খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্যই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে:শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্যই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে:শাহাদাত

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ ৯ বার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এই ঘন ঘন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারন হচ্ছে কিছু আওয়ামী মারওয়ারী ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়া। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কিছু ব্যবসায়ীদের সামনে নিয়ে এসেছে।

এক সময়ে যাদের বাসায় চুলা জ্বলতে না তারা আওয়ামী লীগে যোগদিয়ে মনোপলি ব্যবসার মাধ্যমে জনগণের টাকা লুটপাঠ করছে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে যখন তখন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে। আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্য সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। লুটপাঠের বড় আখড়া কুইক রেন্টাল করে এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়া গুনতে হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। কুইক রেন্টালগুলো উৎপাদন না করলেও ভাড়া দিতে হচ্ছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ জীবনযাত্রার সকল খরচ বেড়ে গেছে। মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তাই এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানাচ্ছি।

সোমবার (২ মার্চ) নগরীর কাজীর দেউড়ী নুর আহমদ সড়কে বিদ্যুৎ ও পানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন।

বিএনপি কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন বলেন, বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে সাধারণ মানুষের। দেশীয় শিল্পকারখানা ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধের মাধ্যমে দেশকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর মাত্র ৮ মাসের মাথায় আবার বিদ্যুত ও পানির দাম বাড়ানো হলো। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দেশের শিল্পের শক্তি ধ্বংস করে দিবে।নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যসহ জীবনযাত্রার সকল খরচ বেড়ে যাবে।মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।

এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সরকার প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে। বার বার তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে সরকার সেই প্রতিহিংসার নীতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটালো। সরকারের ইচ্ছাই বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বিনা চিকিৎসায় শোচনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত চলছে। সরকার এজন্যই আদালতকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দরপতনের মধ্যেই দেশে বিদুৎ এর মূল্য বাড়ানোর কারন হলো লুঠপাট। দাম বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের পকেট থেকে বছরে দু’হাজার কোটি টাকা লুটে নিবে আওয়ামী সিন্ডিকেট। তিনি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানান । অন্যথায় এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে জনগণের অসুবিধা হবে না’ এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী যারা জনগণের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারি করেছে তাদের অসুবিধা হবে না কিন্তু জনগণেণর উপর বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ‘মরার উপর খাড়ার ঘাঁ মতো অবস্থা হয়েছে। বারবার গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গণতন্ত্রের নামে নির্বাচন আছে কিন্তু জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার নেই। দেশে আদালত আছে কিন্তু বিচার নাই। ব্যাংক আছে কিন্তু টাকা নেই। আওয়ামী লীগ এখন কেসিনো লীগে পরিণত হয়েছে। তিনি সরকারের এই অপকর্ম থেকে মুক্তি পেতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, এম এ হালিম, ইসহাক কাদের চৌধুরী, আলহাজ্ব সালাউদ্দিন, এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, হাজী মোহাম্মদ আলী, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আলী আব্বাস, মোস্তাক আহমেদ খান, অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, এনামুল হক এনাম, এম এ রহিম, ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, এস এম সাইফুল আলম, নুরুল আমিন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, কাজি বেলাল উদ্দিন, ইস্কান্দার মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, কাউন্সিলর আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, আজম খান, অ্যাডভোকেট আবু তাহের, মনজুর আলম চৌধুরী মঞ্জু, অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মাহবুব আলম, শিহাব উদ্দিন মোবিন, মনজুর উদ্দিন চৌধুরী, বদরুল খায়ের চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ রফিক, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, এস এম মামুন মিয়া, হামিদ হোসেন, ফাতেমা বাদশা, ইব্রাহিম বাচ্চু, মনজুর রহমান চৌধুরী, কাউন্সিলর আজম উদ্দিন, আব্দুল্লাাহ আল হারুন, মোহাম্মদ সেলিম চেয়ারম্যান, মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী টিপু, খোরশেদ আলম, হুমায়ুন কবির আনসার, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, মোঃ কামাল পাশা, কাজী সালাউদ্দিন, কুতুব উদ্দিন বাহার, শওকত আলী নূর, মাঈন উদ্দিন মাহমুদ, জাকের হোসেন,মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, জেলী চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, আরিফ মেহেদি,আলমগীর নূর, আবু মুসা, আলী আজম, আফতাবুর রহমান শাহীন, মোঃ শাহাবুদ্দিন, নূর হোসেন, আব্দুল কাদের জসিম, হাজী মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর,জামাল উদ্দিন, মঈনুল আলম ছোটন, জসীমউদ্দীন, ফিরোজ আহমেদ, নিজামুল হক তপন, শফিউজ্জামান,আসমত আলি বাহাদুর,মোঃ আজগর,সরোয়ার উদ্দিন সেলিম, মনজুর আলম তালুকদার, শহিদুল আলম শহীদ, মোহাম্মদ মহসিন, ইউসুফ সিকদার, রেজিয়া বেগম মুন্নি, সাহেদা বেগম, হাজী নুরুল হক, মনিরুজ্জামান টিটু, ইলিয়াছ চৌধুরী, এম ইলিয়াস আলী প্রমুখ।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।