খুঁজুন
, ,

পানিতে দাঁড়িয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 25 May, 2020, 1:46 pm
পানিতে দাঁড়িয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ

আজ ভয়াল ২৫ মে। ২০০৯ সালের এ দিনেই উপকূলীয় অঞ্চলে আইলার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়। আইলায় খুলনার উপকূলীয় কয়রার বাঁধ ভেসে যায়। কিন্তু ১১ বছরেও তা নির্মিত হয়নি। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে সব। এখন কয়রার মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ তৈরি করছেন। আইলার আঘাতের সেই দিবসেই এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ওপর পানির মধ্যে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসী ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে তারা আবার বাঁধ মেরামতের কাজে নেমে পড়েন।

দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়েই নামাজ শেষে সেমাই খেয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ তৈরি উৎসবে নামেন। দুপুরে তাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে খিচুড়ির। এভাবেই ঈদের দিন বাঁধ মেরামতের উৎসব পালন করছেন আইলা ও আম্পানে ক্ষতবিক্ষত হওয়া কয়রার মানুষ।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার আঘাতে কয়রার পাউবোর বেড়িবাঁধের ২৭টি পয়েন্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ২০ মে আম্পানের আঘাতে কয়রার বেড়িবাঁধের ২৪ পয়েন্ট ভেঙে আবারও লোনা পানিতে সয়লাব হয়।
আইলায় আঘাতের পর দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা, খাসিটানা, জোড়শিং, মাটিয়াভাঙা উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরি, গাববুনিয়া, গাজিপাড়া, কাটকাটা, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬নং কয়রা, ৪নং কয়রার পুরাতন লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকা, ঘাটাখালি, হরিণখোলা, মহারাজপুর ইউনিয়নের উত্তর মঠবাড়ি, দশালিয়া, লোকা, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিবাড়ি, নয়ানি, শেখেরটেক এলাকার বেড়িবাঁধ অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। গত ১১ বছর ধরে কয়রার মানুষ এসব বেড়িবাঁধ সংস্কার করার আন্দোলন করে। আইলার ৩ বছর পর ২০১২ সালে পবনা বাঁধ, হারেজখালি, পদ্মপুকুর, শিকারিবাড়ি, পাথরখালি বাঁধ মেরামত করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে কয়রার ৬টি ইউনিয়নের কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর তীরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত মাটি পড়েনি।

পাউবো সূত্র অনুযায়ী, আইলার পর ‘উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ-১’ এর আওতায় খুলনাসহ উপকূলীয় ৬২৫ কিলোমিটার বাঁধ পুনঃনির্মাণে বৃহৎ প্রকল্প ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়), ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনার দাকোপে ৩১ নং পোল্ডার এবং বটিয়াঘাটায় ৩০ ও ৩৪/২ পোল্ডারে বাঁধ পুনঃসংস্কার কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও এ অঞ্চলের বেড়িবাঁধ নিয়ে মানুষের আতঙ্ক কমেনি। ২০১৯ সালের ৪ মে ঘূর্ণিঝড় ফনী ও ১১ নভেম্বর বুলবুলের সময় উপকূলীয় কয়রা ও দাকোপে বড় আতঙ্ক ছিল বেড়িবাঁধ। আর গত ২০ মে আম্পানের সময় এ আতঙ্ক প্রবল হয়ে ওঠে। আম্পানের আঘাতে কয়রার বাঁধ ধ্বসে যায়। সমগ্র কয়রা এখন লোনা পানির বদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে।

কয়রার বাসিন্দা সিরাজুদ্দৌলা লিঙ্কন বলেন, আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়রায় আসেন এবং এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এলাকায় টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার। তারপর কয়রা এলাকায় বাঁধ নির্মাণে প্রতি বছরই অর্থ বরাদ্দ হয়। কিন্তু এ অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যয় হয় তা মনিটরিং করার কেউ ছিল না। ফলে বাঁধ নির্মাণের নামে কথিত ‘জরুরি কাজ’ অজুহাতে বাঁধের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট হয়। এখন যার খেসারত দিচ্ছে কয়রাবাসী।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, কয়রার মানুষ বাঁধ মেরামত না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবে না। কারণ বাঁধ আটকাতে না পারলে লোনা পানির মধ্যে বসবাস করা কঠিন হবে। কয়রার মানুষ এখন ত্রাণ চায় না, বাঁধ চায়। তাই সবাই মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করলেও তাদের পেটে দানা পানি প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসন সেটুকুর জোগান দিয়ে লোনাপানিতে বিধ্বস্ত মানুষগুলোকে উৎসাহ দিচ্ছেন।
দক্ষিণ বেদকাশীর বাসিন্দা আবু সাঈদ খান বলেন, আইলায় বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মানুষ বাঁধের ওপর আশ্রয় নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু আম্পানে ঘর বাড়ি, বাঁধ সবই। তাই মানুষের ন্যূনতম আশ্রয় নেওয়ার অবস্থাও নেই। বাধ্য হয়ে এখন মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে আগে বাঁধ নির্মাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাদা জলে নেমে পড়েছেন।

