খুঁজুন
, ,

অস্ত্রসহ আন্ত:জেলা ডাকাতদলের ৬ সদস্য গ্রেফতার : ডাকাতির মালামাল উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 4 November, 2019, 8:57 pm
অস্ত্রসহ আন্ত:জেলা ডাকাতদলের ৬ সদস্য গ্রেফতার : ডাকাতির মালামাল উদ্ধার

চট্টগ্রামে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ডাকাতি করা মালামাল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিক্সা (রেজিঃ নং- চট্টগ্রাম-থ-১১-৪২৩৫)।

গত শনিবার ও রবিবার হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামালসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্যরা হলেন, ফটিকছড়ির লেলাং শাহ নগর নয়ারহাট বাজারের কাজী বাড়ির মৃত মো. ইউনুছের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), তার ছোট ভাই মো. শাহাব উদ্দিন প্রকাশ উজ্জ্বল (৩০), একই উপজেলার বিবিরহাট কাঞ্চনগরের মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আলাউদ্দিন প্রকাশ আলমগীর(৩৫), রাঙ্গামাটিয়া আদর্শ গ্রামের মো. রফিকের ছেলে মো. মানিক(২৮), কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হোয়াইকং ঝিমংখালী মিনা বাজারের মৃত নজির হোসেনের ছেলে মো. জাফর আলম (৩৫) ও চকরিয়া থানা হারবাং ধর পাড়ার মধুসুদন ধরের ছেলে টিটু ধর (৪০)।

হাটহাজারী থানা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাটহাজারীতে পরপর বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা তদন্তে নেমে উন্নত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপেজলা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ডাকাতদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম (৪০) কে গ্রেফতার করার পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়।

হাটহাজারী থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর জানান, গ্রেফতার ডাকাতদলের সদস্য মো. আলাউদ্দিন প্রকাশ আলমগীর ও মো. মানিক ডাকাতির ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দী প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, ডাকাতি প্রতিরোধে এখন থেকে পুলিশের টহল আরো জোরদার করা হচ্ছে। রাত বারটার পর সন্দেহজনক যে কাউকে রাস্তায় পেলে তল্লাশী করা হবে। এছাড়া ডাকাতি প্রতিরোধে স্থানীয়দের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানান ওসি।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর রাতে হাটহাজারী থানার ২নং ধলই ইউনিয়নের সোনাইরকুল ব্রীজ সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে সাহেব মিয়া মেম্বারের বাড়ীর মো. শফিউল আজম এর ঘরে, গত ২৪ অক্টোবর রাতে ১নং ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের বংশাল গুন্নু মিয়া সারাং বাড়ীর মো. শাহ আলম এর ঘরে এবং গত ২৮ অক্টোবর একই ইউনিয়নের মন্দাকিনি গ্রামের হারু চাঁদ মুন্সির বাড়ীর লুৎফন নাহার এর ঘরে ডাকাতির ঘটনা সংঘঠিত হয়। পৃথক পৃথক ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতেরা স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনায় হাটহাজারী থানায় পৃথক ৩টি ডাকাতি মামলা রুজু হয়।

এামলার তদন্ত করতে গিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সক্রিয় ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি করা সাড়ে তিন ভরি গলিত স্বর্ণ, ১টি স্যামসাং মোবাইল, ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত ১টি এলজি, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি লোহার তৈরি কাটার, ১টি স্টীলের তৈরি কথিত চাইনিজ কুড়াল, ১টি চাপাতি, ১টি স্টীলের চাপাতি এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সা (রেজিঃ নং-চট্টগ্রাম-থ-১১-৪২৩৫) উদ্ধার করা হয়।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।