খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের মানুষ স্বত:স্ফুর্তভাবে ধানের শীষ প্রতিকেই রায় দেবেন : ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের মানুষ স্বত:স্ফুর্তভাবে ধানের শীষ প্রতিকেই রায় দেবেন : ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও চসিক নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামের মানুষ সবসময় সংগ্রামী এবং প্রতিবাদী। তাই চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি এবং চট্টগ্রামের প্রতি যে অবহেলা তার জবাব দিতে ২৭ জানুয়ারী চট্টগ্রামের মানুষ স্বত:স্ফুর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতিকে তাদের রায় দেবেন।

তিনি আগামীতে চট্টগ্রামকে একটি পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডে আরবান হেল্থ সেন্টারগুলো চালু করতে পারলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর কিছুটা হলেও চাপ কমতো। তাই আরবান হেল্থ সেন্টার, চাইল্ড কেয়ারগুলো বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে হবে। করোনা মহামারীর মধ্যে একটি স্পেশালিষ্ট হেলদি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার জন্য আমি কাজ করে যাবো।

তিনি আজ রবিবার (১০ জানুয়ারী) দুপুরে নগরীর পাঁচলাইশ ৩ নং ওয়ার্ড এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন।

তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আতুরার ডিপু নুর টাওয়ারের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করে তুলা কোম্পানি, ঈদগাঁ মোড়, চালিতাতলী বাজার, বোর্ড অফিস, নেজামে হামচা, অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়ক, ওয়াজেদিয়া, হরিপুর, নয়াহাট, ফকিরাবাদ, কয়লারঘর, অক্সিজেন, পাঠানপুর, শহীদ নগর হয়ে বেলতল মোড়ে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। গণসংযোগ কালে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে সালাম বিনিময় এবং ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় লেভেল প্লেইন ফিল্ড নেই অভিযোগ করে ডা: শাহাদাত বলেন, কথা ছিল সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচনে লেভেল প্লেইন তৈরী হবে। অথচ দেখা যাচ্ছে সরকারী দলের প্রার্থী যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই পুলিশ সার্পোট পাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনিক সুবিধা পাচ্ছেন। প্রতিদিন ৩০/৩৫টি গাড়ীর বহর নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এটা কি লেভেল প্লেইন হল..? তারপরও আমরা মনে করি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ভোট হোক। তারা যদি এসব অনিয়ম করে তাহলে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে অনিহা সৃষ্টি হবে। মানুষের মধ্যে ভয়ভীতির সঞ্চালন হবে। তাই নির্বাচন কমিশনার ও প্রশাসনের দায়িত্ব ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে পরিবেশ সৃষ্টি করার।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, যেহেতু ইভিএম’এ ভোট হবে সেহেতু আইডি কার্ড ছাড়া কেউ যেন ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে সে দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।

পথসভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশম বক্কর বলেন, গণসংযোগে জনস্রোত প্রমান করে চট্টগ্রাম মহনগরীতে ধনের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামে অলিগলিতে যেখানে ধানের শীষের গণসংযোগ হচ্ছে সাধারণ মানুষ স্বত:স্ফুর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে। বিএনপি জনগণেন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেমেছে। আগামী ২৭ জানুয়ারী চট্টগ্রামবাসীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠির দিন।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ধানের শীষের প্রতীক দিয়ে ডাঃ শাহাদাতকে পাঠিয়েছেন আপনাদের রায় নেয়ার জনা। এ রায় হবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ মুক্তির রায়, গণতন্ত্রের মুক্তির রায়। ২৭ জানুয়ারী ধানের শীষের পক্ষের রায় হবে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্টার রায়।

গণসংযোগ কালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ০৮ আসনের সাবেক বিএনপি প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির সদস্য এরশাদ উল্লাহ, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ, আর ইউ চৌধুরী শাহীন,মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, কামরুল ইসলাম, নগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম, জি এম আইয়ুব খাঁন, বায়েজিদ থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল্লাহ আল হারুন, নগর বিএনপির সবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মো: ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের জসিম, নগর বিএনপির সবেক সদস্য নুরুল ইসলাম সাধু মিয়া, আবদুর রহিম, ০৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মো: ইলিয়াছ, সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আবু, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রোকসানা বেগম মাধু, ০২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: বেলাল, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, সহ সভাপতি আবু ইউসুফ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খাঁন, নগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উদ্দীন রাসেল, আবদুল আহাদ রিপন, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মাস্টার, মোর্শেদুল আলম, খুরশেদ আলম, মো: ইউসুফ, আবসার উদ্দিন, আবুল কালাম আবু, সামছুল আলম মেম্বার, ইসমাইল বালী, সাইফু সওদাগর, আবদুল হালিম কালু, মো: বেলাল সর্দার, নাছিমা আলম, মো: ওসমান, যুবদল নেতা মো: ইসমাইল, মহিউদ্দিন জুয়েল, মনজু আলম মনজু, নাজিম উদ্দিন হিরু, এম আর খাঁন ফারুক, মো: হাসান, আনোয়ার হোসেন, রাশেদ খাঁন টিপু, ফিরোজ মাহমুদ, নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এম এ হাসান বাপ্পা, কাজী মহিউদ্দীন, মহিউদ্দীন রুবেল প্রমূখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।