে দেশের অর্থনীতির করুণ অবস্থা। সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, শুধু ব্যাংক খাত থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এখন সেই লুটের টাকা ডামি ভোটে ঢালছে আওয়ামীলীগ। আজকে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী দল ছাড়াই একতরফা ডামি নির্বাচনের আয়োজন করেছে। গায়ের জোরে রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা নবায়ন করার চেষ্টা করছে। অথচ এই নির্বাচনকে শুধু বাংলাদেশের জনগণ নয়, গণতান্ত্রিক বিশ্বও প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘ ও অস্ট্রেলিয়া এই পাতানো নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। ইসির অর্থহীন সাজানো নির্বাচনে দুই হাজার কোটি টাকা নয় ছয়ের হিসাব জণগণকে দিতে হবে।

তিনি বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে বিআরটিসি ষ্টেশন রোড় ফলমন্ডি এলাকায় সরকার পতনের একদফা দাবি ও ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে জনমত তৈরির লক্ষ্যে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে এসব কথা বলেন।

তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে আসন ভাগাভাগির একতরফা ডামি নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানান।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যতই টালবাহানা করুক কোনো লাভ হবে না। তাদের ক্ষমতা ছেড়ে চলে যেতেই হবে।বিএনপির চলমান অসহযোগ আন্দোলনে জনগণ সাড়া দিয়ে বলছেন ‘আওয়ামী লীগ আর না, ডামি নির্বাচনে ভোট দেব না’। দেশের জনগণ, ভোটার ও সচেতন নাগরিকদের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা নিজে ভোট বর্জন করুন এবং ভোট বর্জনে অন্যকে উৎসাহিত করুন।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে। এই সরকারের কাছে জনগণ কোনো অবস্থাতেই নিরাপদ নয়। বর্তমান সরকার বিনা ভোটের সরকার। জনগণের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। তারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আবারও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পাঁয়তারা করছে। তাই সরকারকে পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। এই লক্ষ্যে গণআন্দোলন আরো জোরদার করা হবে।

এতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা হাজী আবু ফয়েজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ রিপন, মাঈনুদ্দীন খান রাজিব।

এছাড়া মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলমের নেতৃত্বে সকালে দেওয়ান হাট এলাকায় গার্মেন্টসের পোশাক শ্রমিকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। তাছাড়া মহানগর বিএনপির সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চান্দগাঁও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াছ চৌধুরী, জাফর আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক উসমান গণি ও কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মোহরা হামিদচর এলাকায়, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলালের নেতৃত্বে সরদার বাহাদুর স্কুল ক্যাম্প ও ফ্লোরা পাশ রোড এলকায়, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন, ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকতার খান, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সহ সভাপতি আমিনুর রহমান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল নাসের সাজ্জাদ, মহানগর যুবদলের সহ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মিন্টুর নেতৃত্বে কোতোয়ালি মোড় ও ফিরিঙ্গী বাজার এলাকায়, ইপিজেড থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে ইপিজেড এলাকায়, মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল হক টুটুল, হালিশহর থানা আহ্বায়ক কাফি মুন্নার নেতৃত্বে হালিশহর কে ব্লক বসুন্ধরা এলাকায়, মহানগর যুবদলের সি. সহ‌ সভাপতি ইকবাল হোসেন, সম্পাদক মো. ইকবাল, হালিশহর থানা যুবদলের আহবায়ক মোশাররফ হোসেন সোহেল, সদস্য সচিব হাবিব উল্লাহ খান রাজুর নেতৃত্বে হালিশহর এলাকায়,

