খুঁজুন
রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের কাছে ফের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
ভারতের কাছে ফের স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

ভয় জেগেছিল, বৃষ্টির জল না জানি আবার কান্না হয়ে উঠে আসে সাকিব আল হাসানদের চোখে! তীরে এসে তরী ডোবার গল্পটাও তো আর নতুন নয় বাংলাদেশের।

অ্যাডিলেড ওভালে বৃষ্টির আগে রীতিমতো রূপকথার জন্ম দিচ্ছিল লিটন দাসের যাদুকরী ব্যাটিং। বৃষ্টি শেষে কনকনে হিমেল হাওয়ায় নতুন লক্ষ্যে লড়াইটাও সহজ ছিল না। ৫৪ বলে ৮৫। হাতে দশ উইকেট। তেমন একটা মঞ্চ পেয়েও হয়নি। খেলাটা শেষ ওভার অব্দি উত্তেজনার তুঙ্গে থাকল। জয়ের স্বপ্ন বেঁচে থাকল শেষ বলটি পর্যন্ত। কিন্তু মিলল না সমীকরণ!

২০১৫ সালে যে মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ সেখানে এবার হাত ফসকে গেল একটা জয়, একটা ঐতিহাসিক জয়! তবে নিশ্চিত করেই পয়সা উসুল এক ম্যাচ। যেখানে জয় ক্রিকেটেরই!

শেষ ওভারে এসে ফয়সালা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন মেথডে ভারত জিতল ৫ রানে। এই হারে সেমির দরজা এক প্রকার বন্ধই হয়ে গেল বাংলাদেশের। হারলেও লড়েছে এই শান্তনাটুকু শুধু সঙ্গী। এই অ্যাডিলেড ওভালেই ৬ নভেম্বর টাইগাররা লড়বে পাকিস্তানের সঙ্গে!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জয়টা জরুরী ছিল দুই দলেরই। সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার এই ম্যাচে হাসিমুখ বাংলাদেশেরই। দিন-রাতের এই ম্যাচে বুধবার টস জিতে ভারতকেই প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। বিরাট কোহলির হাফসেঞ্চুরিতে তারা ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলে ১৮৪ রান। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ ৭ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৬ রান তুলতেই ওভালে নেমে আসে বৃষ্টি! মাঠে হাজির প্রায় হার চল্লিশেক দর্শকের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেন অনাকাংখিত সেই অতিথি। তারপর তো সর্বনাশ বাংলাদেশের।

বৃষ্টিতে কমে চার ওভার। এ অবস্থায় ১৬ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৫১ রান। মানে শেষ ৯ ওভারে সাকিবদের চাই ৮৫ রান। ঠিক এমন সময়ে ১০ উইকেট হাতে নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু বৃষ্টির পর প্রথম ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রান আউট লিটন দাস। লোকেশ রাহুলের সরাসরি থ্রোতে সর্বনাশ। ২৭ বলে তিন ছক্কা ও সাত চারে ৬০ রান তুলে ফেরেন লিটন। তার আগে ২২ বলে ফিফটি তুলে নেন যা কি-না এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুতগতির ফিফটি।

লিটনের পর নাজমুল হোসেন শান্তও আটকে যান। তিনি ফেরেন ২৫ বলে ২১ রানে। এখানেই যেন ম্যাচটাও হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। শেষ কেউ আর লিটনের লড়াইটাকে পূর্ণতা দিতে পারলেন না। ১৬ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৫ রানে আটকে গেল বাংলাদেশ। শেষ ওভারে জিততে ২০ রান প্রয়োজন থাকলেও সেটি আর করা হয়ে উঠল না! কিন্তু কাছে গিয়ে হারল দল। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৭ রান। হলো ১ রান।

অথচ পুরোটাই লেখা হতে পারতো বাংলাদেশের গল্প। কারণ একজন লিটন লড়ছিলেন একা! মনে হচ্ছিল ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ১৮৪ কোন ব্যাপারই নয়। তার ব্যাটে একেকটা শট শিল্পীর তুলির আঁচড় যেন। লিটন দাস যেদিন খেলেন সেদিনই সবুজ মাঠের ক্যানভাসে এমনই মায়াজাল ছড়িয়ে পড়ে! বুধবার ভারতকে পেয়ে শুরু থেকেই ভিন্ন এক মেজাজে। প্রিয় পজিশন ওপেনিংয়ে নেমে সেই সহজাত ব্যাটিং, চার ছক্কা ফোয়ারা। তাকে আটকাতে কতো কী যে করলেন রোহিত শর্মা। বোলিংয়ে একের পর এক পরিবর্তন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। বাংলাদেশের এই ওপেনার উড়লেন। তাণ্ডব চালালেন। ঝড় বইয়ে দিলেন অ্যাডিলেড ওভালে।

কিন্তু শীতের বিদায় লগ্নে এখানে বৃষ্টি বড্ড বেরসিক। লিটন-ঝড়ের পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ। যখন ভারতের কোন বোলারই আটকাতে পারছিলেন না তাকে, তখন কিন্তু বৃষ্টি থমকে দিল লিটনকে। তখন ৭ ওভারে বাংলাদেশ তুলে বিনা উইকেটে ৬৬ রান। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে তখন জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৪৯ রান। মানে তখন সাকিব আল হাসানের দল ১৭ রানে এগিয়ে। বৃষ্টি না হলে জিততো বাংলাদেশই।

