খুঁজুন
, ,

মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 15 June, 2020, 8:55 pm
মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না:সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ সোমবার (১৫ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হুশিয়ারি দেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের করাল থাবা থেকে চট্টগ্রামের জনগনকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রামের ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর তারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করছি করবো বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে বারবার আলাপ আলোচনার পরও স্বাস্থ্য বিভাগ চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও মানছে না। হাসপাতাল মালিকরা তাদের রোগী বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে একের পর এক নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে।

এক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিনের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ বিহীন পরিত্যক্ত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা বলে প্রস্তুতি সম্পন্ন না করেই উদ্বোধনের নাটক মঞ্চায়িত করেছে। দেখা যাচ্ছে যে উদ্বোধনের পরেও সেটা সম্পূর্ণ চালু করা যায়নি। যেখানে নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে রোগী ভর্তির জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় সেখানে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি রোগীশুণ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, আয়ার অভাবে সেখানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী ফিরিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামকে মৃত্যুপূরীতে পরিণত করছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক চিকিৎসা না দিলে লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুমকি দেওয়া হলেও তারা সেগুলো কর্ণপাতও করছে না। চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি করা হচ্ছে।

নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে এ অবস্থা দূরীকরণে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বারংবার অুননয় বিনয় অনুরোধ করা হলেও এখনো তারা পর্দার অন্তরালে থেকে তাদের অদৃশ্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে সম্পূর্ণভাবে বুঝা যাচ্ছে যে খুব কৌশলে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এ অবস্থা আর বরদাশত করা হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করে সুজন বলেন, এখন থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে রোগী ভর্তি করতে বাধ্য করা হবে।

আমরা এর আগেও আবেদন জানিয়েছিলাম মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক চট্টগ্রামের সকল আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেডকে সেন্ট্রাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনার জন্য। আমাদের কাছে তথ্য আছে যে হাসপাতালের পিয়ন দাড়োয়ানদের নামে এসব বেডগুলো ভ‚য়া বুকিং করে রাখা হচ্ছে অথচ রোগীর প্রয়োজনে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন এগুলো কি আবাসিক হোটেলের সিট যে আগে থেকেই রোগীর নামে বুকিং করে রাখা হবে? আমরা স্পষ্টভাবেই বলে দিতে চাই এরকম প্রাতিষ্টানিক ভূয়া বুকিং আমরা মানি না। মানুষের চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত করে যারা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি বাঁচাতে চায় তারা গনদুশমন। তাদের বিরুদ্ধে আজ থেকে আমাদের আপোষহীন সংগ্রাম শুরু। প্রতিদিন অস্বাভাবিক এসব রোগী মৃত্যুর খবর শুনতে শুনতে আমরা নির্বাক হয়ে পড়ছি। তার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের রোগীদের প্রতি এরকম নিস্পৃহতা আমাদের হতবাক করে তুলেছে। এসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি করতে আসা আত্নীয়-স্বজনদের নিকট আমাদের আবেদন থাকবে কোন হাসপাতাল যদি রোগী ভর্তি না করে অথবা আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেড দিতে না চায় সেক্ষেত্রে এসব হাসপাতালের আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেড পরিদর্শন করার জন্য।

পরিদর্শন শেষে যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া না যায় তাহলে জোর করে সেখানে রোগী ভর্তি করানোর জন্য। কর্তৃপক্ষ যদি তারপরও রোগী ভর্তি কিংবা আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ বেড না দেয় এবং কোন কারণে রোগীর মৃত্যু হয় সেক্ষেত্রে কোন ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।

এক্ষেত্রে আইন আদালত সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগ ঐ রোগীর আত্নীয়-স্বজনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নৈরাজ্যের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করেছি। যারা রোগী সাধারনকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে পতিত হতে বাধ্য করছে এরা খুনী।

এসব খুনীদের আগামী তিন দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে থাকলে অবশ্যই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। এসব খুনী এবং গণদুশমনদের নামের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই এদের নাম ও ছবি গণমাধ্যমসহ নগরীর উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করা হবে। চট্টগ্রাম শহরে হয় তারা থাকবে না হয় আমরা থাকবো। এদেরকে কোনভাবেই আর প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