কয়রা উপজেলার ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল গফ্ফার ঢালি বলেন, বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনীহার কারণেই আজ কয়রার মানুষকে লোনা পানিতে ডুবতে হল। জোড়াতালির কাজ কোনও কাজেই আসেনি। কিন্তু অর্থের অপচয় হয়েছে।

উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, আইলার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আন্দোলন ধুলিষ্যাৎ করে দিলো আম্পান। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে এখন কয়রার মানুষকে এত ভোগান্তি পোহাতে হত না।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য হরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আইলার পর থেকে এ জনপদের মানুষ বেড়িবাঁধ নিয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেছেন। আম্পানের আঘাতে সেই যুদ্ধ আবার নতুনভাবে শুরু করতে হল।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়রাবাসীর বেড়িবাঁধ নিয়ে আন্দোলন ২৫ মে থেকে নতুন মাত্রায় যুক্ত হবে। এখন পর্যন্ত টেকসই বাঁধ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব কিছু ঠিকাদার দিয়ে করা কাজের মান ছিল নিম্মমানের। ফলে আম্পানের আঘাতে সেসব স্থানই আগে ভেঙেছে আর এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এখানে ভালো ফসল হয়, মাছ চাষ হয়। এখন কয়রার মানুষ বাঁধ চায়। ত্রাণের দরকার হবে না। প্রয়োজন টেকসই বাঁধ।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহ বলেন, আইলা বিধ্বস্ত কয়রা এখন আম্পানে বিধ্বস্ত হয়ে আরও মুখ থুবড়ে পড়েছে। কয়রার ৪টি ইউনিয়রে সমগ্র এলাকা লোনা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কয়রার মানুষ এখন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা ঈদের দিন বাঁধের ওপরই নামাজ আদায় করে সেমাই খেয়ে মেরামতে নেমে পড়েছেন। দুপুরে তাদের জন্য খিচুড়ির আয়োজন রয়েছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 6 October, 2026, 12:57 pm
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন তার সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনি নিজেও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তিনি ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে নিজের একটি গল্প ও ছোট ভাইয়ের লেখা দেখতে পেয়ে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছো, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শিশু হিসেবেই এসেছিলাম। একজন শিশু অতিথি হিসেবে আমি এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।

শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান, নাচ কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে এবং সেই গুণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সুযোগ।

নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, যারা গিটার, হারমোনিয়াম, বাঁশি কিংবা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, তারা যেন তা ভালোভাবে শেখে এবং সম্পূর্ণ করে। যারা গান বা নাচ পছন্দ করে, তাদেরও সেই প্রতিভা বিকাশে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইভাবে যারা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদের তা সুন্দরভাবে রপ্ত করার পরামর্শ দেন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু- ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমও নতুন করে চালু করার কথা জানান তিনি। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশুদের শুধু সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শী করে তুলতে হবে। একটি শিশুর শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের এসব সুযোগ করে দেয়া সম্ভব নয়। তাই শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকে এসব সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নেয়ার সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

শিশুদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের এলাকায় থাকা গাছের যত্ন নিতে হবে। পশুপাখির প্রতিও সদয় হতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমী কর্তৃক এসএসসি ২৬ কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 6 October, 2026, 10:53 am
গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমী কর্তৃক এসএসসি ২৬ কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল সংবর্ধনা

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ বন্দরনগরী জনপ্রিয় ও পশ্চিম খুলশী জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমীর উদ্যোগে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানন রবিবার (৪ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য সাজে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকিম বিল্লাহ”র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন রাজু। আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও নির্বাচন বিশ্লেষক এবং দৈনিক ডেইলি ক্যাপিটাল ভিউজ এর নির্বাহী সম্পাদক ও পার্বত্য উন্নয়ন এবং আধিবাসী পূর্নবাসন কমনওয়েলথ এর মহা পরিদর্শক সৈয়দ আবুল বরকত আকাশ।

