খুঁজুন
, ,

মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 15 June, 2020, 8:55 pm
মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না:সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ সোমবার (১৫ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হুশিয়ারি দেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের করাল থাবা থেকে চট্টগ্রামের জনগনকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রামের ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর তারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করছি করবো বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে বারবার আলাপ আলোচনার পরও স্বাস্থ্য বিভাগ চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও মানছে না। হাসপাতাল মালিকরা তাদের রোগী বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে একের পর এক নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে।

এক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিনের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ বিহীন পরিত্যক্ত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা বলে প্রস্তুতি সম্পন্ন না করেই উদ্বোধনের নাটক মঞ্চায়িত করেছে। দেখা যাচ্ছে যে উদ্বোধনের পরেও সেটা সম্পূর্ণ চালু করা যায়নি। যেখানে নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে রোগী ভর্তির জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় সেখানে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি রোগীশুণ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, আয়ার অভাবে সেখানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী ফিরিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামকে মৃত্যুপূরীতে পরিণত করছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক চিকিৎসা না দিলে লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুমকি দেওয়া হলেও তারা সেগুলো কর্ণপাতও করছে না। চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি করা হচ্ছে।

নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে এ অবস্থা দূরীকরণে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বারংবার অুননয় বিনয় অনুরোধ করা হলেও এখনো তারা পর্দার অন্তরালে থেকে তাদের অদৃশ্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে সম্পূর্ণভাবে বুঝা যাচ্ছে যে খুব কৌশলে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এ অবস্থা আর বরদাশত করা হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করে সুজন বলেন, এখন থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে রোগী ভর্তি করতে বাধ্য করা হবে।

আমরা এর আগেও আবেদন জানিয়েছিলাম মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক চট্টগ্রামের সকল আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেডকে সেন্ট্রাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনার জন্য। আমাদের কাছে তথ্য আছে যে হাসপাতালের পিয়ন দাড়োয়ানদের নামে এসব বেডগুলো ভ‚য়া বুকিং করে রাখা হচ্ছে অথচ রোগীর প্রয়োজনে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন এগুলো কি আবাসিক হোটেলের সিট যে আগে থেকেই রোগীর নামে বুকিং করে রাখা হবে? আমরা স্পষ্টভাবেই বলে দিতে চাই এরকম প্রাতিষ্টানিক ভূয়া বুকিং আমরা মানি না। মানুষের চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত করে যারা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি বাঁচাতে চায় তারা গনদুশমন। তাদের বিরুদ্ধে আজ থেকে আমাদের আপোষহীন সংগ্রাম শুরু। প্রতিদিন অস্বাভাবিক এসব রোগী মৃত্যুর খবর শুনতে শুনতে আমরা নির্বাক হয়ে পড়ছি। তার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের রোগীদের প্রতি এরকম নিস্পৃহতা আমাদের হতবাক করে তুলেছে। এসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি করতে আসা আত্নীয়-স্বজনদের নিকট আমাদের আবেদন থাকবে কোন হাসপাতাল যদি রোগী ভর্তি না করে অথবা আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেড দিতে না চায় সেক্ষেত্রে এসব হাসপাতালের আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেড পরিদর্শন করার জন্য।

পরিদর্শন শেষে যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া না যায় তাহলে জোর করে সেখানে রোগী ভর্তি করানোর জন্য। কর্তৃপক্ষ যদি তারপরও রোগী ভর্তি কিংবা আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ বেড না দেয় এবং কোন কারণে রোগীর মৃত্যু হয় সেক্ষেত্রে কোন ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।

এক্ষেত্রে আইন আদালত সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগ ঐ রোগীর আত্নীয়-স্বজনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নৈরাজ্যের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করেছি। যারা রোগী সাধারনকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে পতিত হতে বাধ্য করছে এরা খুনী।

এসব খুনীদের আগামী তিন দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে থাকলে অবশ্যই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। এসব খুনী এবং গণদুশমনদের নামের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই এদের নাম ও ছবি গণমাধ্যমসহ নগরীর উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করা হবে। চট্টগ্রাম শহরে হয় তারা থাকবে না হয় আমরা থাকবো। এদেরকে কোনভাবেই আর প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

তিনি প্রভাবশালী মহলকে বিভিন্ন ছদ্মাবরণে এসব খুনী গণদুশমনদের আশ্রয় না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, এ শহর নিঃশ্বাস নিতে চায়। এ শহরের মানুষের নিঃশ্বাস নিতে যারা বাঁধা সৃষ্টি করবে তারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নগরীর ১০টি ওয়ার্ডকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান সুজন।

তিনি লকডাউনকৃত এলাকাসমূহে যাতে কোন প্রকার মানবিক সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

লকডাউনকৃত এলাকায় কিভাবে দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালিত হবে তার একটি গাইডলাইনও জনগনকে প্রদান করার লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি লকডাউনকৃত ওয়ার্ডসমূহের জনগনকে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকার সবিনয় অনুরোধ জানান।

এছাড়া জনসাধারনের প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করার আহবান জানান।

তিনি লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগীতা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আবেদন জানান। তিনি জনগনকে যে কোন প্রয়োজনে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতা নেওয়ারও অনুরোধ জানান। এছাড়া নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজনও লকডাউনকৃত এলাকার অধিবাসী তারপরও নগরবাসীর যে কোন প্রয়োজনে তাঁর সাথেও যোগাযোগ করার আহবান জানান তিনি।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।