তিনি প্রভাবশালী মহলকে বিভিন্ন ছদ্মাবরণে এসব খুনী গণদুশমনদের আশ্রয় না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, এ শহর নিঃশ্বাস নিতে চায়। এ শহরের মানুষের নিঃশ্বাস নিতে যারা বাঁধা সৃষ্টি করবে তারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নগরীর ১০টি ওয়ার্ডকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান সুজন।

তিনি লকডাউনকৃত এলাকাসমূহে যাতে কোন প্রকার মানবিক সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

লকডাউনকৃত এলাকায় কিভাবে দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালিত হবে তার একটি গাইডলাইনও জনগনকে প্রদান করার লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি লকডাউনকৃত ওয়ার্ডসমূহের জনগনকে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকার সবিনয় অনুরোধ জানান।

এছাড়া জনসাধারনের প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করার আহবান জানান।

তিনি লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগীতা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আবেদন জানান। তিনি জনগনকে যে কোন প্রয়োজনে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতা নেওয়ারও অনুরোধ জানান। এছাড়া নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজনও লকডাউনকৃত এলাকার অধিবাসী তারপরও নগরবাসীর যে কোন প্রয়োজনে তাঁর সাথেও যোগাযোগ করার আহবান জানান তিনি।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 1:47 pm
অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সহযোগিতা করতে জনগণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সচেষ্ট জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এমন কোনো অপরাধ নেই, যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী সেটা (অপরাধীকে) গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’ তবে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ বুধবার সকালে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএনপির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে ভঙ্গুর অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাওয়া গিয়েছিল, গত ছয় মাসে তাদের মনোবল ফিরছে। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী এখন পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে কাজ করছে। ভালো কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পুরস্কার, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সরকার ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করছে। তবে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রংপুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মিরপুরের শিশুধর্ষণ ও হত্যা থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে আলোচিত কিংবা আলোচনার বাইরে থাকা প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বিচার শেষ করতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা, তাদের মনোবল বাড়ানো এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার কাজ একসঙ্গে চলছে। অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব বাহিনীর জবাবদিহি ও কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) শিক্ষা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাঁর আদর্শে শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা রয়েছে। দেশে ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়, সাম্য ও শৃঙ্খলার পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।

মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে অপরাধী যে-ই হোক, যত ক্ষমতাশালীই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, মানুষ দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় এবং মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্র যেন আইনের হাত থেকে রেহাই না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

রংপুরের ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ ধরনের অপরাধী চক্র কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করে নির্মূল করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।

ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের করুণ মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 1:40 pm
ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের করুণ মৃত্যু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক নিহত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জিও নিউজের খবরে বলা হয়, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) গাইনোকোলজি ওয়ার্ডে আগুন লেগে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পিআইএমএস কর্মকর্তাদের মতে, ঘটনার সময় ওয়ার্ডটিতে ১৬ নবজাতক ছিল, যাদের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মাত্র একজনকে। উদ্ধারকারী সংস্থার সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ভেতরে একটি এয়ার কন্ডিশনারের কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়।

উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এখন শীতলীকরণ কার্যক্রম চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় আগুনের ঘটনায় ১৪ শিশু সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। জেলা প্রশাসন জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার অভিযানে ছয়টি ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়।

ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখবে ওই কমিটি।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 26 August, 2026, 10:15 am
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যুর পুণ্যময় দিন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ আজকের এই দিনে তিনি আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছর বয়সে একইদিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’র যুগ।

তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।

মহানবী (সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। ২৫ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ বা মহান রাব্বুর আলামিনের নৈকট্য লাভ করেন।

পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের (পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর) গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বুধবার সরকারি ছুটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা সভা, মিলাদ, দোয়া মাহফিলসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মঙ্গলবার বাদ মাগরিব থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী আয়োজন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। সিরাতুন্নবী (সা.) নামে জামায়াত এবং দলটির বিভিন্ন সংগঠন মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। আজ বাদ আসর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে মেহফিলে ইশক রাসুল (সা.) এবং নাত-সন্ধ্যার আয়োজন করেছে এনসিপি।