খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইপিজেডে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুজনের কৃতজ্ঞতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
ইপিজেডে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুজনের কৃতজ্ঞতা

সিইপিজেড এবং কেইপিজেডে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় সুজন বলেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধানতম খাত গার্মেন্টস শিল্প তথা সিইপিজেড এবং কেইপিজেডে কর্মরত লাখো শ্রমিক কর্মচারীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার জন্য গত ৯ই জুন সিইপিজেড এবং কেইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপকদ্বয়ের সাথে টেলিফোনে আলোচনা করে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। অনুরোধের প্রেক্ষিতে মহাব্যবস্থাপকদ্বয় উত্থাপিত প্রস্তাবনাসমূহ লিখিত আকারে বেপজা কর্র্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ই জুন ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার সহযোগিতা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এর সাথে টেলিফোনে কথা বলেন সুজন।

তিনি চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা ও দেশের বৃহত্তম রপ্তানি কেন্দ্র সচল এবং নিরাপদ রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার চালু করার পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

ড. আহমদ কায়কাউস এর সহযোগিতায় বেপজা কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইপিজেডসমূহে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের অনুমতি প্রদান করায় সুজন আজ এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, সিইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক মোঃ খুরশিদ আলম এবং কেইপিজেড এর মহাব্যবস্থাপক মসিউদ্দিন বিন মেজবাহসহ সকল কর্মকতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে সিটি কর্পোরেশন, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুততার সাথে আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তাদের রোগীসমূহ ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি চট্টগ্রামের কতিপয় চিকিৎসা বেনিয়া সিন্ডিকেটের একটি ভাগাড় মাত্র। শুধুমাত্র বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ রক্ষার জন্য বিদ্যুত ও পানির সংযোগ বিহীন পরিত্যক্ত হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা করে সিন্ডিকেটটি। পরিশেষে তাদের সে চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এর আগে ঐ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলার কথা বলে চট্টগ্রামের করোনা চিকিৎসাকে ভূলপথে পরিচালিত করেছে রোগ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা। তাদের কারণে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় নির্মমভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। অথচ আমরা বার বার দাবী জানিয়েছিলাম ঐ পরিত্যক্ত হাসপাতালটিতে কোনভাবেই করোনা চিকিৎসা সম্ভব নয়। তারপরও অনেকটা গায়ের জোরে ঐ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে উদ্বোধনের নাটক মঞ্চায়িত করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে আমাদের আশংকা সর্বাগ্রে সত্যি বলে গণ্য হয়েছে। অবহেলা, অনাদর আর অমানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে এ হাসপাতালটি। একটি হাসপাতালের নূণ্যতম সেবাও দিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ময়লা দূর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গিয়ে মৃত্যুর আগেই যেন মৃত্যুপূরীতে প্রবেশ করছে রোগীসাধারণ। চট্টগ্রামের জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে এ ধরণের অবহেলা ও তামাশা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা আরো অভিযোগ পেয়েছি দিনের পর দিন হাসপাতালটি চালু করার জন্য নগরীর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকেও মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেছে ঐ সিন্ডিকেটটি। এরপরও হাসপাতালটি পরিপূর্ণভাবে চালু করতে না পারার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবী করেন তিনি।