মহানগর যুবদলের সি. সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকি, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উদ্দিন রাসেল, প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের নেতৃত্বে খতিবের হাট এলাকায়, মহানগর যুবদলের সহ‌ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, পাহাড়তলী থানা যুবদলের সদস্য সচিব শওকত খাঁন রাজু, বন্দর থানা যুবদলের সি. যুগ্ম আহবায়ক মো. ইয়াছিনের নেতৃত্বে বন্দর এলাকায়, চাঁন্দগাও থানা যুবদলের আহবায়ক গোলজার হোসেন, নগর যুবদলের সহ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ও থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাজিদ হাসান রনির নেতৃত্বে পূর্ব ষোলশহর শাহী আবাসিক এলাকায়, আকবর শাহ থানা যুবদলের সদস্য সচিব ইলিয়াছ খানের নেতৃত্বে ফিরোজ শাহ বিশ্ব কলোনি এলাকায়, বিএন‌পি নেতা আ‌জিজ উ‌দ্দিন মিন্ট‌ু ও মহানগর স্বেচ্ছা‌সেবক দ‌লের যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দীন নাহিদের নেতৃ‌ত্বে বায়েজীদ বোস্তামী ক্যান্টমেন্ট এলাকায়, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আলিফ উদ্দিন রুবেলের নেতৃত্বে শোলক বহর এলাকায়, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রবিউল হোসেন রবির নেতৃত্বে শাহ আমানত ব্রীজ এলাকায়, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুদ্দিন সবুজের নেতৃত্বে কর্ণফুলী ফকিরনীর হাট কাঁচা বাজার এলাকায়, আকবর শাহ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম সুজনের নেতৃত্বে কর্নেল হাট এলাকায়, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন খানের নেতৃত্বে বিবির হাট সুন্নিয়া মাদ্রাসা, নাজির পাড়া ও হিন্দু পাড়া এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

Feb2
Feb2

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 8:07 am
ইসরায়েলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল এবং সেখানকার ইহুদি জনগণের প্রতি নিজের অটল সমর্থন আবারও স্পষ্ট করলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী (ইহুদিবাদী) রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে দাবি করেন।

একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আর্জেন্টিনার নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

গত সোমবার স্থানীয় য়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিলেই তার কট্টর ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনাকারী রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের তীব্র সমালোচনা করেন।

কট্টর উদারতাবাদী (লিবার্টারিয়ান) তাত্ত্বিক হান্স-হারম্যান হোপের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ইসরায়েলের একজন শক্তিশালী সমর্থক হওয়ায় হোপে বিরক্ত।’ এরপর উপস্থিত দর্শকদের করতালির মধ্যে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জায়নবাদী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন মিলেই। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সভ্যতার তিনটি মৌলিক ভিত্তি-জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি- আসলে তাওরাত (তোরাহ) ও বাইবেলের ‘দশটি আদেশের’ (টেন কমান্ডমেন্টস) ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বাইবেলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য আইনের ফলকে যা লেখা রয়েছে তা হলো: চুরি করা ভুল, হত্যা করা ভুল।’

তিনি আরও বলেন, বাইবেলের এক্সোডাস বা মিসর থেকে ইসরায়েলিদের ঐতিহাসিক প্রস্থানের কাহিনীর মধ্যেই স্বাধীনতার মূল ধারণা গভীরভাবে নিহিত রয়েছে। প্রথম আদেশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানেই স্বাধীনতা, জীবন এবং সম্পত্তিকে অলঙ্ঘনীয় অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

নিজেকে একজন ‘অ্যানার্কো-ক্যাপিটালিস্ট’ (নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাভিয়ের মিলেই দীর্ঘদিন ধরেই ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর ব্যক্তিগত আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। নিয়মিত বিভিন্ন র‍্যাবাইয়ের (ইহুদি ধর্মযাজক) পরামর্শও নিয়ে থাকেন তিনি।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে অপরিবর্তনীয় উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট বলেন, এই মূল্যবোধগুলো নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা যায় না। কিছু বিষয় নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না এবং এই মূল্যবোধগুলোর ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমা সভ্যতার সব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

আধুনিক দার্শনিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে মিলেই ‘নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, সামগ্রিক সব বিষয়ের জন্য কোনো নৈতিক আপেক্ষিকতাবাদ হতে পারে না; বরং পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোতে এমন কিছু মৌলিক মূল্যবোধ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।

২০২৩ সালের শেষভাগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছেন হাভিয়ের মিলেই। তিনি দেশটিকে চীন বা রাশিয়ার বলয় থেকে বের করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি ইসরায়েল যান। সেখানে জেরুজালেমের পবিত্র ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াল’ বা পশ্চিম দেয়ালে প্রার্থনা করার পাশাপাশি বুয়েনস এইরেসে অবস্থিত আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন, যা ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।