খুঁজুন
, ,

হারিয়ে যাওয়া পথশিশু রমজানকে উদ্ধার করেছে আরএনবি সিপাহি আনন্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 17 March, 2020, 3:24 pm
হারিয়ে যাওয়া পথশিশু রমজানকে উদ্ধার করেছে আরএনবি সিপাহি আনন্দ

অসহায় পথশিশু রমজান, গায়ের রং ফর্সা বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। বাবা মা দুজনের নামই অজানা। রমজানের মা সে একজন বাক প্রতিবন্ধী বাবা চলে গিয়েছে ওর জন্মের পরপরই। শিশুটি জন্মের পর থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে বেড়ে উঠছে গতকাল বিকেল তিনটা থেকে নিখোঁজ।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সিপাহি আনন্দ বড়ুয়ার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে পথশিশু রমজান।

গত ১৫ মার্চ চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে সে ভিক্ষা করতে করতে উঠে যায় এবং ট্রেন ছেড়ে দেয়ার কারণে সে আর নামতে পারেনি৷ সন্ধ্যার সময় জানাজানি হয় রমজান ছেলেটি হারিয়ে গিয়েছে কিন্তু কেউই বলতে পারছে না সে কিভাবে হারিয়েছে?

বিষয়টি নজরে আসে রেওলয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সিপাহি আনন্দ বড়ুয়ার। তিনি পুরো বিষয়টি জেনে খুব মর্মাহত হোন৷ রমজানকে তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে চাকুরী করার সুবাদে চিনতেন । প্রায় প্রতিদিনই তাকে আদর যত্নও খাবার বিতরণ করতেন। রমজানের হারিয়ে যাওয়ার খবর তার কাছে নিজ সন্তান হারানোর মত ছিল। স্টেশনে মাস্টারের সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে তিনি জানতে পারেন সে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে গিয়েছিল। এই ছোট্ট শিশু কোন স্টেশনে নামতে পারে তা ছিল সবার অজানা। প্রায় প্রতিটি স্টেশনে রমজানের খোঁজ নেয়া হয় সকল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

সামাজিক সংগঠন আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন রমজানকে একই ভাবে খোঁজ করে আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশনের প্রতিটি সদস্যবৃন্দ।

আজ মুজিব শতবর্ষ ও জাতীয় শিশুদিবস ছিল। এই শিশুদিবসে হারিয়ে যাওয়া রমজানকে ফিরে পেয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও আলোর আশার যুব সদস্যরা আনন্দ উল্ললাস করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান পরিদর্শক মোহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান, সহকারী উপ পরিদর্শক মোহাম্মদ শওকত হোসেন ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল, প্রাইমারি চিকিৎসক সোসাইটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

এসময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান পরিদর্শক মোহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রেলওয়ে জনগণের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকে।পথশিশু রমজানকে উদ্ধার করার জন্য আর এন বি সিপাহি আনন্দ বড়ুয়া সহ অন্যান্যরা যে পরিশ্রম করেছে তা মুজিববর্ষের প্রথম দিনে আমাদের জন্য অনেক বড় দৃষ্টান্ত। মুজিব বর্ষে নয় শুধু সারা বছর ব্যাপী এরকম ভালো কাজ করা উচিৎ আমাদের সকলের৷

তিনি বলেন,সামাজিক সংগঠন আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন যে ভালো কাজগুলো করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে সব সময় সহযোগিতা করেছে ভবিষ্যতেও করবে। যেন এই মুজিববর্ষ থেকে পথশিশু সংখ্যা হ্রাস পায়, প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ থাকে ও হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায় তার চেষ্টা করতে হবে আমাদের সকলকে।

আন্দন্দ বড়ুয়া বলেন,রমজানকে ফিরে পাওয়া আমার কাছে অনেক আনন্দের ছিল। প্রতিটি শিশু যেন তার অধিকার যথাযথ পায় আমাদের কে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে৷ রমজান পথশিশু হিসাবে সে রাষ্ট্রের শিশু, তাই তাকে খুঁজে বের করা আমার নৈতিক দায়িত্ব ছিল অন্যান্য দায়িত্বের মতই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবেকের তাড়নায় পোস্ট করি তাতেই খুব সহজে পেয়ে যায় রমজানকে।

এরপর রমজানকে আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশনের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয় যেন এই শিশুটি পড়াশুনা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার পায়। আলোর আশার সদস্যরা বলেন তারা রমজানকে সব সময় দেখাশুনা করবে এবং রমজানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে সে যেন শতভাগ অধিকার পায় যেহতু সে একজন বাক প্রতিবন্ধী মায়ের অসহায় সন্তান।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।