তিনি অবিলম্বে ঐ হাসপাতালটি বন্ধ করে যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কোভিড চিকিৎসায় সক্ষম কোন হাসপাতালে স্থানান্তর করে মানুষের জীবন রক্ষায় সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে সবচেয়ে বড়ো সংকট হচ্ছে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা। নমুনা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ দিন পার হওয়ার পর রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন সংগ্রহ করা নমুনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষাবিহীন অবস্থায় ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে করে পরীক্ষাগারে নমুনার জট সৃষ্টি হচ্ছে আবার অনেক নমুনা নষ্টও হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নমুনা হারিয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে রোগীর কাছ থেকে। চট্টগ্রামে বর্তমানে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মাত্র পাঁচটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে যা চট্টগ্রামের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। সরকার দুইটি বেসরকারি হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার অনুমোদন প্রদান করলেও শুধুমাত্র ইমপেরিয়াল হাসপাতাল নমুনা পরীক্ষা করছে। অন্যদিকে শেভরণ হাসপাতাল অনুমতি পাওয়ার দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো নমুনা পরীক্ষা শুরু করতে পারেনি। অথচ বিচ্ছিন্নভাবে নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করা হচ্ছে নগরজুড়ে। এতে করে নমুনা সংগ্রহের অন্যতম উপাদান কিটেরও অপচয় হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে নমুনাজট আরও বাড়বে বলে শংকা প্রকাশ করেন তিনি।

তাছাড়া নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়ে ফলাফল আসতে দেরী হওয়ার ফলে ঐ রোগী যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার উপসর্গ থাকলেও নমুনা পরীক্ষার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই বাসায় বসে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন এতে করে সংক্রমণের মাত্রা বাড়ার আশংকাও অমূলক নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কাল বিলম্ব না করে অতিসত্ত্বর চট্টগ্রামে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিনীত আহবান জানান তিনি।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, শিল্পগ্রুপসহ বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের প্রতি তিনি কড়জোড়ে অনুরোধ জানান চট্টগ্রামবাসীর এ দূর্যোগে আপনারা মানবতার হাত প্রসারিত করুন।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, শিল্পগ্রুপসহ, বিভিন্ন প্রতিষ্টান এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনা চিকিৎসার জন্য মানবতার হাত প্রসারিত করেছেন সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সামর্থ্যবান অন্যান্য ব্যবসায়ী এবং শিল্পগ্রুপকেও তাদের পদাংক অনুসরণ করার সবিনয় আহবান জানান সুজন।

সুজন বলেন, বিজিএমইএ বাংলাদেশের রপ্তানিমূখী শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী অন্যতম সংগঠন। সরকার দেশের রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ইতিপূর্বে দেশের সকল গার্মেন্টস প্রতিষ্টান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে সকল গার্মেন্টস প্রতিষ্টানকে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্টানে শ্রমিক কর্মচারীদের প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার সময় জীবানুমুক্ত করতে হবে। কাজ করার সময় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। অসুস্থ শ্রমিক কর্মচারীকে প্রতিষ্টানের নিয়ম মাফিক ছুটি প্রদান করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে তারা বিদেশী ক্রেতার অর্ডার বাতিল হওয়ার অজুহাতে গার্মেন্টস প্রতিষ্টান চালু করলেও হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই শ্রমিক ছাটাইয়ের ঘোষণা দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে চাপে ফেলতে চায়। যে মূহুর্তে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে ঠিক সে মূহুর্তে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে না ভেবে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়াটা গভীর উদ্বেগের বিষয়। অথচ সরকারের প্রণোদনা ঘোষণার প্রথম কাতারেই ছিল গার্মেন্টস শিল্পপ্রতিষ্টানগুলো। গার্মেন্টস মালিকরা প্রায়শই তাদের অর্ডার নেই, কাজ নেই বলে হা-হুতাশ করলেও দেখা যায় যে তাদের বিত্ত বৈভবের কোন কমতি নেই। তারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম বানিয়ে বছরের অধিকাংশ সময় আরাম আয়েশে ব্যয় করলেও শ্রমিকদের স্বার্থের বিষয়ে চিন্তা করার তাদের কোন সময়ই নেই। এমনকি করোনাকালীন এই পরিস্থিতিতেও তাদের আয়ের প্রধাণতম হাতিয়ার শ্রমিক কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে তারা বড়ই উদাসীন।

সুজন দেশের প্রতিটি ইপিজেডসহ গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে বিজিএমইএ’র উদ্যোগে তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব এবং ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের দাবী জানান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।