খুঁজুন
শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ভোক্তাবান্ধব নগরীতে পরিনত করতে ক্যাব’র স্মারকলিপি প্রদান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ভোক্তাবান্ধব নগরীতে পরিনত করতে ক্যাব’র স্মারকলিপি প্রদান

দেশের বানিজ্যিক রাজধানীখ্যাত চট্টগ্রাম নগরীকে বসবাসযোগ্য ও ভোক্তাবান্ধব নগরীতে পরিনত করতে আজ মঙ্গলবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম সিটিকরপোরেশন নগর ভবনে মেয়র কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব রেজাউল করিমের কাছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ ১২ দফা সুপারিশমালা সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইনের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি এম নাসিরুল হক, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, চান্দগাঁও থানার সভাপতি মোঃ জানে আলম, কর্নেলহাট থানা সভাপতি ডাঃ মাসবাহ উদ্দীন তুহিন, সদরঘাট থানার সভাপতি শাহীন চৌধুরী, ক্যাব জামালখানের সভাপতি সালাহ উদ্দীন, সাধারন সম্পাদক নবুয়াত আরা সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল চৌধুরী, ক্যাব পাঁচলাইশের সাধারন সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব কোতোয়ালীর আবদুল হালিম দোভাষ, ক্যাব যুব গ্রুপের সমন্বয়ক চৌধুরী জসিমুল হক, ক্যাব এফসি তাজমুন্নাহার হামিদ, প্রকল্প কর্মকর্তা শম্পা কে নাহার প্রমুখ। মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাব চট্টগ্রাম কর্তৃক উপস্থাপিত ১২ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে আছে, নগরীতে ভেজালমুক্ত খাদ্য, পণ্য, শাক-শবজি, ফলমুল, মাছ, মাংশ নিশ্চিত করতে সিটিকর্পোরেশনের নজরদারি জোরদার করা, স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় স্যানিটারী ইনেসপেক্টদের নগরীর খাদ্য-পণ্যের দোকানগুলি নিয়মিত পরিদর্শন করা, পশু জবাই করার পূর্বে ভেটেনারী সার্জন কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা নিশ্চিত করা। নগরীর বাজারগুলির নোংরা, অস্বাস্থ্যকর ও পরিবেশ উন্নত করা, স্লাটার হাউজ গুলির পরিস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সম্মত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, যত্রতত্র ফুটপাত ও রাস্তায় খাবারের দোকান, হোটেলগুলির খাবার বিক্রি বন্ধ করা।

চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন এর আওতাধীন ১৭ টি বাজারগুলিকে নিয়মিত ভাবে নিত্যপণ্যের বাজার দর মনিটরিং, সিটিকর্পোরেশনের কাউন্সিলর, পুলিশ, চেম্বার, ক্যাব প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধি সমন্বয়ে বাজার ভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন করা। মশক নিধন কর্মসূচিকে নাগরিক পরীবিক্ষনের আওতায় আনা, ভোর হবার পুর্বেই রাস্তার পার্শ্বের ডাস্টবিনগুলির ময়লা পরিস্কার নিশ্চিত করা, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক তদারকি ও নজরদারির আওতায় আনা। নালার উপর দোকান, অবৈধ স্থাপনা, নালা-নর্দমগুলি ঠিকমতো পরিস্কার করা, বাড়ীঘর তৈরীতে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখার নিশ্চিত করা। উন্নত রাস্ট্রগুলির আদলে বৃষ্টি বাদল হলেই পানি নিস্কাষনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেয়া।

চট্টগ্রাম নগরীতে যানজট নিরসনে যত্র তত্র পাকিং, গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, গণপরিবহনগুলির অব্যবস্থাপনা দূর, নগরে যাত্রী পরিবহনে মেট্রো রেল চালু, আবাসিক ও বানিজ্যিক ভবনগুলিতে পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা, লক্কর যক্কর বাস ও গণপরিবহন গুলির আধুনিকায়ন, ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএর সাথে স্ষ্টুু সমম্বয়, পর্যাপ্ত বাস স্ট্যান্ড তৈরীর উদ্যোগ নেয়া। নগরীতে বাড়ীভাড়া বিঢম্বনার রোধে সিটিকর্পোরেশন এর কাউন্সিলরদের মাধ্যমে স্থানীয় ভাবে বাড়ী ভাড়া নিয়ে জটিলতা নিরসনে সালিশী বোর্ড গঠন করা, এলাকা অনুযায়ী বাড়ী ভাড়ার তালিকা তৈরী করা এবং সীমিত আয়ের ভাড়াটিয়াদের দীর্ঘ মেয়াদী কিস্তির ভিত্তিতে বহুতল ভবন ও ফ্লাট তৈরী করে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহন করা।

সিটিকর্পোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির গুনগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়, জেলা প্রশাসনকে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মানসস্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। নগরীর সকল বাড়ী, স্থাপনার তালিকা হালনাগাদ ও ডাটাবেস করা, হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে ভোগান্তি নিরসনে ত্রিপাক্ষিক গণশুনাণীর আয়োজন করা। নগরীতে যথেষ্ঠ পায়ে হাটার পথ যা ওর্য়াকওয়ে নিশ্চিত করার জন্য ফুটপাতগুলি হর্কারসদের দখলমুক্ত, রাস্তা বা মার্কেটগুলির সামনের অংশে হকার্সদের বসানো বন্ধ করে নগরীর সৌন্দয্য বৃদ্ধি করা, হকার্সদের বিকল্প পুর্নবার্সনের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে নগরীর উন্মুক্ত স্থানে হলিডে মার্কেট স্থাপন ও ভাসমান হকার্সদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা।

সিটিকর্পোরেশনের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভোক্তা অধিকার বিষয়ে ছাত্র/ছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষক/শিক্ষিকা এবং সিটিকর্পোরেশনের আওতাধীন বাজারগুলিতেও সর্বসাধারনকে ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য ও ব্যক্তিগত পয়ঃ প্রনালী বিষয়ে গণসচেতনতা ও শিক্ষা মুলক কর্মসুচির আয়োজন করা। সরকারী প্রশাসন ও সেবাদানকারী সংস্থায় ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব বিশেষ করে গ্যাস, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, টিএন্ডটি, হাসপাতাল, সিডিএ, রেল, বিআরটিএ, কারা পরিদর্শক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল সংস্থা গুলিতে মনোনিত প্রতিনিধিরা প্রাহক স্বার্থ বা জনস্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিকে অর্ন্তভুক্ত করা। নগরে সেবাদানকারী সরকারী সেবাদানকারী সংস্থাগুলির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও তাদের প্রশাসনিক এবং আর্থিক জবাবদিহিতাকে নাগরিক পরীবিক্ষনের আওতায় আনা। গ্যাস, পানি, বিদ্যুত, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাড়ীভাড়া, হোর্ল্ডিং ট্যাক্স, গণপরিবহন, বজ্য ও নগর ব্যবস্থাপনা, শিল্প এবং বানিজ্য ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে গ্রাহক, সেবাদানকারী সংস্থা ও ভোক্তা প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ত্রিপাক্ষিক গণশুনাণীর ব্যবস্থা করা।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।