খুঁজুন
, ,

চসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর প্রাণঘাতি সংঘর্ষ বন্ধ করুন:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 20 March, 2020, 8:09 pm
চসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর প্রাণঘাতি সংঘর্ষ বন্ধ করুন:সুজন

আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে ভয়ংকর প্রাণঘাতি সংঘর্ষ বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টায় উত্তর কাট্টলীস্থ তার নিজ বাসভবনে নাগরিক উদ্যোগের এক জরুরী সভায় উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অত্যাসন্ন। এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ এবং উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে নির্বাচন যতই সন্নিকটে আসছে ততই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা ভয়ংকর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতি ঘটনাও ঘটছে। যে সকল প্রার্থীরা এ ধরণের উত্তেজনাকর ঘটনার সাথে যুক্ত হয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

এছাড়া যে সকল প্রার্থীরা অতীতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাদক, চাঁদাবাজ এবং দখলবাজের সাথে যুক্ত ছিলেন সে সকল প্রার্থীকে আগামী নির্বাচনে প্রত্যাখান করার জন্য নাগরিক সমাজের নিকট বিশেষ আবেদন জানান সুজন।

তিনি বলেন করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে জনগনকে অহেতুক ভোগান্তিতে ফেলতে লিপ্ত রয়েছে একটি চক্র। যারা সরকারের অতি আপন হয়ে সরকারকে বিভিন্ন জায়গায় কোনঠাসা করতে ব্যস্ত। যে কোন দুর্যোগ কিংবা চাহিদাকে পুজি করে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। ঠিক তেমনিভাবে হঠাৎ করে চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে চায় চক্রটি। তাদের বিরুদ্ধে সাধারন জনগন সজাগ আছে বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করে সুজন বলেন এক শ্রেণীর মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগনের চাহিদা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে জনগনের বিপুল সংখ্যক টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছে। দিনের পর দিন তাদের সম্পদের পাল্লা ভারী হলেও সাধারণ জনগন কিন্তু ঠিকই ভোগান্তিতে পড়ছে তাদের মনুষ্যত্বহীন আচরণের কারণে। তিনি কতিপয় ব্যবসায়ীদের এহেন অবিবেক সুলভ আচরন পরিহার করার আহবান জানান নচেৎ সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে জনগনের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ব্যবসা কেন্দ্র ঘেরাও করা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারন করেন।

তিনি আরো বলেন, গরমের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের লোড শেডিং শুরু হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জনগনের কাছ থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল আদায় করে জনগনকে কাংখিত সেবা প্রদান না করাটা সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার সামিল। প্রধানমন্ত্রী জনগনের নিকট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নানামূখী প্রকল্প গ্রহণ করছে। এমনকি বিভিন্ন অনুন্নত এলাকায় সাগরের তলদেশ দিয়েও বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদান করছে বর্তমান সরকার। কিন্তু এতোসব কর্মকান্ডের পরেও সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে অভিযাত্রা তাতে বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে এক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারী আমলারা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সরকারের উন্নয়নের সুফল থেকে জনগন বঞ্চিত হবে। তাই অতিসত্বর এ সব ষড়যন্ত্রকারী আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন মহলের নিকট সবিনয় অনুরোধ জানান সুজন।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর এবং মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিকট আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন করোনাভাইরাসকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে যেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণার সময় প্রার্থীর সমর্থকদের মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত জীবানুনাশক সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করন, হেক্সিসল অথবা হ্যান্ড স্যানিরটাইজার সাথে রাখা এবং প্রয়োজন ক্ষেত্রে হ্যান্ড গ্লাভসও পড়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া বিশাল আকারের জনসমাবেশকে এড়িয়ে ঘরোয়া আকারের সভা সমাবেশ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন সুজন। তাছাড়া নগরবাসীকেও সচেতন থেকে নিয়মিত সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানান এবং নিজ উদ্যোগে বাড়ীর আশেপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোঃ ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, নিজাম উদ্দিন, হাজী মোঃ হোসেন, মোরশেদ আলম, নুরুল কবির, মোঃ শাহজাহান, মোঃ ছালেহ জঙ্গী, শিশির কান্তি বল, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ বাবলু, সমীর মহাজন লিটন, জমির উদ্দিন মাসুদ, স্বরূপ দত্ত রাজু, মোঃ ওয়াসিম, মাহফুজ চৌধুরী, মাহাদী হাসান সনন প্রমূখ।

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।