তবে সেই বৃষ্টি থেমেছে কিছু পরেই। এরপরই খেলার মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হতেই নতুন লক্ষ্যের সঙ্গে আর কুলিয়ে উঠা হয়নি।

এর আগে অ্যাডিলেড ওভালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট রোহিত শর্মাদের ব্যাট করতে পাঠান সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কতোটা যৌক্তিক ছিল সেই প্রশ্নটা উঠবেই। কারণ বোলাররা ঠিকঠাক কাজটুকু করতে পারেন নি। সঙ্গে ফিল্ডিংটাও যুতসই মতো হলো না! এদিনও প্রথম উইকেটটা পেতে পারতেন তাসকিন আহমেদ। একদম ম্যাচের শুরুতেই। তাসকিন আহমেদের কৌশলে বোকা বনে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। সীমানায় সামনে হাসান মাহমুদের হাতে পড়েছিল একেবারে সহজ ক্যাচ। কিন্তু সেটিও হাতে জমাতে পারেন নি তিনি। ১ রানে জীবন পান ভারতীয় অধিনায়ক। তখন ভারতের ছিল ১০ রান!

তবে প্রায়শ্চিত্ত করতে দেরি করেন নি হাসান। ক্যাচ হাতছাড়া করার পরের ওভারে বোলিংয়ে এসেই সেই রোহিতকেই দেখিয়ে দেন সাজঘরের পথ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খেলতে না পেরে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন ইয়াসির রাব্বির হাতে। ২ রানে ফেরেন রোহিত। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন হাসান!

এরমধ্যে সাকিব একটা সাহসী সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন। কোন বিরতি ছাড়াই সেরা অস্ত্র তাসকিনের বোলিং একটানা শেষ করে দেন। এক স্পেলে এই পেসার চার ওভার করে দেন মাত্র ১৫ রান। রোহিতের ক্যাচটা হাসান না ফেললে একটা উইকেটও পেতে পারতেন তিনি! এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবারই প্রথমবার কোন ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেন তাসকিন।

তাসকিন রান না দিলেও থেমে থাকেনি ভারত। রান উৎসব চলেই তাদের। গ্যালারির গর্জন বাড়িয়ে খেলতে থাকেন লোকেশ রাহুল। তবে ফিফটি করতেই তাকে তুলে নেন সাকিব। জোরে হাঁকাতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ তুলেন মুস্তাফিজুর রহমানের হাতে। তাতেই ভাঙে লোকেশ-বিরাট কোহলির ৩৭ বলে ৬৭ রানের জুটি। আর তিনি বিদায় নেন ৩২ বলে ৫০ রানে। ইনিংসে ছিল চার ছক্কা ও তিন চার। ভারত তখন ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৮৬।

তারপরই ম্যাচের লাগামটা বাংলাদেশের হাতে এসেই যেতে পারতো। ১১তম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ওভারের সময় বিরাট কোহলি হতে পারতেন রান আউট। পরের ওভারে সাকিব আসেন তখন শর্ট ফাইন লেগে সূর্যকুমার যাদবের ক্যাচটা জমাতে পারেন নি মুস্তাফিজ।

কিন্তু সূর্যকুমার ঠিকই ফাঁদে পড়েন। তাকে বোল্ড করেন সাকিব। সাকিবের সোজা আসা বলে কাট করতে চেয়েছিলেন সূর্যকুমার। লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে তিনি। তার আগে খেলে যাচ্ছেন ‘ইম্প্যাক্ট’ময় এক ইনিংস। ১৬ বলে চারটি চারে ৩০। এই উইকেটটা তুলে নিয়ে নতুন উচ্চতায় পা রাখেন সাকিব। টিম সাউদির সঙ্গে যৌথভাবে এখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনিই সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ১২৭ উইকেটের মালিক বাংলাদেশ অধিনায়ক। এদিন সাকিব ৪ ওভারে ৩৩ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

তবে তখনও অপ্রতিরোধ্য বিরাট কোহলি। দুঃসময়টা ফের পেছনেই ফেলে এসেছেন তিনি। সেটি আরও একবার বুঝিয়ে তুলে হাফসেঞ্চুরি। এবারের বিশ্বকাপে দুইশর বেশি রান তুলে শীর্ষে তিনিই। এদিন কোহলি খেললেন ৪৪ বলে হার না মানা ৬৪ রানের ইনিংস। ৬ বলে ১৩ রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। ভারত উঠে যায় চূড়ায়, ১৮৪! হাসান ৪ ওভারে ৪৭ রানে তুলেন ৩ উইকেট। সৌম্য সরকারের জায়গায় ফেরা শরিফুল ইসলাম খরুচে ৪ ওভারে কোন উইকেট না নিয়ে ৫৭!

সুখস্মৃতির মাঠে ইতিহাসটাই বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিল ভারত। টি-টোয়েন্টির দ্বৈরথে ১২ লড়াইয়ে ১১টিতেই হার বাংলাদেশের। কিন্তু অনাহুত বৃষ্টিতেই আজ সর্বনাশ! না হলে ভারত বধের গল্পটা লেখা হয়ে যেতে পারতো অ্যাডিলেড ওভালে। যেখানে রূপকথার গল্প লেখার কথা সেখানে বৃষ্টি শেষে কাঁদল বাংলাদেশ!

২৪ঘণ্টা/এনআর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।