খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না:সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ সোমবার (১৫ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হুশিয়ারি দেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের করাল থাবা থেকে চট্টগ্রামের জনগনকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রামের ১২টি বেসরকারি হাসপাতালের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর তারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করছি করবো বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরবর্তীতে বারবার আলাপ আলোচনার পরও স্বাস্থ্য বিভাগ চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও মানছে না। হাসপাতাল মালিকরা তাদের রোগী বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে একের পর এক নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে।

এক্ষেত্রে তারা দীর্ঘদিনের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ বিহীন পরিত্যক্ত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা বলে প্রস্তুতি সম্পন্ন না করেই উদ্বোধনের নাটক মঞ্চায়িত করেছে। দেখা যাচ্ছে যে উদ্বোধনের পরেও সেটা সম্পূর্ণ চালু করা যায়নি। যেখানে নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে রোগী ভর্তির জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় সেখানে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি রোগীশুণ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, আয়ার অভাবে সেখানে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী ফিরিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামকে মৃত্যুপূরীতে পরিণত করছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক চিকিৎসা না দিলে লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুমকি দেওয়া হলেও তারা সেগুলো কর্ণপাতও করছে না। চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি করা হচ্ছে।

নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে এ অবস্থা দূরীকরণে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বারংবার অুননয় বিনয় অনুরোধ করা হলেও এখনো তারা পর্দার অন্তরালে থেকে তাদের অদৃশ্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে সম্পূর্ণভাবে বুঝা যাচ্ছে যে খুব কৌশলে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এ অবস্থা আর বরদাশত করা হবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করে সুজন বলেন, এখন থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে রোগী ভর্তি করতে বাধ্য করা হবে।

আমরা এর আগেও আবেদন জানিয়েছিলাম মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক চট্টগ্রামের সকল আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেডকে সেন্ট্রাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনার জন্য। আমাদের কাছে তথ্য আছে যে হাসপাতালের পিয়ন দাড়োয়ানদের নামে এসব বেডগুলো ভ‚য়া বুকিং করে রাখা হচ্ছে অথচ রোগীর প্রয়োজনে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন এগুলো কি আবাসিক হোটেলের সিট যে আগে থেকেই রোগীর নামে বুকিং করে রাখা হবে? আমরা স্পষ্টভাবেই বলে দিতে চাই এরকম প্রাতিষ্টানিক ভূয়া বুকিং আমরা মানি না। মানুষের চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত করে যারা হাসপাতালের যন্ত্রপাতি বাঁচাতে চায় তারা গনদুশমন। তাদের বিরুদ্ধে আজ থেকে আমাদের আপোষহীন সংগ্রাম শুরু। প্রতিদিন অস্বাভাবিক এসব রোগী মৃত্যুর খবর শুনতে শুনতে আমরা নির্বাক হয়ে পড়ছি। তার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের রোগীদের প্রতি এরকম নিস্পৃহতা আমাদের হতবাক করে তুলেছে। এসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি করতে আসা আত্নীয়-স্বজনদের নিকট আমাদের আবেদন থাকবে কোন হাসপাতাল যদি রোগী ভর্তি না করে অথবা আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেড দিতে না চায় সেক্ষেত্রে এসব হাসপাতালের আইসিইউ, সিসিইউ এবং এইচডিইউ বেড পরিদর্শন করার জন্য।

পরিদর্শন শেষে যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া না যায় তাহলে জোর করে সেখানে রোগী ভর্তি করানোর জন্য। কর্তৃপক্ষ যদি তারপরও রোগী ভর্তি কিংবা আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ বেড না দেয় এবং কোন কারণে রোগীর মৃত্যু হয় সেক্ষেত্রে কোন ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।

এক্ষেত্রে আইন আদালত সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিক উদ্যোগ ঐ রোগীর আত্নীয়-স্বজনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নৈরাজ্যের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করেছি। যারা রোগী সাধারনকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে পতিত হতে বাধ্য করছে এরা খুনী।

এসব খুনীদের আগামী তিন দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে থাকলে অবশ্যই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হবে। এসব খুনী এবং গণদুশমনদের নামের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই এদের নাম ও ছবি গণমাধ্যমসহ নগরীর উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করা হবে। চট্টগ্রাম শহরে হয় তারা থাকবে না হয় আমরা থাকবো। এদেরকে কোনভাবেই আর প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

তিনি প্রভাবশালী মহলকে বিভিন্ন ছদ্মাবরণে এসব খুনী গণদুশমনদের আশ্রয় না দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, এ শহর নিঃশ্বাস নিতে চায়। এ শহরের মানুষের নিঃশ্বাস নিতে যারা বাঁধা সৃষ্টি করবে তারা যত শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নগরীর ১০টি ওয়ার্ডকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে লকডাউনের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান সুজন।

তিনি লকডাউনকৃত এলাকাসমূহে যাতে কোন প্রকার মানবিক সমস্যা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান।

লকডাউনকৃত এলাকায় কিভাবে দৈনন্দিন কর্মকান্ড পরিচালিত হবে তার একটি গাইডলাইনও জনগনকে প্রদান করার লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি লকডাউনকৃত ওয়ার্ডসমূহের জনগনকে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকার সবিনয় অনুরোধ জানান।

এছাড়া জনসাধারনের প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করার আহবান জানান।

তিনি লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগীতা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আবেদন জানান। তিনি জনগনকে যে কোন প্রয়োজনে নাগরিক উদ্যোগের সহযোগিতা নেওয়ারও অনুরোধ জানান। এছাড়া নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজনও লকডাউনকৃত এলাকার অধিবাসী তারপরও নগরবাসীর যে কোন প্রয়োজনে তাঁর সাথেও যোগাযোগ করার আহবান জানান তিনি।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।