খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর প্রাণঘাতি সংঘর্ষ বন্ধ করুন:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
চসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর প্রাণঘাতি সংঘর্ষ বন্ধ করুন:সুজন

আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে ভয়ংকর প্রাণঘাতি সংঘর্ষ বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫টায় উত্তর কাট্টলীস্থ তার নিজ বাসভবনে নাগরিক উদ্যোগের এক জরুরী সভায় উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অত্যাসন্ন। এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ এবং উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে নির্বাচন যতই সন্নিকটে আসছে ততই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা ভয়ংকর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতি ঘটনাও ঘটছে। যে সকল প্রার্থীরা এ ধরণের উত্তেজনাকর ঘটনার সাথে যুক্ত হয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

এছাড়া যে সকল প্রার্থীরা অতীতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাদক, চাঁদাবাজ এবং দখলবাজের সাথে যুক্ত ছিলেন সে সকল প্রার্থীকে আগামী নির্বাচনে প্রত্যাখান করার জন্য নাগরিক সমাজের নিকট বিশেষ আবেদন জানান সুজন।

তিনি বলেন করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে জনগনকে অহেতুক ভোগান্তিতে ফেলতে লিপ্ত রয়েছে একটি চক্র। যারা সরকারের অতি আপন হয়ে সরকারকে বিভিন্ন জায়গায় কোনঠাসা করতে ব্যস্ত। যে কোন দুর্যোগ কিংবা চাহিদাকে পুজি করে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। ঠিক তেমনিভাবে হঠাৎ করে চাল, ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি করে জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে চায় চক্রটি। তাদের বিরুদ্ধে সাধারন জনগন সজাগ আছে বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করে সুজন বলেন এক শ্রেণীর মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ীরা জনগনের চাহিদা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে জনগনের বিপুল সংখ্যক টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত রয়েছে। দিনের পর দিন তাদের সম্পদের পাল্লা ভারী হলেও সাধারণ জনগন কিন্তু ঠিকই ভোগান্তিতে পড়ছে তাদের মনুষ্যত্বহীন আচরণের কারণে। তিনি কতিপয় ব্যবসায়ীদের এহেন অবিবেক সুলভ আচরন পরিহার করার আহবান জানান নচেৎ সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে জনগনের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ব্যবসা কেন্দ্র ঘেরাও করা হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারন করেন।

তিনি আরো বলেন, গরমের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের লোড শেডিং শুরু হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জনগনের কাছ থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল আদায় করে জনগনকে কাংখিত সেবা প্রদান না করাটা সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার সামিল। প্রধানমন্ত্রী জনগনের নিকট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নানামূখী প্রকল্প গ্রহণ করছে। এমনকি বিভিন্ন অনুন্নত এলাকায় সাগরের তলদেশ দিয়েও বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদান করছে বর্তমান সরকার। কিন্তু এতোসব কর্মকান্ডের পরেও সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে অভিযাত্রা তাতে বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে এক শ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারী আমলারা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সরকারের উন্নয়নের সুফল থেকে জনগন বঞ্চিত হবে। তাই অতিসত্বর এ সব ষড়যন্ত্রকারী আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন মহলের নিকট সবিনয় অনুরোধ জানান সুজন।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর এবং মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিকট আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন করোনাভাইরাসকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে যেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণার সময় প্রার্থীর সমর্থকদের মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত জীবানুনাশক সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করন, হেক্সিসল অথবা হ্যান্ড স্যানিরটাইজার সাথে রাখা এবং প্রয়োজন ক্ষেত্রে হ্যান্ড গ্লাভসও পড়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া বিশাল আকারের জনসমাবেশকে এড়িয়ে ঘরোয়া আকারের সভা সমাবেশ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন সুজন। তাছাড়া নগরবাসীকেও সচেতন থেকে নিয়মিত সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার আহবান জানান এবং নিজ উদ্যোগে বাড়ীর আশেপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোঃ ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, নিজাম উদ্দিন, হাজী মোঃ হোসেন, মোরশেদ আলম, নুরুল কবির, মোঃ শাহজাহান, মোঃ ছালেহ জঙ্গী, শিশির কান্তি বল, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ বাবলু, সমীর মহাজন লিটন, জমির উদ্দিন মাসুদ, স্বরূপ দত্ত রাজু, মোঃ ওয়াসিম, মাহফুজ চৌধুরী, মাহাদী হাসান সনন প্রমূখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।