অত্র একাডেমির সিনিয়র শিক্ষক রাসেল খানের সঞ্চালনায় বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফাতেমা। বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফয়সাল মুন,মঞ্জুর আহমেদ, মোসলেহ উদ্দীন, প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মাওঃ নুরুউদ্দীন সাহেব, মাওঃ মাহবুবর রহমান, সালাহউদ্দীন চৌধুরী সুমন, মাওঃ শাহ্ মোঃ শরীফ উল্লাহ সহ প্রমূখ।

একইসাথে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা,অভিভাবকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি ও বিশেষ আলোচক কৃতী শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে দেশের যোগ্য ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। নাগরিক অধিকার ও নির্বাচন বিশ্লেষক সৈয়দ আবুল বরকত আকাশ বলেন, নতুন প্রজন্ম ক্রমশ বেপরোয়া ও বিনয়হীন হয়ে পড়ছে তাই তিনি অভিভাবক ও শিক্ষকদের আহবান করেন যে স্ব স্ব ধর্ম বর্ণ অনুসারে ছাত্রছাত্রী তথা সন্তানদের আদব শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নম্র ভদ্র বিনয়ী ও নৈতিক চিত্তের মানুষ তৈরি করতে হলে অবশ্যই মানবিকতা এবং সৃষ্টির প্রতি মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি,ছাত্র শিক্ষকের প্রতি, শিক্ষক ছাত্রের প্রতি পরিবার সদস্যরা একে অপরের প্রডি শ্রদ্ধা সম্মান বিনয়ী আচরণ সহ আদবের চর্চা ও অনুশীলন এর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

পরিশেষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলতি ২০২৬ সালে গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেয় অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

চট্টগ্রাম এলএ শাখায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ জারীকারক লোকমান চৌধুরীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 5 October, 2026, 6:51 pm
চট্টগ্রাম এলএ শাখায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ জারীকারক লোকমান চৌধুরীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক ছাড়সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এলএ শাখার জারীকারক লোকমান চৌধুরী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভূমির মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের একটি প্রক্রিয়া গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, লোকমান চৌধুরী চেইনম্যান হিসেবে চাকরি শুরু করে পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে জারীকারক হন। জারীকারক হওয়ার পর থেকেই তার জীবনযাপন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এলএ শাখা থেকে যেসব এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের বরাদ্দ বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেসব এলাকায় তাকে প্রায়ই জারীকারকের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পটিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প ঘিরে অভিযোগ
প্রায় এক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে পটিয়ার গৌরালা, নাইখান ও জঙ্গলখাইন মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে জারীকারকের দায়িত্ব পান লোকমান চৌধুরী।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকদের কাছে নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার সময় তাদেরকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

পরবর্তীতে পটিয়ায় তার এক নিকটাত্মীয়ের একটি কক্ষে কথিতভাবে অফিসের মতো পরিবেশ তৈরি করে ভূমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি নিজের বাসায়ও তাদের ডেকে নিয়ে দ্রুত ক্ষতিপূরণের চেক ছাড় করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভূমির মালিকদের সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে অর্থ লেনদেনের চুক্তি করার অভিযোগও উঠেছে লোকমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের সঙ্গে সার্ভেয়ার সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার দাবি
এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে এলএ শাখার একটি শক্তিশালী সার্ভেয়ার সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে সিন্ডিকেটটি সক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং ভূমির মালিকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানান, লোকমান চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

‘আমি একা খাইনি’—লোকমান চৌধুরী
অভিযোগের বিষয়ে লোকমান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি একা টাকা নেননি এবং ঊর্ধ্বতন মহলকে ১০ শতাংশ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ভূমির মালিকদের সঙ্গে তিনি শুধু চুক্তি করেন। মাঠপর্যায়ের মূল কাজ করেন সার্ভেয়াররা। এ কাজে সার্ভেয়ার দেলোয়ার, অমিত মজুমদার, রাজীব ও সিরাজ জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

লোকমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার পর সার্ভেয়াররা তাদের কাছ থেকে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেন। তিনি নিজেকে ‘ছোট কর্মচারী’ দাবি করে বলেন, তার প্রাপ্তি ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ৮ ধারার নোটিশের ক্ষেত্রে নাজিরকে ‘ম্যানেজ’ করে নোটিশ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হয় এবং এ প্রক্রিয়াতেও অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে।

নাজিরের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে নাজির মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রথমবার শুনছেন এবং কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ তদন্তের দাবি
এলএ শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

পরবর্তী পর্বে: লোকমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ, তার কথিত সম্পদ অর্জনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারদের ভূমিকা এবং অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।